প্রচ্ছদ রাজনীতি *ওবায়দুল কাদেরের কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে*

*ওবায়দুল কাদেরের কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে*

223
*ওবায়দুল কাদেরের কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে*

*আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলের দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। দল চালানোর ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় একচ্ছত্র কর্তৃত্বের অধিকারী তিনি। আওয়ামী লীগের অনেকেই মনে করেন যে, তার কারণেই দলের হেভিওয়েট সিনিয়র নেতারা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। শেখ হাসিনার বিশ্বাস এবং আস্থা অর্জন করার কারণে দলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তার একক কর্তৃত্বের কথা শোনা যায়। এমনকি তার সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন সময়ে তিনি অনেকের সাথে দুর্ব্যবহার করেছেন। একজন এমপির গায়ে হাত তোলারও অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ওবায়দুল কাদেরের কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। নতুন কমিটি হওয়ার পর কাদেরের একক কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করছেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতারা। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের ভেতরে নানারকম গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে।*

*সম্প্রতি কাদেরের কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জ হয়েছে প্রকাশ্যে। আওয়ামী লীগ সভাপতির দপ্তর ধানমন্ডি-৩ এর দলীয় কার্যালয়ে ওবায়দুল কাদের দলীয় কর্মীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম কয়েকজন দলীয় কর্মীকে ভেতরে নিয়ে আসেন এবং তাদের সাথে বৈঠকে করছিলেন। ওবায়দুল কাদের এসে যখন কর্মীদের দেখেন, ততখন তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। কর্মীরা কেন তার অনুমতি ছাড়া ভেতরে প্রবেশ করেছে সেই ব্যাখ্যা চান কাদের। তিনি বলেন যে, ‘আমি দলের সাধারণ সম্পাদক। আমার নির্দেশ কেন অমান্য করা হলো?’ ওবাউদুল কাদেরের এই চেঁচামেচিতে আর নীরব থাকতে পারেননি বাহাউদ্দিন নাছিম। ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বলেন যে, ‘যারা এসেছে তারা দলের কর্মী, রাস্তার লোক নয়। কর্মীরা তো কার্যালয়ে আসবেই। তাদের সাথে আমার কথা বলতেই হবে।’*

*সূত্রমতে, বাহাউদ্দিন নাছিম এটাও বলেছেন যে, ‘আপনার রুমে তো তারা বসেনি। তাহলে আপনার অসুবিধা কোথায়?’ এই পর্যায়ে ওবায়দুল কাদের আরও উত্তেজিত হয়ে যান। তিনি বলেন যে, ‘আমার নির্দেশ অমান্য করা হলো। আমি এটা নেত্রীকে বলবো।’ বাহাউদ্দিন নাছিমও কম যান না। কাদেরের কথার জবাবে তিনি বলেন যে, নেত্রী শুধু আপনার না, আমাদেরও নেত্রী। আপনি তাকে বলতে পারেন। আমরাও বলবো।’ এই ঘটনাটি সেদিন প্রত্যক্ষ করেছেন আওয়ামী লীগের অনেক কর্মীরা, যারা কাদেরের রাগ-মেজাজ ইত্যাদি মাথা পেতে নিচ্ছিলেন।*

*সাম্প্রতিক সময়ে শুধু বাহাউদ্দিন নাছিম নয়, আরও কয়েকজন নেতাও ওবায়দুল কাদেরের একক কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। ওবায়দুল কাদের যে নিয়মিত ব্রিফিং করছেন সেই ব্রিফিংয়েও তার পাশে থাকছেন না নেতারা। এবারের কাউন্সিলের পর দলের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ দীর্ঘদিন ধরেই ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গছাড়া। দলের প্রেসিডিয়ামের সদস্যরাও ওবায়দুল কাদের যখন প্রেস ব্রিফিং করেন, তখন থাকছেন না। একমাত্র বেগম মতিয়া চৌধুরী ছাড়া অন্য কোন প্রেসিডিয়াম সদস্য কাদেরের ব্রিফিংয়ে থাকছেন না।*

*আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতা অভিযোগ করছেন যে, দ্বিতীয় দফায় সাধারণ সম্পাদক হবার পরে ওবায়দুল কাদের একক ক্ষমতা আরও বেশি প্রয়োগ করছেন এবং সিনিয়র নেতাদের প্রায় আড়াল করে ফেলেছেন। অবশ্য প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মধ্যে ইদানীং বেগম মতিয়া চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনগুলোতে উপস্থিত হচ্ছেন। যদিও বলা হচ্ছে যে, বেগম মতিয়া চৌধুরীকে ডাকা হচ্ছে না। না ডাকার পরেও যেহেতু মতিয়া চৌধুরী দলকে ভালোবাসেন, তাই নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে আসছেন তিনি।*

*তবে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই মনে করেন যে, আওয়ামী লীগে এককভাবে ওবায়দুল কাদেরের সংবাদ সম্মেলনগুলো দলে একঘেয়েমির সৃষ্টি করছে। তার বদলে কখনো মাহবুবুল আলম হানিফ, কখনো ড. হাছান মাহমুদ বা কখনো প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বা অন্য কাউকে দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা উচিৎ। কারও কারও মতে যখন যে ইস্যু আসবে, তখন সেই ইস্যুতে যারা কাজ করছেন- তাদের সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখা উচিৎ। তবে আস্তে আস্তে দলের মধ্যে শেখ হাসিনার পরে ওবায়দুল কাদের যে সর্বেসর্বা হয়ে উঠেছিলেন- তা চ্যালেঞ্জ করছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অনেক নেতারা।*