প্রচ্ছদ স্বাস্থ্য *দেশে নতুন দুজন করোনা রোগী শনাক্ত*

*দেশে নতুন দুজন করোনা রোগী শনাক্ত*

28
*দেশে নতুন দুজন করোনা রোগী শনাক্ত*

*দেশে নতুন করে আরো দুজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক। আজ শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তথ্য জানান। মন্ত্রী জানান, আক্রান্তদের দুজনের মধ্যে একজন ইতালি ও একজন জার্মানি থেকে এসেছেন।*
*এর আগে গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে তিনজনের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। এদের মধ্যে দুজন ছিলেন ইতালিফেরত। অন্যজন ইতালিফেরত একজনের পরিবারের সদস্য।*

*শুক্রবার আইইডিসিআরের পরিচালক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, আক্রান্ত তিন ব্যক্তির মধ্যে দুইজন সুস্থ হয়েছেন। আর আজ শনিবার সেব্রিনা ফ্লোরা সংবাদ সম্মেলনে জানান যে, আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে শেষজনও পুরোপুরি সুস্থ হয়েছেন। এরপর ২৪ ঘন্টা না পেরোতেই দুজন করোনা আক্রান্তের খবর পাওয়া গেল।*

*উল্লেখ্য যে, সারা বাংলাদেশে ২৬ টি জেলায় প্রায় ১২০০ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশ সারা বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ সব অন অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে। আগামী কাল রোববার থেকে যুক্তরাজ্য ছাড়া বাকি সব ইউরোপীয় দেশ থেকে বাংলাদেশগামী ফ্লাইটও নিহশিদ্ধ ঘোষণা করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। ভারত থেকেও বাংলাদেশ প্রবেশ বন্ধ করা হবে বলে আজ তিনি আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন।*

*উন্নত দেশে করোনা কেন ভয়াবহ!*
*এখন সবার চিন্তা করোনা নিয়ে। আর উন্নত দেশগুলো কেন করোনায় নাকানি চুবানি খাচ্ছে! বাংলাদেশের মত আপাতদৃষ্টে অনুন্নত বা স্বল্পোন্নত দেশের চেয়ে উন্নত দেশগুলোতে করোনা ভাইরাসের আগ্রাসন অনেক বেশি। কিন্তু কেন এসব উন্নত দেশের মানুষ এমন করে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে তা নিয়ে নানা হিসেব নিকেশ আর চিন্তা কাজ করছে। কিন্তু কিছুতেই হিসেব মিলছে না। এই হিসাব পরিষ্কার মিলতে আরও কিছু সময় নেবে হয়তো কিন্তু কিছু কারণ যে আছে তা সহজেই অনুমান করা যায়।*

*সব হিসেব নিকেশ করার আগে আমরা দেখে নিতে পারি উন্নত দেশগুলো যেখানে করোনার আক্রমণ অনেক বেশি সেখানে চায়নিজ অরিজিন জনসংখ্যা কেমন। যারা নাড়ির টানে আর ব্যবসার জন্য খুব ঘন ঘন চীনে যাতায়াত করে থাকতে পারেন। যার সূত্র ধরে চীন থেকে অন্যসব উন্নত দেশে এই করোনা ভাইরাস ছড়াচ্ছে।*
*জাপানিজ একজন সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপকের সাথে এ নিয়ে আলাপচারিতায় তিনি কিছু চমকপ্রদ ক্লু দিলেন যা আমাদের অনেকের কাছেই গ্রহণযোগ্য মনে হতে পারে। আমরা সবাই জানি যে, আমেরিকা, কানাডা, ইতালির মত উন্নত দেশে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা অনেক বেশি। যারা অবৈধভাবে এসব দেশে যান তাঁদের বিরাট একটা অংশ একটা গাদাগাদি করে থাকেন, কম মজুরীতে ক্যাশ টাকায় কাজ করেন।*

*তাই তাঁদের ব্যবহারকারীগণও তাঁদের ধরিয়ে দেন না। অপরাধ না করলে এসব দেশে পুলিশেও অবৈধ অভিবাসীদের ধরেন না, কারণ তাঁরা এত সস্তায় শ্রম বিক্রি করে যে আখেরে সেই দেশেরই লাভ হয়। এরা রাতদিন শুধু বাঁচার জন্য কাজ করে ধরাপড়ার ভয়ে সন্ত্রস্ত থাকে। তথ্য প্রবাহের সুযোগও তাঁদের সীমিত। তাই তাঁদের ভিতর সচেতনতা তুলনামূলক কম। এদের কেউ করোনার মত কোন ভাইরাসে আক্রান্ত হলে বা এরকম কোন লক্ষণ দেখা দিলেও চাকরী হারানোর ভয়ে তা লুকিয়ে রাখেন, কাজে যান। ডাক্তার দেখাতে পারেন না; ফলে তা খুব দ্রুত অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে।*

*তিনি আরেকটি কারণের কথা বলেন। উন্নত দেশে স্বাস্থ্য বীমা খুব ব্যয়বহুল। তার দরিদ্র শ্রেণির মানুষের একটা বড় অংশ নিজেদের স্বাস্থ্য বীমার বাইরে রেখেন। আমেরিকায় একজন ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট পাওয়া খুব সহজ নয়। অনেক সময় তা ৩/৪ দিন বা ৭/১০ দিন লেগে যায়। ফলে যখন তাঁরা ডাক্তারের দেখা পান, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। আক্রান্তের অবস্থা খুব খারাপ অবস্থায় চলে যায়। এসব কারণে আমেরিকা সে দেশে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করেছে যাতে তাঁদের স্থানীয় সরকারের একটা বিরাট তহবিল জন কল্যাণে মানে গরিবদের, যাঁদের স্বাস্থ্য বীমা নেই তাঁদের জন্য খরচ করা যায়।*

*অনলাইন থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায় যে, ২০১০ সালের আদম শুমারি অনুযায়ী ৩.৮ মিলিয়ন চায়নিজ বৈধভাবে আমেরিকায় বসবাস করেন। অন্য একটা হিসেব বলছে যে, আমেরিকার মোট জনসংখ্যার অর্থাৎ ৩২৭.২ মিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে ১.৫ ভাগ জনসংখ্যা চাইনিজ অরিজিন। অন্যদিকে অবৈধভাবে কতজন চায়নিজ আমেরিকায় আছেন তার হিসেব এই পরিসংখ্যানে নেই। একইভাবে ২০১৯ সালের এক তথ্য মতে কানাডায় চাইনিজ অরিজিন জনসংখ্যা আছে প্রায় ৩ মিলিয়ন। আর ইতালিতে বৈধভাবে বসবাস করেন প্রায় ৩ লাখের কিছু বেশি চায়নিজ। দক্ষিণ কোরিয়াতেও সরকারী হিসেবে মানে বৈধভাবে ১০ লাখের বেশি চায়নিজ বসবাস করেন।*

*সব শেষে আসি ইরানের কথা নিয়ে। ইরানের সাথে আমেরিকার সম্পর্ক খুব খারাপ, আছে অনেক নিষেধাজ্ঞা। তাই ইরানীরা অনেক বেশি চায়না নির্ভর হতে বাধ্য হন। এ কারণেই ইরানে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা অস্বাভাবিক ভাবেই দৃশ্যমান হয়।*
*১৪ মার্চ তারিখের দুপুরে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায় যে, করোনায় মৃতের সংখ্যা 5,438, আক্রান্তের সংখ্যা ১৪৫,৮১৬ জন, আর ভালো হয়ে বাসায় ফিরে গেছেন ৭২.৫৫০ জন। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো নতুন করে করোনায় চীনের চেয়ে আমেরিকায় আক্রান্ত হয়েছে অনেক বেশি সংখ্যক মানুষ। তবে করোনায় আক্রান্ত বা মৃতের যে হিসাব আমরা মিডিয়ায় পাচ্ছি তার চেয়ে আসলে মৃতের বা আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে তা প্রায় সবাই বিশ্বাস করেন, কিন্তু মুখ ফুটে বলতে পারেন না।*

*বাংলাদেশ বা ভারতের মত দেশে করোনার প্রকোপ খুব বেশি না হবার কথা। কারণ এসব দেশ অনুন্নত বা স্বল্পোন্নত হলেও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা সরকারী হাসপাতালে পাওয়া যায়। সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও সেবা পাওয়া নিয়ে বিতর্ক নেই। অনেকের কাছে বাংলাদেশের মানুষ অনেক খারাপ হলেও দুর্যোগ কালীন সময়ে বাংলাদেশের মানুষ খুব মহৎ হয়ে যান। তাঁরা আসলে যে ভালো মানুষ তা তখন প্রকাশ পায়। তাঁদের ভিতরের মানুষটা জেগে ওঠে সেটা আমরা বহুবার দেখেছি, দুর্যোগ প্রবণ এই বাংলাদেশে। সাভারের রানা প্লাজায় দুর্ঘটনা কিংবা অনেক আগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল দুর্ঘটনা আর সারা বছর দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া টর্নেডো, ঘূর্ণিঝড় বা বন্যায় সাধারণ মানুষের সাহায্য সহযোগিতা এর প্রমাণ। তাই আশা করা যায় যে, উন্নত দেশের মত আমাদের এই অঞ্চলের দেশে করোনা ভয়াবহ রূপ নিতে পারবে না।*