প্রচ্ছদ রাজনীতি *আওয়ামী লীগে তরুণ নেতৃত্বে এগিয়ে কে?*

*আওয়ামী লীগে তরুণ নেতৃত্বে এগিয়ে কে?*

43
*আওয়ামী লীগে তরুণ নেতৃত্বে এগিয়ে কে?*

*গত টানা ১১ বছরের বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে। আর এই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের কারণে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক দিকে মনোনিবেশ করতে পারেনি। তবে এই সময়কালে আওয়ামী লীগের মধ্যে অনেক সম্ভাবনাময় তরুণ নেতৃত্ব বেরিয়ে এসেছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় আওয়ামী লীগে তরুণ নেতৃত্বকে বিকশিত করার পক্ষে। তরুণদেরকে নানারকম সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তাদেরকে জাতীয় রাজনীতিতে উন্মুক্ত করে দেবার নীতিতে তিনি সমসময় বিশ্বাস করেন। তারুণ্যের প্রতি তার আস্থা সবসময়ই ছিল।*

*১৯৮১ সালে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ে তরুণদেরকে নেতৃত্বে এনেছেন এবং তাদেরকে সুযোগ দিয়েছেন। অনেকেই সুযোগ গ্রহণ করতে পেরেছেন। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে পা রাখতে পেরেছেন। জাতীয় রাজনীতিতেও সুনাম অর্জন করতে পেরেছেন। আবার অনেকে সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে না পেরে ব্যর্থ হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দল এবং সরকারকে আলাদা করছেন। দল আর সরকারকে আলাদা করার কারণে তিনি তরুণ নেতৃত্বকে একদিকে যেমন দলে সুযোগ দিচ্ছেন, অন্যদিকে তাদেরকে সরকারের দায়িত্ব দিয়েও দেখছেন যে তারা কতটুকু সক্ষমতা দেখাতে পারে।*

*সাম্প্রতিক সময়ে সরকার এবং দলের দায়িত্বে কয়েকজন তরুণ নেতা রাজনীতিতে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। সাধারণ মানুষের মাঝে তাদের নিয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। এদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত রাজনীতিতে কারা ভালো করবেন সেটাই দেখার বিষয়। যে সমস্ত তরুণরা রাজনীতি এবং সরকারে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন-*

*১. বিপ্লব বড়ুয়া: বিপ্লব বড়ুয়া এবার কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সৎ, পরিচ্ছন্ন এবং উদীয়মান তরুণ হিসেবে বিপ্লব বড়ুয়া ইতিমধ্যেই সুনাম কুড়িয়েছেন। বিশেষ করে দপ্তর সম্পাদক এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর দুটো দায়িত্বে তাকে প্রচুর মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হয়। এই যোগাযোগ রাখার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত বিপ্লব বড়ুয়া খেই হারিয়ে ফেলেননি। বরং সকলেই তাকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় নেতা হিসেবে মনে করছেন।*

*২. খালিদ মাহমুদ চৌধুরী: খালিদ মাহমুদ চৌধুরী গত মেয়াদে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। কিন্তু সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে তিনি যত না আলোচিত হয়েছেন, এবার নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি তার চেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছেন। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি ইতিমধ্যেই নিজেকে সফল মন্ত্রী হিসেবে প্রমাণ করেছেন। বিশেষ করে, নদীর অবৈধ উচ্ছেদ অভিযানে তার ভূমিকা বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে। রাজনীতিতে যেমন তার একটা নীরবে নিভৃতে কাজ করার সুনাম রয়েছে, তেমনি সরকার পরিচালনায় তিনি নীরবে পরিচ্ছন্নভাবে কোনোরকম কালিমা ছাড়াই কাজ করে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।*

*৩. এনামুল হক শামীম: এনামুল হক শামীম ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত মেয়াদে তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংঠনিক সম্পাদক। কিন্তু এবার তিনি কেন্দ্রীয় কমিটিতে নেই। পানিসম্পদ উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন। এনামুল হক শামীমকে মনে করা হয়, সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে যতটা দক্ষতা বা যতটা সরব ছিলেন উপমন্ত্রী হিসেবে ঠিক ততটাই নীরব। একটা বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যে, এনামুল হক শামীম রাজনীতির মাঠেই মানানসই। সরকারের উপমন্ত্রী হিসেবে তাকে খুব একটা পরীক্ষা দিতে হয়নি, পরীক্ষা দিতে হলে বোঝা যেত যে সরকারের জন্য তিনি কতটুকু উপকারী।*

*৪. মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল: মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল হলো একেবারে শেখ হাসিনার আবিষ্কার। প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলেকে প্রায় নিজ হাতে তিনি গড়ে তুলছেন। গত মেয়াদে তাকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এই মেয়াদে তিনি সংগঠনের দায়িত্ব পাননি, কিন্তু উপমন্ত্রী হিসেবে ডা. দীপু মনির সাথে কাজ করছেন। উপমন্ত্রী হলেও তিনি ইতিমধ্যেই আলো ছড়িয়েছেন। বেশকিছু ব্যাপারে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মহিউদ্দিন চৌধুরীর সন্তান হিসেবে তার ভবিষ্যত সম্ভাবনা উজ্জ্বল।
রাজনীতিতে অনেক তরুণরাই আসে, কিন্তু শেষপর্যন্ত তারা টিকে থাকতে পারে না। আওয়ামী লীগের যে তরুণদের নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেই তরুণরাও শেষ পর্যন্ত কতদূর যাবেন বা আদৌ টিকে থাকতে পারবেন কিনা তার উত্তর দেবে সময়।*