প্রচ্ছদ রাজনীতি *শেখ হাসিনার নতুন টি’ম কেমন কাজ করছে?*

*শেখ হাসিনার নতুন টি’ম কেমন কাজ করছে?*

150
*শেখ হাসিনার নতুন টিম কেমন কাজ করছে?*

*টানা তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্বগ্রহণ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারে তার টিম পরিবর্তন করেছেন। একাধিক নতুন ব্যক্তি এই টিমে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে যোগ দিয়েছেন ড. আহমেদ কায়কাউস। প্রধানমন্ত্রীর নতুন সচিবও এসেছেন। তোফাজ্জল হোসেন মিয়া প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব থেকে সচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিবও বদল হয়েছে। নতুন একান্ত সচিবের দায়িত্বগ্রহণ করেছেন মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন।*

*এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত স্টাফ সহকারি একান্ত সচিব পদে এসেছেন হাফিজুর রহমান লিকু। আর প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মহাপরিচালক নিলুফার আহমেদ এবং আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন ডা. এবিএম আবদুল্লাহকে। এই নতুন টিম নিয়েই গত তিন মাস ধরে কাজ করছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে, একেবারে বদলে যাওয়া প্রধানমন্ত্রীর এই নতুন টিম কেমন কাজ করছে।*

*সাধারণত বাংলাদেশে দেখা যায় যে, একজন যখন প্রধানমন্ত্রী হন, তখন তার টিম তিনি পরিবর্তন করেন না। দীর্ঘসিন ধরে একই ব্যক্তিরা বিভিন্ন দায়িত্বে থাকে। ফলে সেই ব্যক্তিরা সরকারের চেয়েও ক্ষমতাবান হয়ে ওঠেন। প্রধানমন্ত্রীর সাহচর্যের কারণে তারা যে সিদ্ধান্তগুলো দেন, সেগুলো অন্য মন্ত্রণালয় বা অন্যান্যদের জন্য বাধ্যবাধকতামূলক হয়ে যায়। আমরা দেখেছি যে, বিএনপি আমলে ড. কামাল সিদ্দিকী খালেদা জিয়ার সব আমলেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মোসাদ্দেক আলী ফালু বেগম খালেদা জিয়ার দুই আমলেই একই রকম কর্তৃত্ববান ছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এদিক দিয়ে সম্পূর্ণ বিপরীত।*

*৯৬ সালে শেখ হাসিনা তার যে ব্যক্তিগত টিম গঠন করেছিলেন, সেই টিমের কেউই ২০০৮’এ দায়িত্ব পাননি। আবার ২০০৮ থেকে তিনি যাদেরকে নিয়ে কাজ করেছেন তাদেরকেও মেয়াদে মেয়াদে পরিবর্তন করেছেন।*
*এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হলো অন্যদেরকে সুযোগ দেওয়া এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘিরে যেন কোটারি স্বার্থ বা সিন্ডিকেট তৈরি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা। নতুন টিমের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী আগের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছেন।*

*সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর এই নতুন টিমটি ইতিমধ্যেই সরকারের মধ্যে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে, প্রধানমন্ত্রীকে তারা সত্যিকার অর্থেই সহায়তা দিচ্ছেন, এমন খবর পাওয়া যাচ্ছে। এই নতুন টিমের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো, তারা কাজের দিকেই বেশি নজর দিচ্ছেন। কাজ ছাড়া অন্যান্য জায়গায় খবরদারি করা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজে নাক গলানো ইত্যাদির দিকে তাদের মনোযোগ একেবারেই কম। অতীতে যেমন দেখা গিয়েছিল যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজে খবরদারি করতো, বিভিন্ন ব্যবসা, টেন্ডার বা অন্যান্য বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে টেলিফোন করতো। গত তিন মাসে প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান টিমের কাউকে এ ধরনের তৎপরতায় দেখা যায়নি। বরং অনেক গোছানোভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং গণভবনে কাজ করছেন তারা।*

*অতীতে যেমন দেখা যেত যে, অনেক ব্যক্তিগত স্টাফ ফোন ধরতেন না এবং তাদের সমস্যার কথাও বলতে পারতেন না। এখন সেই পরিস্থিতিটাও বদলে গেছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, প্রধামন্ত্রীর কার্যালয়ে যেমন গতি এসেছে, তেমনি গণভবনেও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্য এসেছে। যারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চান, তারা সহজে দেখা করতে পারছেন (যদিও করোনাভাইরাসের কারণে এখন দেখা করা সীমিত)। এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকাণ্ডে একটা পেশাদারিত্ব এবং দক্ষতার ছাপ চোখে পড়ছে। এটাই হলো শেখ হাসিনার ম্যাজিক। তিনি নিজে যেমন দক্ষ, তেমনি কাউকে দিয়ে কীভাবে দক্ষতার সাথে কাজ করিয়ে নিতে হয়, সেটাও তিনি জানেন। শেখ হাসিনা কারও উপরে অতিমাত্রায় নির্ভরশীল নন। এই জন্যেই তিনি জনবিচ্ছিন্ন হন না। এই টিম গঠন করে তিনি সেটাই প্রমাণ করেছেন।*