প্রচ্ছদ রাজনীতি *মু’চলেকা দিয়ে মু’ক্তি চান না খালেদা জিয়া*

*মু’চলেকা দিয়ে মু’ক্তি চান না খালেদা জিয়া*

32
*মুচলেকা দিয়ে মুক্তি চান না খালেদা জিয়া*

*বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে আবার ধুম্রজাল শুরু হয়েছে। পারিবারিক কোন্দলের জেরে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রক্রিয়া আবারও ঝুলে যাচ্ছে বলে বিএনপির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে তাঁর ভাই শামীম এস্কান্দার দুটি পৃথক পৃথক আবেদন করেছিলেন। এই আবেদনগুলোতে মানবিক দিক বিবেচনায় মুক্তির কথা বলা হয়েছিল এবং বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, যেকোন শর্তে বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি নিতে প্রস্তুত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে করা এই আবেদনটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল এবং মন্ত্রণালয়ের আইন শাখায় পর্যালোনার জন্য দেয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ে যে আবেদনটি পাঠানো হয়েছিল, সেটাও আইন শাখায় দেয়া হয়েছে এর আইনগত দিক পর্যালোচনার জন্য।*

*কিন্তু সরকারের একটি সূত্র বলেছে যে, আইন মন্ত্রণালয় থেকে মৌখিকভাবে বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারকে জানানো হয়েছে যে, বেগম খালেদা জিয়া যদি ক্ষমা প্রার্থনা করেন বা দণ্ড মওকূফের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেন তাহলে সে আবেদনটি বিবেচনা করা হবে। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল কিন্তু বাঁধ সাধলেন তারেক জিয়া। তারেক জিয়া বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে তোলপাড় করেছেন।*

*জানা গেছে যে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বেগম খালেদা জিয়ার মুখ্য কৌঁসুলী খন্দকার মাহবুব হোসেন এবং তাঁর মামা শামীম ইস্কান্দারকে টেলিফোন করেন এবং তীব্র ভাষায় তাঁদেরকে ভৎসর্না করেন। লন্ডনে পলাতক বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক জিয়া বলছেন যে, মরে গেলেও বিশেষ বিবেচনায় মুক্তি নয়।*

*সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, আজ বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ তারেক জিয়া মির্জা ফখরুল ইসলামকে ফোন করেন এবং জিজ্ঞেস করেন তাঁর মায়ের মুক্তির বিষয়ে কি উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে? মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তখন জানান যে, এই বিষয়টি নিয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না এবং তিনি গণমাধ্যমে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তারই পুনরাবৃত্তি করে বলেন যে, এটা বেগম খালেদা জিয়া এবং তাঁর পরিবারের বিষয়।*

*এসময় তারেক জিয়া উত্তেজিত হয়ে বলেন যে, পরিবার কে? বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার হচ্ছে একমাত্র আমি এবং কোকোর স্ত্রী। তাঁদের মতামত না নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ বিবেচনার জন্য আবেদন কিভাবে করা হয়? উত্তরে মির্জা ফখরুল বলেন, এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এটি হয়তো খন্দকার মাহবুব হোসেন বলতে পারবেন। এরপর খন্দকার মাহবুব হোসেনের সঙ্গে কথা বলেন তারেক জিয়া। খন্দকার মাহবুব হোসেনেকে তারেক জিয়া জিজ্ঞেস করেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার এই আবেদন কেন করা হয়েছে? উত্তরে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন যে, তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি আবেদনের খসড়া তৈরি করতে বলা হয়েছিল এবং আমি শুধু খসড়া তৈরি করেছি মাত্র।*

*এইসময় তারেক জিয়া আবারও ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন এবং বলেন, তাঁর অনুমতি ছাড়া এবং তাঁর সাথে আলাপ করা ছাড়া এই আবেদন কিভাবে করা হয়? এসময় খন্দকার মাহবুব হোসেন তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, এই আবেদন মানবিক কারণে করা হয়েছে এবং খালেদা জিয়া ক্ষমা প্রার্থনা করেননি এবং তিনি বিশেষ বিবেচনার জন্য আবেদনও করেননি। তখন তারেক জিয়া বলেন যে, আমি আইন কানুন ভালোই বুঝি। কোন আবেদন করলে সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেবে সেটাও জানি। কেন এটা করা হলো সে ব্যপারে তিনি জানতে চান। খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন যে, এ ব্যপারে শামীম ইস্কান্দারের সঙ্গে কথা বলাই ভালো হবে। এরপর শামীম ইস্কান্দারের সঙ্গেও কথা বলেন তারেক জিয়া।*

*একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, তারেক জিয়া তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। তার অনুমতি ছাড়া তার মায়ের ব্যাপারে কেন নাক গলানো হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন করেন। শামীম ইস্কান্দারও কম যান না। তিনিও তাকে পাল্টা জাবাব দেন। তিনি বলেন, মায়ের জন্য যদি এত দরদ থাকে তাহলে দেশে আসো। দেশে এসে সব দায়িত্ব নেও। বিদেশ থেকে এই রকম চিৎকার চেঁচামেচি করার কোন অধিকার তোমার নেই।’ তিনিও উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘তোমার কারণেই তোমার মায়ের এই অবস্থা। তোমার সাজা তোমার মা ভোগ করছেন।’ এরপর তারেক ফোন রেখে দেয়। এর ফলে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে আবার শঙ্কা তৈরী হলো বলে বিএনপি নেতারা মনে করছেন।*