প্রচ্ছদ আইন-আদালত *বৈধ-অবৈধ সন্তান নিরূপণের ধারা কেন অবৈধ নয়: হাইকো’র্ট*

*বৈধ-অবৈধ সন্তান নিরূপণের ধারা কেন অবৈধ নয়: হাইকো’র্ট*

18
*বৈধ-অবৈধ সন্তান নিরূপণের ধারা কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট*

*সাক্ষ্য আইনের ১১২ ধারা কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সন্তানের বৈধতা-অবৈধতা নিরূপণ সংক্রান্ত এই ধারা সংশোধনের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, রুলে তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।*
*আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।*

*আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এম এম জি সরোয়ার পায়েল।*
*এর আগে সন্তানের বৈধতা-অবৈধতা নিরূপণ সংক্রান্ত সাক্ষ্য আইনের ১১২ ধারা অসাংবিধানিক ঘোষণা করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেন। রিটে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং লেজিসলেটিভ ও ড্রাফটিং বিভাগের সচিবকে বিবাদী করা হয়।*

*আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, ‘বৈধ-অবৈধ সন্তানের ব্যাখ্যাকারী সাক্ষ্য আইনের ১১২ ধারায় বলা হয়েছে, যখন কোনো সন্তান তার বাবা-মায়ের বৈধ বিবাহের ফলে অথবা ডিভোর্সের ২৮০ দিনের মধ্যে জন্মগ্রহণ করে এবং ওই সন্তানের মা যদি অবিবাহিত থাকেন তবে সেই সন্তান, সেই ব্যক্তির বৈধ সন্তান হিসেবে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হবে। কোনো সময়ে বিবাহিত পক্ষদ্বয়ের পরস্পরের মধ্যে মিলনের পথ উন্মুক্ত ছিল না। তবে জন্মের বিষয় দ্বারা অবশ্যই চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হবে যে, সেই তার মায়ের সঙ্গে বিবাহিত ওই ব্যক্তির সন্তান।’*

*তিনি বলেন, ‘সন্তানের পিতৃত্ব ও মাতৃত্ব পরীক্ষা হতেই পারে। কিন্তু বৈধতা বা অবৈধ ঘোষণা দেয়ার ব্যাপারটি একেবারেই অবান্তর। এর মাধ্যমে বৈধ ও অবৈধ সন্তানের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি হয়। কোনো সন্তান যদি আদালতের মাধ্যমে বৈধ প্রমাণিত না হয় তবে তাকে সারাজীবন অবৈধ সন্তানের উপাধি নিয়ে নিগৃহীত হতে হবে, সমাজের কাছে ছোট হতে হবে যা একেবারেই কাম্য নয়। ধর্ষণের ফলে সন্তান জন্মগ্রহণ করতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের সময় এরকম অসংখ্য ঘটনার নজির রয়েছে। এছাড়া বাবা-মায়ের সিদ্ধান্তের জন্য একটি নিষ্পাপ শিশুকে অপমান করা যেতে পারে না।’*

*তিনি আরো বলেন, ‘১৮৭২ সালের পুরাতন আইন যা ব্রিটিশ আমলে করা হয়েছে এবং তা বর্তমান যুগের জন্য একেবারেই অনুপযুক্ত। যেখানে বর্তমানে ডিএনএ টেস্টের সুযোগ রয়েছে। এই আইন সংবিধানের ২৭, ২৮ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এটি অদ্ভুত ও বৈষম্যমূলক। এছাড়া ইউনিভার্সেল ডিক্লারেশন অব হিউম্যান রাইটস এর পরিপন্থী। এ কারণেই রিট করেছি।’*