প্রচ্ছদ রাজনীতি *ক্ষ’মা চাইলেই মু’ক্তি পাবেন খালেদা জিয়া*

*ক্ষ’মা চাইলেই মু’ক্তি পাবেন খালেদা জিয়া*

41
*ক্ষমা চাইলেই মুক্তি পাবেন খালেদা জিয়া*

*বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে সরকার এবং বিএনপির মধ্যে পর্দার আড়ালে চলছে আলাপ আলোচনা এবং দেনদরবার। শর্ত-পাল্টা শর্তের বেড়াজালে আটকে আছে বেগম জিয়ার মুক্তি। এর মধ্যে বেগম জিয়ার পক্ষ থেকে তার ভাই শামীম ইস্কান্দার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এবং আইন মন্ত্রণালয়ে দুটি পৃথক আবেদন করেছেন। কিন্তু কোন আবেদনেই বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোল কিংবা বিশেষ বিবেচনার কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেনি। বরং এই সমস্ত আবেদনে বলা হয়েছে যে, বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ। এই অসুস্থতার জন্য মানবিক কারণে তার মুক্তি প্রয়োজন।*
*আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার এই মুক্তির আবেদনটি আইন মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষা নীরিক্ষার মধ্যে আছে। পরীক্ষা নীরিক্ষার পর আমি বলতে পারবো এ ব্যাপারে সরকার কি সিদ্ধান্ত নিতে পারে।*

*তবে আইন মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র বলছে, বেগম খালেদা জিয়ার এই আবেদন অস্পষ্ট। নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর নয়। কোন আইনের আওতায় কিভাবে তিনি মুক্তি চান সে ব্যাপারে সুষ্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। জানা গেছে যে, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বেগম খালেদা জিয়া যদি প্যারোল চান তাহলে আইনগত জটিলতা রয়েছে। প্যারোলের মুক্তির ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের একক কর্তৃত্বে খালেদা জিয়াকে জামিন দেওয়া এবং বিদেশে পাঠাতে পারবে না। কারণ বেগম খালেদা জিয়া যে দুটি মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন, সে দুটি মামলাই হলো দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা। দুর্নীতি দমন মামলার কুশিলব অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম বলেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া প্যারোল চাইলে সেখানেও দুর্নীতি দমন কমিশন আপত্তি জানাবে।’*

*অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা সুনির্দিষ্টভাবে প্যারোল বা বিশেষ বিবেচনার কথা বলছেন না এই কারণে, বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ইমেজ এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতির কারণে। তবে গত দুদিনে পানি অনেকদূর গড়িয়েছে। এখন বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার যেকোন ভাবেই তার মুক্তির ব্যাপারে আগ্রহী। আর এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তিনি যেন বিশেষ বিবেচনায় আবেদন করেন।*

*উল্লেখ্য যে, বিশেষ বিবেচনায় আবেদন করলে তা মঞ্জুরের ক্ষমতা একমাত্র রাষ্ট্রপতির। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী দণ্ড মওকুফের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির একক কর্তৃত্বের একটি বিষয়। এরকম আবেদন করতে গেলে তাকে অনুতাপ প্রকাশ করতে হবে। তাকে দণ্ড মওকুফের জন্য ক্ষমা প্রার্থণা করতে হবে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, আইনমন্ত্রণালয়ে যে দুটি আবেদন করা হয়েছে সেখানে চলতি সপ্তাহেই জানিয়ে দেওয়া হবে যে, জামিন পেতে হলে তাকে বিশেষ বিবেচনায় আবেদন করতে হবে। সেই আবেদনটি যদি মহামান্য রাষ্ট্রপতি অনুমোদন করেন তাহলে তিনি বিশেষ বিবেচনায় মুক্তি পেতে পারেন। বিশেষ বিবেচনায় একমাত্র রাষ্ট্রপতি দণ্ড মওকুফ করলেই বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য যে কোন জায়গায় যেতে পারবেন।*

*এই বিষয়টি নিয়েই আজ সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে আইন মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক মতামত পাওয়ার পর তারা এরকম একটি আবেদন করতে পারেন বলে জানা গেছে।*
*বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে গত শুক্রবার তার পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাৎ করেছেন। সেই সাক্ষাতে বেগম খালেদা জিয়া তাদেরকে বলেছেন, যেকোনভাবে তিনি মুক্তি চান। বেগম খালেদা জিয়ার অনুমতি নিয়েই সবকিছু করা হচ্ছে বলে তার ভাই শামীম ইস্কান্দার জানিয়েছেন। এই প্রেক্ষিতে ধারণা করা হচ্ছে যে, আইন মন্ত্রণালয়ের মুখোমুখি হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়ার তার দণ্ড মওকুফের আবেদন করবেন, সেখানে তিনি তার কৃত অপকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন।*

*বেগম জিয়ার পারিবারিক সূত্র বলছে, এমনভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করা হবে যাতে একূল-ওকূল দুকূলই রক্ষা করা যায়। আইন প্রয়োগে যেন বাঁধা না হয়, আবার অন্যদিকে বেগম জিয়ার ইমেজ এবং রাজনৈতিক সম্মানহানি না হয়- এই দুটো বিষয় মাথায় রেখে বেগম জিয়ার পরিবার খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টিতে দলকে একেবারেই জড়াচ্ছে না এবং বিএনপির নেতৃবৃন্দকে আজ জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে যেন তাঁরা একেবারেই কথা না বলে এবং কোন কর্মসূচী গ্রহণ না করে। আর একারণেই বেগম জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির পক্ষ থেকে আগামীকাল যে বিক্ষোভ কর্মসূচী ছিল, তা বাতিল করা হয়েছে।*