প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *আসছেন না মোদি: মুজিববর্ষের মূল সমা’বেশ স্থগিত*

*আসছেন না মোদি: মুজিববর্ষের মূল সমা’বেশ স্থগিত*

36
*আসছেন না মোদি: মুজিববর্ষের মূল সমাবেশ স্থগিত*

*আগামী ১৭ মার্চ থেকে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা ছিল। এই মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু ভবনে গিয়ে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্থাপক অর্পন। এরপর প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজারে ফাতেহা পাঠ এবং দোয়া মাহফিল করবেন। এরপর কর্মসূচী ছিল জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ১৭ মার্চ উপলক্ষে সমাবেশ। সেই সমাবেশে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশে ৩জন শনাক্ত হওয়ার কারণে এই কর্মসূচীতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সীমিত আকারের কর্মসূচীকে বহাল রেখে ১৭ মার্চের যে সমাবেশ ছিল তা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। পরবর্তীতে এই সমাবেশের তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। আর সে কারণেই ১৭ তারিখ নরেন্দ্র মোদিসহ বিদেশি অতিথিরা আসছেন না।*

*আজ রাতে জাতির পিতা জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটির মুখ্য সমন্বয়কারী ড. কামাল নাসের চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলন করে এমন কথা জানান। তিনি বলেন, সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে মুজিববর্ষের ব্যাপক জনসমাগম না করে বছরব্যাপি অনুষ্ঠান উদযাপন করা হবে। তিনি বলেছেন যে, যেহেতু ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে ২৬ মার্চ ২০২১ পর্যন্ত মুজিববর্ষ। কাজেই পুরো বছরব্যাপি নানা রকম অনুষ্ঠান হবে। তবে তিনি বলেন, ডাক টিকিট উদ্বোধন, স্কুল কলেজগুলোতে জাতির পিতাকে স্বরণ করে যে অনুষ্ঠান তা যথারীতি থাকবে।*

*আজ গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার ছোট বোন শেখ রেহানা সবার সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন যে, বঙ্গবন্ধু সব সময় বলেছিলেন যে, এদেশের মানুষ যেন অন্ন পায়, বস্ত্র পায় সেজন্য মুজিববর্ষে সব গৃহহীন মানুষকে গৃহ দেওয়াসহ বিভিন্ন কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে। শুধু জনসমাবেশ মূলক অনুষ্ঠান হচ্ছে না।*
*যেহেতু মুজিববর্ষ সারা বছর চলবে। তাই যেকোন সুবিধাজনক সময় মুজিববর্ষের যে আনুষ্ঠানিক বক্তৃতা পর্ব বা সমাবেশ তা অনুষ্ঠিত হবে।*

*ডা. আব্দুল্লাহর পরামর্শ শুনলেন প্রধানমন্ত্রী*
*করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত তিন জন রোগী পাওয়া গেছে বাংলাদেশে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আক্রান্তরা হাসপাতালে আইসোলেশনে আছেন। এর পরপরই মুজিববর্ষ এবং করোনা মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী গণভবনে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুল্লাহর সঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।*

*এই সময় ড. আব্দুল্লাহ প্রধানমন্ত্রীকে বলেন যে, এখন বড় ধরণের জনসভা বা জনগণ সমাবেত হতে পারে এমন অনুষ্ঠানগুলো পরিহার করা উচিত। প্রয়োজনে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন। কারণ এই রোগটা অত্যন্ত ছোঁয়াচে এবং সহজেই সংক্রমিত হয়। ড. আব্দুল্লাহ এটাও বলেন যে, জনস্বাস্থ্যের দিকে গুরুত্ব দেওয়াটা জরুরি।*

*সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী ড. আব্দুল্লাহর পরামর্শের সঙ্গে একমত হন। তিনি বলেন যে, জনস্বাস্থ্যের জন্য যা কিছু করা দরকার, সেটাই তিনি করবেন। এর পরপরই তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং মুজিবর্ষের অনুষ্ঠান পুনর্বিন্যাস করার জন্য ঘোষণা করেন। গণভবন সূত্রে জানা গেছে যে, মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানগুলো কিভাবে পুনর্বিন্যাস করা হবে সেটা আগামী দুয়েকদিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে সরকার দেখবে যে, করোনা পরিস্থিতি কোনদিকে মোড় নেয়।*