প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত *”বাঁকা’ চাঁদ উঠেছে গগনে…”*

*”বাঁকা’ চাঁদ উঠেছে গগনে…”*

সুষুপ্ত পাঠক

46
*''বাঁকা' চাঁদ উঠেছে গগনে…''*

*রৌদ্দুর রায়কে দেখে রবীন্দ্রনাথ ঠোঁটের কোণে কৌতুক রেখে বললেন, কি হে, তুমি নাকি এখন বাংলা দেশের নতুন রবীন্দ্রনাথ!*
*রৌদ্দুর রায় কাচুমাচু হয়ে বিনয়ে গলে বলল, কি যে বলেন গুরুদেব, বাঘ নাই বনে বিড়াল রাজা- আমাদের হচ্ছে সে অবস্থা…*
*রবীন্দ্রনাথ বিমর্ষভাবে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, যবে থেকে স্কুল খুলেছিলুম, সেইদিনই সর্বনাশটা হয়েছিলো। লোকে আমাকে ঋষি গুরুদেব বানালে আর আমার স্কুলকে আশ্রম! আমাকে রামকৃষ্ণ মিশন, লোকনাথ ব্রাহ্মণচারী মন্দির বানিয়ে ছাড়লে! রবীন্দ্রভারতী আমাকে বেঁচে খায়। শুনেছি কতগুলো বাচ্চা মেয়েকে জেলে ভরেছে আমাকে নিয়ে বাজে কথা লেখার জন্য?*

*রোদ্দুর রায় লাজুকভাবে বলল, আজ্ঞে গুরুদেব, আমারই লেখা গানের কয়েকটা লাইন লিখে…
-তাই নাকি, কি সে লাইন গাও তো শুনি…*
*-বাঁড়া চাঁদ উঠেছে গগনে… ইয়ে গুরুদেব, এসব শুনতে আপনার ভালো লাগবে না। বাদ দিন, এসব আমাদের যুগের ব্যাপার…।*
*রবীন্দ্রনাথ মৃদু হেসে বললেন, যখন ব্রাহ্ম সংগীত গাইতুম ছেলেবেলায়, জানো হরমোনিয়াম তখন প্রথম দেশে এসেছে, বিলেতি বাদ্য বলে তাকে কি গঞ্জনা সইতে হয়েছে। আর এখন এটা ছাড়া বঙ্গের সংগীতই কল্পনা করা যায় না। তবে জানো কি, তোমার গানটি কুসিৎত তাতে কোন সন্দেহ নেই। প্রথমত, তোমার নিজস্ব বলতে এখানে কিচ্ছু নেই। নিজস্ব কিছু দিয়ে স্লাং ইউজ করে কিছু বানাতে পারলে তাতে সাহিত্য হয়ে উঠলে অনন্ত এই আনন্দলোক থেকে তোমাকে আর্শিবাদ করতে আমার কুণ্ঠা হবে না জেনো…।*

*রৌদ্দুর রায় বিনিতভাবে জিজ্ঞেস করল, গুরুদেব আপনি রাগ করেননি তো?*
*-রবীন্দ্রনাথ তার বিখ্যাত দার্শনিক চাউনিতে চেয়ে বললেন, আমাকে এবার তোমরা ‘গুরদেব’ থেকে রেহাই দাও! আমি আশ্রমের ঋষি নই! আমি কবি। আমি প্রেমিক। আমি গাইয়ে। আমি শিল্পী।… ঐ মেয়েগুলোকে ছেড়ে দিতে বেলো। তোমার প্রতিও আমার ক্ষোভ নেই। তুমি তাদের জন্য ইন্টারটেইন্টমেন্ট করছ যারা তোমার কাছ থেকে এসবই চায় বলে নয়, তাদের রুচি চিন্তা এভাবেই গড়ে উঠেছে। আমাকে ব্যঙ্গ করা যাবে না, হাসি ঠাট্টা করা যাবে না তা তো নয়।*

*তোমাদের জেলে ভরে তারা কি প্রমাণ করতে চায়? যারা আমার বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধীতার কল্পিত ইতিহাস বানায়, যারা আমাকে অত্যাচারি জমিদার, মুসলিম বিদ্বেষী, ইংরেজ প্রেমি সাজায় তারা আর আমাকে আশ্রমের ঋষি বানিয়ে ব্যবসা করে যারা এরা দুদলই আমাকে বেঁচে খায়…। তোমার প্যারোডি আমাকে স্পর্শ করবে না। তারার পানে চেয়ে চেয়ে আমাকে তোমরা না ডাকলে আমি অভিমান করব না। আমাকে অস্বীকার করে বারবার তোমরাই কাছে ডেকে নিয়েছো। সাধারণেই আমি চিরকালীন অমৃত লাভ করেছি…।*
*সুষুপ্ত পাঠক: ব্লগার*