প্রচ্ছদ খেলা ক্রিকেট *মাশরাফির অধিনায়কত্ব: ২০০৯ থেকে ২০২০*

*মাশরাফির অধিনায়কত্ব: ২০০৯ থেকে ২০২০*

37
*মাশরাফির অধিনায়কত্ব: ২০০৯ থেকে ২০২০*

*প্রথমবারের মতো অধিনায়কত্ব পেয়েছিলেন ২০০৯ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে। ইনজুরির থাবায় ছিটকে যান সফরের প্রথম ম্যাচেই। ফিরে এসে ফের দায়িত্ব পান পরের বছর ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে। এবারও একই পরিণতি। প্রথম ওয়ানডেতেই ছিটকে যান মাঠ থেকে, সেবার মাঠে ফেরেন ডিসেম্বরেই। কিন্তু তখন আর মাশরাফি বিন মর্তুজাকে দেয়া হয়নি অধিনায়কত্ব।*

*তৃতীয় দফায় তাকে নেতৃত্ব দেয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয় ২০১৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। যা চলছে এখনও। মাশরাফির অধিনায়কত্বের এবারের অধ্যায়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল পৌঁছে গেছে অন্য উচ্চতায়। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ এখন ওয়ানডে ক্রিকেটের সমীহ জাগানিয়া দল। যার প্রমাণ মিলেছে ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ কিংবা ২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে।*

*এখনও পর্যন্ত ৮৭টি ওয়ানডে ও ২৮ টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়কত্ব করেছেন মাশরাফি। কুড়ি ওভারের ক্রিকেটের অধিনায়কত্ব তথা খেলাই ছেড়ে দিয়েছেন ২০১৭ সালের এপ্রিলে। বৃহস্পতিবার জানালেন, পঞ্চাশ ওভারের ক্রিকেটের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন এবার। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচটিই তার ওয়ানডে অধিনায়কত্বের শেষ।*
*বলা বাহুল্য, ম্যাচ জয়ের হিসেবে মাশরাফিই বাংলাদেশের সফলতম অধিনায়ক। তার অধীনে এখনও পর্যন্ত ৪৯টি ম্যাচে জিতেছে টাইগাররা। শুক্রবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটিতে জয় পেলে অধিনায়ক হিসেবে জয়ের হাফসেঞ্চুরি পূরণ হবে মাশরাফির। বলার অপেক্ষা রাখে না, বাংলাদেশের প্রথম অধিনায়ক হিসেবেও জয়ের ফিফটি হবে মাশরাফির।*

*এখনও পর্যন্ত অধিনায়ক হিসেবে পাওয়া ৪৯ জয়ের মধ্যে ২৮টি ছিলো আগে ব্যাট করে আর বাকি ২১টি এসেছে পরে ব্যাট করে। এমনকি দেশে-বাইরের জয়ের আনুপাতিক হিসেবটাও ঠিক এমন। অর্থাৎ দেশের মাটিতে তার অধিনায়কত্বে ৩৬ ম্যাচে জয় ২৮টি আর বিদেশের মাটিতে ৫১ ম্যাচে জয় এসেছে ২১টি ওয়ানডেতে।*
*মজার একটি বিষয় হলো, পরে ব্যাট করে পাওয়া ২১ জয়ের কোনো ম্যাচেই ব্যাটিংয়ে নামতে হয়নি মাশরাফিকে। এছাড়া আগে ব্যাট করে পাওয়া জয়ের ২৪টি ম্যাচে ব্যাট করে ২৯৮ রান করেছেন তিনি। মাশরাফির অধিনায়কত্ব পাওয়া ৪৯ জয়ে তার শিকার ৭১টি উইকেট।*

*একনজরে দেখে নেয়া যাক ওয়ানডেতে অধিনায়ক মাশরাফির কিছু পরিসংখ্যান:*
*কোন দলের বিপক্ষে মাশরাফির কত জয়*
*আফগানিস্তান – ৭ ম্যাচে ৫ জয়। অস্ট্রেলিয়া – ২ ম্যাচে জয় নেই। ইংল্যান্ড – ৯ ম্যাচে ৩ জয়। ভারত – ৮ ম্যাচে ২ জয়। আয়ারল্যান্ড – ৪ ম্যাচে ৩ জয়। নেদারল্যান্ডস – ১ ম্যাচে জয় নেই। নিউজিল্যান্ড – ১১ ম্যাচে ৩ জয়। পাকিস্তান – ৪ ম্যাচে ৩ জয়। স্কটল্যান্ড – ১ ম্যাচে ১ জয়। দক্ষিণ আফ্রিকা – ৭ ম্যাচে ৩ জয়। শ্রীলঙ্কা – ৮ ম্যাচে ৩ জয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ – ১০ ম্যাচে ৮ জয়। জিম্বাবুয়ে – ১৫ ম্যাচে ১৫ জয়।*

*কোন দেশে কত জয়:*
*বাংলাদেশ – ২৮ জয় (৩৬ ম্যাচে)। আয়ারল্যান্ড – ৭ জয় (৯ ম্যাচে)। ইংল্যান্ড – ৫ জয় (১৫ ম্যাচে)। আরব আমিরাত – ৩ জয় (৬ ম্যাচ)। ওয়েস্ট ইন্ডিজ – ২ জয় (৩ ম্যাচে)। অস্ট্রেলিয়া – ২ জয় (৪ ম্যাচে)। শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ড – ১টি করে জয় (যথাক্রমে ৩ ও ৭ ম্যাচে)।*
*কোন বছরে কত জয়:*
*২০১০- ৩ জয়। ২০১৪ – ৫ জয়। ২০১৫ – ১২ জয়। ২০১৬ – ৩ জয়। ২০১৭ – ৪ জয়। ২০১৮ – ১৩ জয়। ২০১৯ – ৭ জয়। ২০২০ – ২ জয়।*