প্রচ্ছদ স্পটলাইট *বঙ্গবন্ধুর খু’নী-রা’জাকার পরিবারের সদস্যরা শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ*

*বঙ্গবন্ধুর খু’নী-রা’জাকার পরিবারের সদস্যরা শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ*

99
*বঙ্গবন্ধুর খুনী-রাজাকার পরিবারের সদস্যরা শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ*

*প্রাচীন কাল থেকেই ক্ষমতার পাদপীঠ ঘিরে রাখে সুবিধাবাদীরা। যাঁদের এটার দিকে নজর রাখার কথা তাঁদের কারো নজর রাখার কোন ঘাটতি হলে যে কোন সময় বড় বিপর্যয় আসতে পারে তার উদাহরণ আমাদের দেশেই আছে অনেক। এই সুবিধাবাদী হবার নানা কৌশল আমাদের মত দেশের মানুষেরা আবিষ্কার করেছেন। তার জীবন্ত উদাহরণ আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি। পাপিয়ারা নেতাদের ছবি ব্যবহার করে ক্ষমতার কাছে গিয়ে নানা সেবা দিয়েছে ঠিকই কিন্তু তাঁরা ধর্মকে খুব চতুরতার সাথেই ব্যবহার করেছে। পাপিয়াদের এক হাতে ছিল কাবার উল্কি আঁকানো ছবি আর অন্য হাতে ছিল কালি মন্দিরের ছবি। এভাবেই পাপিয়ারা নিজেদের নিরপেক্ষ প্রমাণ করে কাড়ি কাড়ি টাকা কামিয়েছে।*

*আমাদের জানা মতে কমিউনিস্ট বা বামেরা ধর্মে বিশ্বাস করেন না। ৭০ বা ৮০ এর দশকে বাংলায় যখন বাম রাজনীতি রমরমা তখন তাঁরা ধর্মকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছে। পাশে ঘেঁসতে দেন নি। কিন্তু তাঁদের রাজনীতি যখন দুর্বল হতে থাকে তখন ধীরে ধীরে ধর্মের হাত আঁকড়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা শুরু করেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির একদার সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক গত বছর হজ্বে গেছেন, ধর্মের জন্য নয়, আর্থিক ফায়দার বা রাজনৈতিক ফায়দার জন্য তা জানা যায়নি। তবে রাজনীতির ক্ষমতা নিজেদের অনুকূলে আনার জন্য গিয়েছেন কি না সেটা বুঝতে একটু সময় লাগবে। বাম রাজনীতির আরও দুই বড় নেতা কিছুদিন আগে মন্ত্রী থাকার সময় পবিত্র হজ্ব পালন করেছেন কি কোটি কোটি নেকির আশায় না ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুর কাছে থাকার জন্য!*

*ধর্মে বিশ্বাসই হচ্ছে একমাত্র পুঁজি, কিন্তু রাজনীতিতে তা নয়। সেখানে আছে নানান কৌশল। যদি মাল্টিক্লাস পার্টি হয় তাহলে তো সেখানে ধর্মও একটা বড় উপাদান। তাই তো আমরা দেখি ধর্মীয় কারণে বিগত ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন পিছিয়ে দিতে হয়েছিলো। ধর্মে তর্ক চলে না, সেখানে বিশ্বাসের কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে হয়। কিন্তু রাজনীতি ভিন্ন কথা।*

*ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতিকগন যখন ক্ষমতার সাধ নিতে চান তখন তাঁরা নানা কৌশল অবলম্বন করেন। এসব কৌশলের কোন ধরা বাঁধা নিয়ম নেই। যে দেবতা যে ফুলে খুশি তাঁকে তাঁরা সেই ফুলের পূজা দিয়ে থাকেন। তা না হলে বঙ্গবন্ধুর খুনি ডালিম ও ফারুক একসময়ের আশ্রয়দাতা জামায়াত পরিবারে নেতা কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপের বাসিন্দা আতাউল্লাহ খান কি করে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হন! নিশ্চয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে এমন কোন ঠাকুর আছেন যিনি আতাউল্লাহ খানের পূজায় মোহিত হয়ে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী বানিয়েছেন। তাঁরা সব জানেন যে, এই আতাউল্লাহ খানের ভাই শফিক উল্লাহ খান ১৯৯৬ সালে মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনে ফ্রিডম পার্টির সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলেন।*

*রাজাকার কন্যা ও শিবির নেতার বোন শাহানাজ ডলি এবার প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হছিলেন কোন কেরামতিতে সেটা কি খুলে বলার দরকার আছে! তিনি কি করে ৭৪ তম জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সফরসঙ্গী হচ্ছিলেন!*
*সবাই এখন পাপিয়াকে নিয়ে বিজি হয়ে আছেন। কত পাপিয়া যে নিজেদের আত্মাহুতি দিয়ে টাকার পাহাড় গড়েছে তাঁর কি কোন হিসেব আছে! কিভাবে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দল ফ্রিডম পার্টির নেতা ওমর ফারুক চৌধুরী রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাজশাহী-১ আসনে আওয়ামী লীগের এমপি হিয়! এর জবাব কে দেবেন!*

*পাশে থেকে সেবা দেবার কৌশল খুব কার্যকরী বলে মনে করা হয়। যারা ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু বা তাঁর আশেপাশে থাকেন তাঁরা খুব সহজেই প্রয়োজনে কামিনী আর কাঞ্চনের সাধ নিতে পারেন। চোখের আড়াল হন না বলেই তাঁরা মনের আড়াল হন না। তাই তাঁরা বা তাঁদের অনুকম্পাধারীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হতে পারেন সহজেই। কামিনী, কাঞ্চনের প্রভাবে ফ্রিডম পার্টি, জামায়াত, বিএনপি থেকে এসে নেতা এমপি হয়ে যান!*

*খবরে প্রকাশ আওয়ামী লীগ আর তাঁর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কর্মীদের সকল তথ্য ডিজিটাল সিস্টেমে নিয়ে একটা ডাটাবেজ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে পলিটিক্যাল ক্রেডিট সিস্টেম চালু করা হবে বলে অনেকেই মনে করছেন। কী এই পলিটিক্যাল ক্রেডিট সিস্টেম? এতে কর্মীর অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস আর অর্থনৈতিক বা পেশাগত কর্মকাণ্ডের রেকর্ড রাখার পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের একটা নতুন ধরণের মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু হবে। দলের নেতা কর্মীদের প্রতিটি ভালো আর খারাপ কাজের জন্য পজিটিভ ও নেগেটিভ পয়েন্ট দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।*

*সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে দলের নেতা কর্মীরা দলের জন্য, সমাজের কল্যাণে, নিজের পারবারের জন্য, নিজ শরীরের জন্য, ইত্যাদি কী কী কাজ করছেন তার ভালো-মন্দ দিকের হিসাব রাখা হবে বিভিন্ন কৌশলে। বিভিন্ন পেশাজীবী যেমন, সাংবাদিক, শিল্পী, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, ইত্যাদি সব শ্রেণী আর পেশার মানুষের দালিলিক খোঁজ রাখবেন দলের প্রধান আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কে কোথায় কত টাকা খেয়ে বা স্বজনপ্রীতি করে দলের বা দলের সহযোগী সংগঠনের উপজেলা, জেলা কমিটি করে দিয়েছেন, বা পদ বাণিজ্য করেছেন তার তথ্য থাকবে এখানে। কে কে কোন আমলার সাথে মিলে কত টাকা নিয়ে চাকরী দিয়েছেন, ঠিকাদারি কাজ পেতে কী কী অনৈতিক কাজ করা হয়েছে, কোন আমলা কত ঘুষ খেয়েছেন বা পাপিয়াদের সেবা নিয়েছেন মোটা দাগে সব হিসাব নেবার চেষ্টা থাকবে শেখ হাসিনার।*

*এমপি, উপজেলা, ইউপি নির্বাচনে কে কে বেইমানী করে দলকে হারাতে চাচ্ছে বা হারাচ্ছে তার হিসাব, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউপি নির্বাচনে কে কী করেছেন, উপজেলা নির্বাচনে কে কে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন তা খোঁজ রাখা, যাতে পরবর্তী সময়ে এটা তার পলিটিক্যাল ক্রেডিট সিস্টেমে মাইনাস পয়েন্ট যোগ হয়। এটা সরকারী চাকুরেদের এ সি আর লেখার মত অনেকটা। রাজনৈতিক দল পরিবর্তনকারী বা দলের বিরুদ্ধচারণকারীদের ব্যাপারে বিশেষ নজর রাখা হবে।*

*এই সিস্টেম চালু করা গেলে আইনের ফাঁদে পড়বেন অনেক তথাকথিত ভালো মানুষ, তথাকথিত আমলা, ঠিকাদার, বুদ্ধিজীবী, গাড়ি চালক, রাজনীতিকসহ দেশের সব পেশার মুখোশধারী নষ্ট মানুষ। আইটির এই যুগে, সবার এনআইডি নাম্বার ব্যবহার করে এটা করা অসম্ভব নয়। এটা চালু হলে নষ্ট রাজনীতিবিদ থেকে আরম্ভ করে অসৎ সরকারী কর্মচারী, পরিবহন মালিক-শ্রমিকসহ তাবৎ পেশার কোটি কোটি মানুষ প্রযুক্তির এই জালে আটকা পড়ে ভালো হতে বাধ্য হবেন। এখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কত তাড়াতাড়ি তা করবেন সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি আমরা, যারা নিজেদের আর দেশের নূন্যতম ভালো প্রত্যাশা করি। এভাবেই আসবে সোনার বাংলা আর বন্ধ হবে বিদেশে টাকা আর মেধা পাচার।*