প্রচ্ছদ রাজনীতি *রাজনীতিতে বি’তর্কিত নারীরা ও পাপিয়াকাণ্ড*

*রাজনীতিতে বি’তর্কিত নারীরা ও পাপিয়াকাণ্ড*

98
*রাজনীতিতে বিতর্কিত নারীরা ও পাপিয়াকাণ্ড*

*পাপিয়াকাণ্ড নিয়ে নানা রকম মুখরোচক আলাপ-আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় কিভাবে পাপিয়া ফুলেফেঁপে উঠেছেন তাঁর সত্যমিথ্যা গল্প বাজারে চর্চিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নিয়ে মনগড়া গল্পের কোন কমতি নেই। কিন্তু পাপিয়াই বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র বিতর্কিত নারী রাজনীতিবিদ নন। বিভিন্ন সময়ে বিতর্কিত নারী রাজনীতিবিদরা আলোচনায় এসেছেন এবং তাঁরা ক্ষমতার প্রভাবে নানা রকম অবৈধ কাজ করানোর ক্ষেত্রে মদদ জুটিয়েছে- এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই হয়েছে।*

*আমরা যদি বাংলাদেশের দিকেই তাকাই তাহলে দেখবো যে, ৭৫ এর পরবর্তী সময় থেকেই বিতর্কিত নারীদের পদচারণা শুরু হয়। জিয়াউর রহমান পছন্দ করতেন প্রয়াত শাহানাজ রহমতুল্লাহকে। এই জন্যেই তিনি শাহানাজ রহমতুল্লাহর গাওয়া ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ গানটিকে মোটামুটি দ্বিতীয় জাতীয় সঙ্গীতে পরিণত করেছিলেন। শাহানাজ রহমতুল্লাহকে নিয়ে জিয়াউর রহমান হিজবুল বাহারে প্রমোদ ভ্রমণে গিয়েছিলেন, একাধিক দেশে জিয়াউর রহমান শাহানাজ রহমতুল্লাহকে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেসময় থেকে শাহানাজ রহমতুল্লাহ ক্ষমতাসীন সরকারের বলয়ে অত্যন্ত ক্ষমতাবান হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর ইঙ্গিত এবং কথায় অনেককিছু হতো বলে তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্তরা বলেছেন।*

*জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর আসেন এরশাদের জামানা। এরশাদের সময়ে তৎকালীন শিল্পসচিব মোশাররফ হোসেনের স্ত্রী জিনাত মোশাররফের ক্ষমতার দাপটের কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। জিনাত মোশাররফের ইচ্ছায় সচিবদের রদবদল হতো, অনেকের মন্ত্রীত্ব চলে যেত। অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জিনাত মোশাররফ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। এসময় এরশাদ মরিয়ম মোমতাজ নামে একজনকে বিয়ে করেছিলেন বলে জানা যায়। তিনিও নেপথ্যে থেকে বাণিজ্য করার চেষ্টা করতেন।*

*এরশাদের পতনের পর ক্ষমতায় আসেন বিএনপি সরকার। আর সেসময় বেবি নাজনীন আবির্ভূত হন। জিয়াউর রহমান তাকে ব্লাক ডায়মন্ড বলেছিলেন, জিয়াউর রহমান তাঁর কন্যাসম ইত্যাদি নানা কথাবার্তা বলে বেবি নাজনীনকে ক্ষমতার কেন্দ্রে আসেন। এ সময় বেবি নাজনীন নানারকম অবৈধ লেনদেন, ব্যবসায়িক সুবিধা এবং নানা রকম অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন।*
*২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপি-জামাত সরকার ক্ষমতায় এলে গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের বান্ধবী অদিতি সেন গুপ্তর কথাও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল। অদিতি সেনের কারণে প্রশাসনে অনেক রদবদল হতো বলেও জানা যায়। আর ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকাকালীন কোন নারী নেতৃত্বের দাপটের কথা তেমন শোনা যায়নি। কিন্তু ২০০৮ সাল থেকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসায় পর গত ১১ বছরে এই পাপিয়ার কথাই আলোচনায় এসেছে।*

*পাপিয়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে দেখা গেছে, আরো কয়েকজন নারী রয়েছেন যারা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বেড়ান বিভিন্ন জায়গায়। তবে অন্যান্য শাষণকালের সঙ্গে এবারের পার্থক্য হলো, অন্য যে বিতর্কিত নারীদের উত্থান হয়েছিল রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারকদের আশীর্বাদ পৃষ্টপোষকতায়। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তা ব্যক্তিদের বশীভূত করেই ওই বিতর্কিত নারীরা ক্ষমতাবান হয়ে উঠেছিলেন। আর এবার হয়েছে ঠিক উল্টো। এবার সর্বোচ্চ মহলের কোন পৃষ্টপোষকতা পাননি বলেই পাপিয়ার মত দুর্বৃত্তরা ধরা পড়েছেন। অতীতে যারা রাষ্ট্রক্ষমতার দণ্ডমুণ্ডের কর্তা ছিলেন তারা বিতর্কিত নারী নেত্রীদের অন্ধের মতো পৃষ্টপোষকতা দিতেন আর এখন যখনই পাপিয়ার ঘটনাটা নীতি নির্ধারকের নজড়ে এসেছে তখনই তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।*