প্রচ্ছদ স্পটলাইট *খালেদার আ’শঙ্কা, বিএ’সএমএমইউ তাকে মে’রে ফেলতে পারে!*

*খালেদার আ’শঙ্কা, বিএ’সএমএমইউ তাকে মে’রে ফেলতে পারে!*

55
*খালেদার আশঙ্কা, বিএসএমএমইউ তাকে মেরে ফেলতে পারে!*

*বেগম খালেদা জিয়া এখন পর্যন্ত বায়োলজিক্যাল ট্রিটমেন্ট বা অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট গ্রহণে সম্মত হননি। বরং সম্মত হওয়ার পরিবর্তে তার চিকিৎসা এবং কারাজীবন নিয়ে নতুন শর্ত দিয়েছেন। জানা গেছে যে, আজ বেগম খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে যান। বেগম খালেদা জিয়া দুইঘণ্টা তাদের অপেক্ষায় রেখে দুপুর একটার দিকে তাদেরকে ডাকেন। বেগম খালেদা জিয়া এসময় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং রাগান্বিত ছিলেন। এসময় তিনি বলেন, ‘আমি এই চিকিৎসা করবো না।’ এর পরিবর্তে তিনি বিভিন্ন শর্ত দিয়েছেন। শর্তে তিনি বলেন, ‘উন্নত চিকিৎসার জন্য আমাকে বিদেশে যেতে দেওয়া হলো না। তবে আমার কিছু শর্ত রয়েছে।’*

*তখন বেগম জিয়া চিকিৎসকদের যে শর্তগুলো দিয়েছেন সেগুলো হলো:*
*প্রথমত, বর্তমান যে মেডিকেল বোর্ডটি রয়েছে, সেই বোর্ডকে বেগম জিয়া গ্রহণযোগ্য মনে করেন না। এই মেডিকেল বোর্ডে তার পছন্দের ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।*
*দ্বিতীয়ত, বেগম জিয়া বলেছেন যে, লন্ডনে তিনি যে চিকিৎসককে দিয়ে তার অপারেশন করিয়েছেন, যে চিকিৎসক তাকে নিয়মিত দেখতেন, সেই চিকিৎসককে দেশে এনে তাকে দেখাতে হবে। সেই চিকিৎসক যদি বলেন অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট দেওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) সক্ষম, তাহলেই তিনি এই উন্নত চিকিৎসা নেবেন।*

*শেষপর্যন্ত অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট বা বায়োলজিক্যাল ট্রিটমেন্ট যদি নিতেই হয়, সেটা তিনি বিএসএমএমইউতে নেবেন না। এটা ছিল তার তৃতীয় শর্ত। অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট যদি তিনি বিএসএমএমইউতে নেন, তাহলে বিএসএমএমইউ তাকে মেরে ফেলতে পারে- এমন কথাও তিনি সরাসরি বলেছেন।*
*এজন্য তিনি বেসরকারি কোনো হাসপাতালে এই ট্রিটমেন্ট নিতে চান। বেগম জিয়া এর মধ্যে জানতেও চেয়েছেন বেসরকারি কোন হাসপাতালে অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া আবারও ইউনাইটেড অথবা অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসার কথা বলেছেন।*

*চতুর্থত, বেগম জিয়া দিয়েছেন তা হলো- বেগম জিয়ার দুইবছরের বেশি কারাজীবনে তার সঙ্গে রয়েছেন গৃহপরিচারিকা আমেনা। কিন্তু শুধু আমেনাতেই সন্তুষ্ট নন বেগম জিয়া। তিনি বলেছেন যে তিনি এখন অসুস্থ, ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া এবং ওষুধ খেতে পারেন না। এজন্য দিনের বেলা তার পরিবারের কাউকে সার্বক্ষণিক তার সঙ্গে রাখার আবেদন করেছেন তিনি।*
*সর্বশেষ যে শর্ত তিনি দিয়েছেন যে অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান বলে বেগম জিয়া জানিয়েছেন।*

*চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে, বেগম জিয়া কারাবন্দী, আদালতের নির্দেশে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এখানে খালেদা জিয়ার দাবি-দাওয়া শোনার ব্যাপারে কোনো এখতিয়ার তাদের নেই। দাবি-দাওয়া শোনা তাদের পক্ষে সম্ভবও নয়। তাই চিকিৎসকরা বেগম জিয়াকে পরামর্শ দিয়েছেন যে তার যদি কোনো বক্তব্য বা দাবি-দাওয়া থাকে তা জেল কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। কারণ জেল কর্তৃপক্ষই এগুলো শুনবে। বেগম জিয়া জেল কর্তৃপক্ষের রোগী হিসেবেই বিএসএমএমইউতে ভর্তি হয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়ার চাহিদাসংক্রান্ত কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার কোনো এখতিয়ার চিকিৎসকদের নেই।*

*তবে বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন যে, ‘তোমরা এগুলো জেল কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দাও। এটা না হলে আমি উন্নত চিকিৎসা নেবো না।’*
*অবশ্য চিকিৎসকদের একজন বলেছেন যে, ‘বেগম জিয়ার এসব আবদার অবাস্তব। এসব শোনা সম্ভব নয়। বেগম জিয়ার যদি কোনো বক্তব্য থাকে বা কোনো দাবি-দাওয়া থাকে তো সেটি জেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমেই উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠাতে হবে।’*
*এদিকে জেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের একজন জানিয়েছেন যে, আনুষ্ঠানিকভাবে তারা দাবি-দাওয়ার ব্যাপারে কিছু জানেন না। তবে এই দাবি-দাওয়া সম্পর্কে শোনার পরে তারা বলেছেন যে ‘এটা একটা অদ্ভুত এবং উদ্ভট দাবি। বেগম জিয়া যেহেতু একজন দণ্ডিত কারাবন্দী, এজন্য জেলকোডের বাইরে কোনোকিছু করার এখতিয়ার তাদের নেই।’*