প্রচ্ছদ রাজনীতি *ফখরুলের পদত্যাগ নাকি কান্নার নাটক*

*ফখরুলের পদত্যাগ নাকি কান্নার নাটক*

65
*ফখরুলের পদত্যাগ নাকি কান্নার নাটক*

*বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পদত্যাগ নিয়ে আজ দিনভর নাটকের পর নাটক হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেকে ব্যর্থ দাবি করে পদত্যাগ করেছেন। তিনি বলেছেন যে, নির্বাচনে আমি ব্যর্থ হয়েছি। ম্যাডামকে মুক্ত করতে পারিনি, কাজেই আমার পদত্যাগ করা উচিত।*
*জানা গেছে যে, দলের তৃণমূলের তীব্র ভৎসনা, সমালোচনা এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের অনাস্থার কারণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি একটি পদত্যাগপত্র তৈরী করে বিএনপির একাধিক নেতাকে বলেন যে, আমি পদত্যাগ করতে চাচ্ছি। আপনারা অন্য কাউকে আপাতত মহাসচিবের দায়িত্ব দিন।*

*মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একরকম অভিমান করেই পদত্যাগপত্র লিখেছিলেন বলে জানা যায়। দলের স্থায়ী কমিটির সভায় একাধিক বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বলেন যে, আপনি তো সরকারের দালালি করছেন। সরকারের এজেন্ট হিসেবে বিএনপিতে কাজ করছেন। বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে নাটক করছেন। এই সমস্ত কথায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘আহত’ হয়েছিলেন বলেই তার ঘনিষ্ঠরা মনে করেন।*

*মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার ঘনিষ্ঠদের বলেছেন যে, বিএনপিতে একজন শয়তান দরকার। এই সরকারকে মোকাবিলার জন্য এমন একজন মহাসচিব দরকার যিনি শয়তানের মত চিন্তাভাবনা করবেন। আমার মত কোন ভালো মানুষের এই সরকারের সঙ্গে পেরে ওঠা সম্ভব নয়। তবে বিএনপির একাধিক নেতা বলছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের তৃণমূলের আশা আকাঙ্খা ধারণে ব্যর্থ হচ্ছেন। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যপারে একটি সুনির্দিষ্ট রুপরেখা চায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি বেগম খালেদা জিয়া যদি আইনী প্রক্রিয়ায় মুক্ত না হয় তাহলে একটি আন্দোলনের কর্মসূচীও চায়।*

*অবশ্য একটি সূত্র বলছে যে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই পদত্যাগের পেছনে জামাতের ইন্ধন আছে। জামাতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের টানাপোড়েন হচ্ছে এবং জামাতের পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়া হচ্ছে যে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর না সরালে জামাত বিএনপির পাশে থাকবে না।*
*তবে শেষপর্যন্ত বিএনপির মহাসচিবের এই পদত্যাগপত্র আবেগ কান্না নাকি সত্যি সত্যি তিনি পদত্যাগে আটল থাকবেন সেটা বোঝা যাবে আগামী দুয়েকদিনের মধ্যে।*