প্রচ্ছদ জীবন-যাপন *ব’ন্দুক ঠেকিয়ে বিয়ে করেন পাপিয়া!*

*ব’ন্দুক ঠেকিয়ে বিয়ে করেন পাপিয়া!*

509
*বন্দুক ঠেকিয়ে বিয়ে করেন পাপিয়া!*

*নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়ার বিরুদ্ধে বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এবার ফাঁস হলো তাঁর বিয়ের কাহিনী।*
*স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাপিয়ার স্বামী মফিজুর রহমান চৌধুরী সুমন ওরফে মতি সুমন ছিলেন নরসিংদীর আলোচিত চরিত্র। তিনি ছিলেন শহর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক। সুমনের হাত ধরে রাজনীতিতে পাপিয়ার উত্থান হয়। সুমন ও পাপিয়া বন্ধু ছিলেন। বন্ধু থেকে একপর্যায়ে সুমনের প্রেমিকা হন পাপিয়া। কিন্তু পাপিয়া বিয়ে করতে চাইলে কোনোভাবেই রাজি হচ্ছিলেন না সুমন। একপর্যায়ে সুমনকে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন যুবলীগের এই নেত্রী। পরে বাধ্য হয়ে পাপিয়াকে বিয়ে করেন সুমন। একপর্যায়ে প্রভাব-প্রতিপত্তি আর ক্ষমতায় স্বামীকেও ছাড়িয়ে যান পাপিয়া। নিজেই গড়ে তুলেন কেএমসি (খাজা মঈনুদ্দীন চিশতি) নামে বিশাল বাহিনী।*

*স্থানীয়রা জানান, পাপিয়া নরসিংদী সরকারি কলেজে লেখাপড়া করতেন। ওই সময় তার সঙ্গে পরিচয় হয় সুমনের। পরিচয় হওয়ার পর তারা ঘনিষ্ঠ হতে থাকেন। বন্ধু থেকে একপর্যায়ে মতি সুমনের প্রেমিকা হন পাপিয়া।*
*সুমনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার পর একদিন পাপিয়া কলেজের ভেতরে সুমনকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হলে পাপিয়া তাকে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এ নিয়ে পাপিয়া ও সুমনের গ্রুপের মধ্যে কলেজে মারামারি হয়। প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও পাপিয়াকে শেষ পর্যন্ত বিয়ে করতে চাননি সুমন। পরে বাধ্য হয়ে পাপিয়াকে বিয়ে করেন সুমন।*

*গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে সুমন জানিয়েছেন, বিয়ের পর একপর্যায়ে পাপিয়া তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যান। স্বামী হলেও তার চাওয়া-পাওয়ার মূল্য তিনি কমই দিতেন। পাপিয়ার ইচ্ছা অনুযায়ী সব কিছু চলত। পাপিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি তিনি নিয়মিত ফেসবুকে প্রচার করতেন।*
*প্রসঙ্গত ২২ ফেব্রুয়ারি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে থাইল্যান্ডে পাড়ি জমানোর সময় পাপিয়া ও স্বামীসহ চারজনকে আটক করে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা। তাদের ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, পাঁচ বোতল বিদেশি মদ, পাঁচটি পাসপোর্ট, তিনটি চেক বই, বিদেশি মুদ্রা ও বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি এটিএম কার্ড উদ্ধার করে তারা।*

*পাপিয়ার কলেজজীবন: ছাত্রী হোস্টেলেও গড়েছিলেন ‘পাপের আস্তানা’*
*বর্তমানে চালঞ্চ্যকর তথ্য মানেই শামীমা নূর পাপিয়া। সম্প্রতি বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় নরসিংদী যুব মহিলা লীগের সদ্য বহিষ্কৃত এই নেত্রী। তিনি ছিলেন জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক।*
*গ্রেফতারের পর থেকে বর্তমানে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে পাপিয়ার। আর জিজ্ঞাসাবাদে প্রতিদিনিই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে।*

*এদিকে, জিজ্ঞাসাবাদের বাইরেও পাপিয়া সম্পর্কে বেরিয়ে আসছে তার কর্মকাণ্ডের নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য।*
*জানা গেছে, নরসিংদী সরকারি কলেজে লেখাপড়া করার সময় সেখানকার ছাত্রী হোস্টেলেও ‘পাপের আস্তানা’ গড়ে তুলেছিলেন এই পাপিয়া।*
*স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০০৬ সালের দিকে নরসিংদী সরকারি কলেজে প্রথম ছাত্রী হোস্টেল উদ্বোধন হয়। ওই সময় হোস্টেলের একটি কক্ষে নিজেদের আস্তানা বানিয়েছিলেন পাপিয়া।*

*সেখানে অনেক বহিরাগত ছাত্রীর যাতায়াত ছিল। কোনও কোনও ছাত্রীকে প্রলোভন ও চাপ দিয়ে ওই সময় খারাপ পথে নিয়েছিলেন পাপিয়া। তখনও স্থানীয় অনেকে পাপিয়ার এসব কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে অবগত ছিলেন।*
*আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্র জানায়, নরসিংদী সরকারি কলেজেই সুমনের সঙ্গে পরিচয় হয় পাপিয়ার। পরিচয় হওয়ার পর তারা ঘনিষ্ঠ হতে থাকেন। বন্ধু থেকে একপর্যায়ে মতি সুমনের প্রেমিকা হন পাপিয়া। পরে তারা বিয়েও করেন।*

*সুমনের হাত ধরে রঙিন দুনিয়ার সঙ্গে পরিচয় শুরু হয় পাপিয়ার। কলেজের সাধারণ ছাত্রী হয়েও সুমনের মাধ্যমে প্রথমে নরসিংদীর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে পরিচয় হয় তার।*
*বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয় অনেক রাজনৈতিক নেতা পাপিয়াকে তাদের কাজে ব্যবহার করতে শুরু করেন। সেখান থেকেই শুরু হয় পাপিয়ার বেপরোয়া জীবন।*
*তবে সুমনের হাত ধরে পাপিয়ার উত্থান হলেও একপর্যায়ে প্রভাব-প্রতিপত্তি আর ক্ষমতায় স্বামীকেও ছাড়িয়ে যান পাপিয়া।*