প্রচ্ছদ অর্থ-বাণিজ্য *সম্রাট-পাপিয়া-জিকে শামীমের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ!*

*সম্রাট-পাপিয়া-জিকে শামীমের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ!*

412
*সম্রাট-পাপিয়া-জিকে শামীমের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ!*

*গত সেপ্টেম্বরে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছিল। মাঝখানে বিরতির পর আবার পাপিয়া গ্রেপ্তার হলো, এর মাধ্যমে শুদ্ধি অভিযান নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। প্রথম পর্যায়ের শুদ্ধি অভিযানে আটক হয়েছিলো খালেদ, সম্রাট, জিকে শামীম এবং সেলিম প্রধান। দ্বিতীয় পর্যায়ের অভিযানে আটক হলেন পাপিয়া। প্রথম পর্যায়ে আটক হওয়াদের সঙ্গে পাপিয়ার মধ্যে কোন যোগসূত্র আছে কিনা এ নিয়ে অনুসন্ধান করছেন গোয়েন্দারা। এদের মধ্যে চাঞ্চল্যকর যোগসূত্র পাওয়া গেছে।*
*মজার ব্যাপার হলো, এদের প্রত্যেকের সঙ্গেই পাপিয়ার যোগাযোগ ছিল। পাপিয়ার কোন না কোনভাবে স্বার্থসংক্রান্ত সম্পর্ক ছিল। ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের সঙ্গে পাপিয়ার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। পাপিয়া সম্রাটের বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতেন এমন অনেক ভিডিও ক্লিপস পাওয়া গেছে।*

*জানা গেছে যে পাপিয়ার সঙ্গে সম্রাটের সম্পর্ক ছিল স্রেফ রাজনৈতিক। রাজনৈতিক কারণেই পাপিয়া সম্রাটের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, রাজনীতির বাইরেও পাপিয়ার সঙ্গে সম্রাটের ব্যবসায়ীক সম্পর্ক ছিল। পাপিয়ার নেতৃত্বে নরসিংদীসহ বিভিন্ন জেলায় ক্যাসিনো সম্রাজ্য স্থাপনের পরিকল্পনা করেছিলেন সম্রাট, সে কারণেই পাপিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হয়েছিল। তবে সেটি বেশিদূর এগিয়ে নিতে পারেননি।*

*অন্যদিকে যুবলীগের আরেক নেতা জি কে শামীমের সঙ্গেও পাপিয়ার সম্পর্ক ছিল। তবে সেই সম্পর্ক ছিল পুরোপুরিভাবেই ব্যবসায়ী। বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে বাগিয়ে আনতে, বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে ব্লাকমেইল করতে পাপিয়াকে ব্যবহার করতেন জিকে শামীম। পাপিয়ার কাছে বেশ কিছু রুশ এবং থাই সুন্দরী ছিল। জিকে শামীম তার ব্যবসায়ীক সুবিধার জন্য বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে হাত করার জন্য এ সম্পর্ক- নারীদের নিতেন পাপিয়ার কাছ থেকে মোটা অংকের বিনিময়ে। জি কে শামীমের অফিসে পাপিয়ার ছবিও পাওয়া গিয়েছিল সে সময়।*

*প্রথম দফায় আটক সেলিম প্রধানের সঙ্গেও পাপিয়ার সম্পর্কের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যায়। জানা যায় যে, সেলিম প্রধান অনলাইন ক্যাসিনো বাণিজ্য করতেন আর পাপিয়া অনলাইন স্কট ব্যবসা করতেন। মজার ব্যপার হলো, দুটি অনলাইনের প্লাটফর্ম তৈরী করে দিয়েছে একই ব্যক্তি। এই প্রতিষ্ঠানটি পাপিয়া এবং সেলিম প্রধানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলো। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, আওয়ামী লীগ সরকারের তৃতীয় মেয়াদে যে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে সেখানে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং নজরদারির মধ্যে আছে তারা একই সূত্রে গাঁথা। এই দুর্বৃত্তদের মধ্যে একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ যেমন ছিল তেমনি পারস্পরিক যোগসাজশ ছিল এবং বিভিন্ন অপকর্মের জন্য একে অন্যের সহযোগিতাও দিতেন।*

*কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে যে, সম্রাট-জিকে শামীম-সেলিম প্রধান কিংবা পাপিয়াদের যোগাযোগ থাকলেও এদেরকে যারা পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন, যাদের সাহায্য সহযোগিতায় এরা ফুলে ফেপে উঠেছে তারা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরেই থাকছেন। সম্রাট-খালিদ কিংবা জিকে শামীমের যে মদদদাতা বা পৃষ্ঠপোষকতাকারীরা ছিলেন তাদেরকে শেষপর্যন্ত আইনের আওতায় আনা হয়নি। সে সময় এদের কারো কারো নাম উচ্চারণের সাথে সাথেই শুদ্ধি অভিযান থমকে যায়। এখন পাপিয়ার পেছনে যারা রয়েছেন; পাপিয়াকে যারা পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন তাদের নামও নানাভাবে উচ্চারিত হয়েছে কিন্তু শেষপর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে আদৌ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কিনা এনিয়ে সংশয় রয়েছে খোদ আওয়ামী লীগের।*