প্রচ্ছদ আইন-আদালত *যেভাবে গ্রে’ফতার হলেন পাপিয়া*

*যেভাবে গ্রে’ফতার হলেন পাপিয়া*

1211
*যেভাবে গ্রেফতার হলেন পাপিয়া*

*শনিবার দেশ ছাড়তে চেয়েছিলেন পাপিয়া। সেজন্য তিনি তার দলবল নিয়ে বিমা’নবন্দরেও গিয়েছিলেন ব্যাংক’কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যা’গ করার জন্য। তিনি বোডিং পাস গ্রহণ করেছিলেন। এরপরই তাকে ঘিরে ধরে র‍্যাবসহ আই’নপ্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন। তারা পাপিয়াকে তাদের সঙ্গে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। পাপিয়া সে সময় ক্ষু’ব্ধ হয়ে ওঠেন এবং তাকে চ্যালেঞ্জ করেন। পাপিয়া বলেন যে, ‘তোমরা জানো আমি কে?’*

*এর উত্তরে পাপিয়াকে আইনপ্রয়ো’গকারী সংস্থার কর্তারা বলেন যে, আপনি যে-ই হোন না কেন, আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। আমাদের সঙ্গে আপনাকে যেতে হবে। ২/৩ মিনিটের কথা কাটা’কাটির পর পাপিয়া বুঝতে পারেন তিনি যে মে’সেজ পেয়েছিলেন, তা সত্য। তখনই ভে’ঙে পড়েন পাপিয়া। কিন্তু কী মে’সেজ পেয়েছিলেন পাপিয়া?*

*উল্লেখ্য যে, বৃহস্পতিবার একজন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা পাপিয়াকে ফোন করেন যার সঙ্গে পাপিয়ার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তিনি পাপিয়াকে জানান যে, তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী জেনেছেন। তুমি যত দ্রুত সম্ভব, দেশ ত্যাগ করো। এই টেলিফোন মেসেজ পাওয়ার পরপরই পাপিয়া ওয়েস্টিন হোটেল ত্যাগ করেন এবং ঢাকায় তার বাসায় গিয়ে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।*
*সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগের এই প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে বৃহস্পতি ও শুক্রবার পাপিয়ার ২১ দফা টেলি কথোপকথনের তথ্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার হাতে এসেছে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে তার পরিচয় গোপন করা হচ্ছে।*

*অনুসন্ধানে জানা গেছে যে, পাপিয়া বিভিন্ন মহলে দেনদরবার করতেন, তদবির বাণিজ্য করতেন, নিয়োগ বাণিজ্য করতেন। প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরকে তিনি ওয়েস্টিনে নিয়ে এসে নারী এবং মদ দিয়ে আকৃষ্ট করতেন। সেই সব ছবি তুলে পরবর্তীতে তাদেরকে ব্ল্যাকমেইল করতেন। এরকম একটি ঘটনায় একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছিলেন পাপিয়া। সেই বিরোধের জের হিসেবেই ওই ব্যক্তি র‍্যাবসহ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কাছে অভিযোগ করেন। পাপিয়া যে ওয়েস্টিন হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট ভাড়া নিয়ে যাচ্ছেন এ সম্পর্কে তথ্য প্রমাণও দেন তিনি।*

*জানা গেছে যে, ওই প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গেও পাপিয়ার সখ্যতা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে পাপিয়ার একটি কাজ না করে দেওয়ার জন্য তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সে সময় পাপিয়া তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। তার কাছে যে সমস্ত ছবি আছে সেগুলো ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়া দিয়ে তাকে ‘বেইজ্জত’ করবেন। এই ব্যক্তি পরবর্তীতে নিজের সম্মান বাঁচানোর জন্যই পাপিয়ার অপকর্ম সম্পর্কে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে জানান। এর পরপরই র‌্যাবের টিম অনুসন্ধান চালায় ওয়েস্টিন হোটেলে। তারা জানতে পারে, ৮২ লাখ টাকায় প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট বুক করে দীর্ঘদিন ছিলেন পাপিয়া। এ সম্পর্কে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য পায়। সমস্ত তথ্য প্রমানাদি নিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন।*

*সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, পাপিয়ার নেটওয়ার্ক যত দীর্ঘ বিস্তৃত ছিল, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা প্রধানমন্ত্রী ছাড়া অন্য কারো কাছে এই তথ্যগুলো জানাতে বিশ্বাস পাচ্ছিলেন না। প্রধানমন্ত্রী তথ্য প্রমাণাদি দেখার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এই সময় প্রধানমন্ত্রী আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেন। অপরাধি যেই হবে তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে। এই ব্যাপারে তার (প্রধানমন্ত্রী) অনুমতি নেওয়ার দরকার নেই।*

*প্রশ্ন হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী যখন পাপিয়ার এই ঘটনাটি জানলেন এবং নির্দেশনা দিলেন; সেই সময় কেউ না কেউ এই নির্দেশনার খবরটি জেনেছিলেন। তারপরপরই পাপিয়াকে এই তথ্য জানানো হয়েছিল যে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ হচ্ছে। তিনি যেন গা ঢাকা দেয়।*
*জানা গেছে যে, প্রথমে পাপিয়া এমন তথ্য বিশ্বাস করেনি। পরবর্তীতে পাপিয়া বিশ্বাস করে দেশত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার হাতে ধরা পরেন।*

*যিনি পাপিয়াকে এই নির্দেশনা দিয়েছিলেন, ওই ৪৮ ঘন্টা পাপিয়া যাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন তাদের সবাই এখন গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যে রয়েছে। তাদের সঙ্গে পাপিয়ার সম্পর্ক কি এবং কিভাবে তারা পাপিয়াকে সহযোগিতা করতেন এ সম্পর্কে তথ্যগুলো গোয়েন্দারা সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। এই সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করলেই পাপিয়া উত্থানের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পাবে বলে মনে করছেন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা।*