প্রচ্ছদ আইন-আদালত *যুব মহিলা লীগের ১১ নে’ত্রী গো’য়েন্দা নজ’রদারিতে*

*যুব মহিলা লীগের ১১ নে’ত্রী গো’য়েন্দা নজ’রদারিতে*

935
*যুব মহিলা লীগের ১১ নেত্রী গোয়েন্দা নজরদারিতে*

*পাপিয়া কে’লেঙ্কারির পর আওয়ামী লীগের ট’নক নড়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যারাই পাপিয়ার মত দু’স্কর্ম করছেন, তাদেরকে আই’নের আওতায় আনার ক’ঠোর নির্দে’শনা দিয়েছেন। জানা গেছে যে, গোয়ে’ন্দারা আরো ১১ পাপিয়ার স’ন্ধান পেয়েছে। এরা গো’য়েন্দা ন’জরদারিতে রয়েছে।*

*এদের মধ্যে ৬ জন হলেন কেন্দ্রীয় নে’তা, যাদের কাজ হলো টেন্ডা’রবাজি, নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য বা বিভিন্ন ধরণের সুযোগ সুবিধা পাওয়ার জন্য কাজ বা’গিয়ে নেওয়া। এই ছয়জনই নিয়মিত স’চিবালয়ে যান এবং বিভিন্ন তদ’বিরের সঙ্গে জড়িত থাকেন। এদের সচি’বালয়ের পা’স বাতি’ল করা হচ্ছে খুব শিঘ্রই। আর বাকি ৫জন স্থানীয় পর্যায়ের যুব মহিলা লীগের নে’তা। তারাও এলাকায় দা’পট দেখান। মন্ত্রী, এম’পিদের সঙ্গে ছবি তুলে তা সামাজিক মাধ্যমে দিয়ে নিজেদের ক্ষম’তা জা’হির করার চেষ্টা করেন। স্থানীয় টেন্ডা’রবাজিতে রয়েছে তাদের ব্যপক ভূমিকা।*
*এই ১১ জনই গো’য়েন্দা নজ’রদারিতে আছে। খুব শিঘ্রই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানা গেছে।*

*অ’শ্লীল ভি’ডিওতে ঠাসা পাপিয়ার মোবাইল ফোন*
*রাজধানীর অ’পরাধ সাম্রাজ্যের রাণী বলা হয়ে থাকে যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউকে। অভিজাত হোটেলে সুন্দরী সরবরাহ, তরুণীদের দিয়ে প্রভাবশালীদের ব্লাকমেইল এসব করেই উত্থান তার। মা’দক ব্যবসা, ক্যাসিনো, অ’বৈধ অ’স্ত্রের ব্যবসা, চাকরি দেয়ার নাম করে প্র’তারণা সবেই করতেন এই দো’র্দণ্ড প্রতাপশালী নেত্রী। পাপিয়ার অ’পরাধের সাক্ষী তার ব্যবহৃত মোবা’ইল ফো’ন, যা এখন আইনশৃংখলা বাহি’নীর হাতে।*

*র‌্যা’বের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাপিয়া পিউয়ের মোবাইল ফোন অ’শ্লীল ভিডি’ওতে ঠাসা। এতে রয়েছে রাতের আড্ডায় ঘটা নানা অপকর্মের ভি’ডিও। বিভিন্ন হোটেলে নাচাগানার আসরে ভিআ’ইপিদের উপস্থিতি ভি’ডিও করে রেখেছেন পাপিয়া। আমলা, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুন্দরী তরুণীদের নিয়ে হোটেলে মনোরঞ্জনের বিশেষ মুহূর্ত তাদের অজান্তেই ভি’ডিও করে রাখতেন পাপিয়া। তার মো’বাইল ফো’ন ঘেটে এগুলো পাওয়া গেছে।*

*এসব ভি’ডিওতে সুন্দরী তরুণীদের সঙ্গে উঠতি শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী ছাড়াও আমলা এবং কয়েকজন রাজনৈতিক নে’তার অ’শ্লীল ছবি রয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি ভি’ডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।*
*র‌্যা’বের এক কর্মকর্তা জানান, রাজনীতির নারীদের নিয়ে ‘বাণিজ্য’ করতেন পাপিয়া। রাজধানীর অভিজাত হোটে’লগুলোয় মাঝেমধ্যেই ‘ককটেল পার্টি’র আয়োজন করতেন। এসব পার্টিতে উপস্থিত হতেন সমাজের উচ্চস্তরের লোকজন। ম’দের পাশাপাশি পার্টিতে উপস্থিত থাকত উঠতি বয়সী সুন্দরী তরুণীরা।*

*ম’দের নে’শায় টা’লমাটাল আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে কৌশলে ধারণ করা হতো ওই তরুণীদের অ’শ্লীল ভি’ডিও। পরে ওইসব ভি’ডিও ফে’সবুকে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করতেন পাপিয়া। বনিবনা না হলেই ফে’সবুকে ছড়িয়েও দেয়া হতো।*
*নাম প্রকাশ না করার শর্তে র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা বলেছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই পাপিয়ার কাছ থেকে বেরিয়ে আসছে একের পর এক মাথা ঘুরিয়ে দেয়া খবর। পাপিয়ার অপকর্মের সঙ্গীদের ধরতে এরই মধ্যে একাধিক অভি’যান চালানো হয়েছে। অভিযান চলছে।*

*র‌্যা’বের তদ’ন্ত সংশ্লি’ষ্ট কর্মকর্তা জানানন, রাজধানীর তেজগাঁওয়ে এফ’ডিসি গেট সংলগ্ন এলাকায় পাপিয়ার যৌথ মালিকানাধীন শোরুম ‘কা’র এক্স’চেঞ্জ’ এবং নরসিংদীতে ‘কেএমসি কার ওয়া’শ অ্যা’ন্ড অ’টো স’লুশন’ নামে গাড়ি সা’র্ভিসিং সে’ন্টার রয়েছে। তবে এসব ব্যবসার আড়ালে অবৈধ অ’স্ত্র, মাদ’ক ব্যবসা, চাঁ’দাবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডই ছিল তার প্রধান কাজ। অধিকাংশ সময়ই তিনি নরসিংদী ও ঢাকার বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থান করতেন। চাঁ’দাবাজির জন্য নরসিংদীতে তার ক্যা’ডার বা’হিনীও আছে।*
*র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা বলেন, তাদের মূল ব্যবসা ছিল উঠতি শিল্পপতি-ব্যবসায়ীসহ সমাজের উঁচুস্তরের লোকদের ব্ল্যা’কমেইল করে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা বলেছেন, নরসিংদী ও ঢাকার অনেক তরুণীকে চাকরির নামে তারকা হোটেলে ডেকে পা’র্টি গা’র্ল হিসেবে ব্যবহার করা হতো।*

*এছাড়া ফেস’বুকে প্রকাশ্যে যৌ’ন ব্যবসার গ্রুপ ‘এসকর্ট’ থেকেও সুন্দরীদের সংগ্রহ করতেন পাপিয়া। পরে টাকার প্রলো’ভন দেখিয়ে অনেককে শয্যাসঙ্গী করতে বাধ্য করতেন। এসব কুকর্মের বেশকিছু ভি’ডিও এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে।*
*কী আছে এসব ভি’ডিও ক্লিপে? এমন প্রশ্নে র‌্যাব কর্মকর্তা বলেছেন, পাপিয়ার মোবাইল ফোন অশ্লীল ভিডিওতে ঠাসা। অশ্লী’ল ভি’ডিও তুলে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করতেন পাপিয়া। লজ্জায় কেউ মুখ খুলত না। এসব ভিডিওতে থাকা ৭ জন উঠতি বয়সী তরুণীর সঙ্গে র‌্যাবের কথা হয়েছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, টিপসের বাইরে এসব তরুণীকে মাসে ৩০ হাজার টাকা করে দিতেন পাপিয়া। এসব তরুণীকে আইনের আওতায় আনা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা বলেন, তাদের অপরাধের বিষয়টিও অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এসব তরুণী যদি ব্ল্যাকমেইলের সঙ্গে যুক্ত থাকেন তবে তাদেরও আইনের মুখোমুখি হতে হবে।*

*লাইফটাই শেষ হয়ে গেল: পাপিয়া*
*মাদক ব্যবসা, হোটেলে তরুণী সরবরাহ, অবৈধ অস্ত্র ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্লাকমেইলিংয়ের অভিযোগে গ্রেফতার যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়া এখন ১৫ দিনের পুলিশি রিমান্ডে। অবৈধ কর্মকাণ্ডে দাবিয়ে বেড়ানো এই নেত্রী এখন বিমর্ষ। ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কাও কাজ করছে তার মধ্যে।*
*পাপিয়ার মধ্যে অপরাধবোধ কাজ না করলেও এতটুকু বুঝতে পেরেছেন ইমেজে যে কালিমা পড়েছে তাতে তার ভবিষ্যত অন্ধকার।*
*সোমবার বিকালে ঢাকার হাকিম আদালতে তিন মামলার রিমান্ড শুনানির সময় তাকে উৎকণ্ঠিত দেখা গেছে। বিচারক পরিবর্তনের ফাঁকে এক আইনজীবীকে পাপিয়া বলেন, ‘আমার লাইফটাই শেষ হয়ে গেল!’*

*এদিন বেলা ৩টা ২৯ মিনিটে প্রথমে পুরুষ আসামিদের কাঠগড়ায় তোলা হয়। নারী পুলিশ সদস্যরা পাপিয়াসহ দুই নারী আসামিকে কাঠগড়ায় না নিয়ে আইনজীবীদের চেয়ারে বসানোর চেষ্টা করেন। তবে উপস্থিত আইনজীবীদের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত অপরাধ জগতের এই রাণীকে কাঠগড়ায় তোলা হয়।*
*কালো স্কার্ফ ও লেস দেয়া লিলেনের সালোয়ার কামিজ পরা পাপিয়া কাঠগড়ায় উঠে শুরুতে মাথা নিচু করে মেঝের দিকে তাকিয়ে থাকেন। কিছু সময় পর তাকে মুখ তুলে দুপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শুনেন। এ সময় তাকে খুবই বিমর্ষ দেখা যায়। আইনজীবীদের কথা বলার সময় মাঝে কয়েকবার স্বামী সুমনের সঙ্গেও আলাপ করেন পাপিয়া। তবে সুমন এবং তাদের দুই সহযোগীকে এসময় নির্বিকার দেখা গেছে।*

*রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান হিরন এ সময় আদালতকে বলেন, চাকরি দেয়ার নাম করে পাপিয়া বিভিন্ন লোককে ব্ল্যা’কমেইল করত, নারীদের বিনোদনের কাজে লাগাত। বিত্তবানদের মনোরঞ্জনের জন্য বিলাসবহুল হোটেলে নিয়ে যেত আমন্ত্রণ করে। পরে সেসব নারীর সঙ্গে তাদের ছবি ও ভিডিও রেখে ব্ল্যাকমেইল, হয়রানি করত, অর্থ আদায় করত। এসব অপরাধের মূলহোতা পাপিয়া।*
*এরপর একজন আইনজীবী কাঠগড়ার সামনে এসে পাপিয়া এবং তার স্বামীকে বলেন, ‘আপনারা যদি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন, তাহলে পুলিশের শেখানো কোনো কিছু বলবেন না।’*

*এ সময় পাপিয়াকে হতাশা প্রকাশে করে বলতে শোনা যায়, ‘আমি কী অপরাধ করলাম!’ অন্য দুই মামলায় শুনানির জন্য নতুন হাকিম এজলাসে এসে আসন নিলে কিছুটা বিস্ময়ের দৃষ্টিতে তাকাতে দেখা যায় পাপিয়াকে।*
*আদালত চলাকালে বিচারক পাপিয়াসহ অন্য আসামিদের কিছু জিজ্ঞাসা করেননি, তারা নিজে থেকে কোনো কথা বলেননি।*
*আদালত থেকে বেরিয়ে আসার পর সাংবাদিকরা ঘিরে ধরেন পাপিয়া ও তার স্বামীকে। এ সময় পাপিয়া নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করেন। মাথায় ওড়না দেয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এসময় পাপিয়ার স্বামী সুমন কিছুটা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি পুলিশকে জিজ্ঞেস করেন পাপিয়ার সঙ্গে এমন আচরণের কারণ কী? পুলিশ সদস্যরা বলেন, ছবি তোলার সুযোগ দিতে হবে, চেহারা ঢাকা যাবে না।*

*এদিন পাপিয়াকে দেখতে আদালতে ভিড় করেন বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিকাল ৩টা ২৫ মিনিটে আদালতের এজলাসে হাজির করা হয় পাপিয়াকে। এর পর কাঠগড়ার পাশে একটি চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায় তাকে। এ সময় পাপিয়াকে না দেখতে পেয়ে সেখানে উপস্থিত বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, ‘তাকে কাঠগড়ায় উঠানো হচ্ছে না কেন?’ বিচারক এজলাসে আসেন ৩টা ৪৫ মিনিটে। এর পর পাপিয়াকে কাঠগড়ায় উঠানো হয়। ছবি তুলতে চাইলে আসামি শেখ তায়্যিবা এক সাংবাদিককে বলেন, ‘আপনি ছবি উঠাচ্ছেন কেন?’*
*শনিবার দুপুরে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে দেশত্যাগের সময় শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউসহ (২৮) চারজনকে আটক করে র‌্যাব-১। পাপিয়া নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন।*