প্রচ্ছদ জীবন-যাপন *কী হতো পাপিয়ার ‘ক’কটেল পা’র্টিতে?*

*কী হতো পাপিয়ার ‘ক’কটেল পা’র্টিতে?*

524
*কী হতো পাপিয়ার ‘ককটেল পার্টি’তে?*

*রাজধানীর অভিজাত হো’টেলগুলোতে সুন্দরী তরুণী সরবরাহ করতেন যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নে’ত্রী শামিমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউ। এসব হো’টেলে প্রায়ই আসর জমাতেন তিনি। পাপিয়ার এই পা’র্টির একটা বিশেষ নামও ছিল। ‘ক’কটেল পা’র্টি’ নামে ওই নাচগানের আসরে মউ’জ মা’স্তিতে মেতে ওঠতেন নামি-দামি ব্যবসায়ী, আমলা, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি ও রাজনীতিবিদরা। ওই অ’শ্লীল নাচ-গানের ভি’ডিও করে রাখা হতো সুকৌশলে। পরবর্তীতে ওই ভি’ডিও ব্যবহার করে ব্ল্যা’কমেইল করা হতো প্রভাবশালীদের। এভাবে তাদের কাছ থেকে বড় বড় কাজ বা’গিয়ে আনতেন পাপিয়া।*

*পাপিয়াকে গ্রেফতারের পর তার ব্যবহৃত মু’ঠোফোন ঘেটে বেশ কিছু ভি’ডিও পেয়েছে আ’ইন-শৃঙ্খলাবাহিনী। ওইসব ভি’ডিওর কোনও কোনওটি এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। যা দেখে সবাই ধিক দিচ্ছেন মু’খোশপরা মানুষগুলোকে। এ নিয়ে দু’দিন ধরে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।*
*র‌্যা’বের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভি’আইপিদের অ’শ্লীল ভি’ডিও ধারণ করে ব্লা’কমেইল করে পাপিয়া অল্প সময়েই তিনি নরসিংদী ও ঢাকায় একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি, গা’ড়ি, ফ্ল্যা’ট, প্ল’টসহ বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের মালিক বনে গেছেন। পাপিয়ার স্বামী সুমন স্ত্রীর ব্যবসায় সহযোগিতার পাশাপাশি থাইল্যান্ডে বা’রের ব্যবসা করেন।*

*তাদের মূল ব্যবসা ছিল উঠতি শিল্পপতি-ব্যবসায়ীসহ সমাজের উঁচুস্তরের লোকদের ব্ল্যা’কমেইল করে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়।*
*আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা বলেছেন, নরসিংদী ও ঢাকার অনেক তরুণীকে চাকরির নামে তারকা হোটেলে ডেকে ‘পার্টি গার্ল’ হিসেবে ব্যবহার করা হতো।*
*ফে’সবুকে প্রকাশ্যে যৌন ব্যবসার গ্রু’প ‘এস’কর্ট’ থেকেও সুন্দরীদের সংগ্রহ করতেন পাপিয়া। পরে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে অনেককে শয্যাসঙ্গী করতে বাধ্য করতেন। এসব কুকর্মের বেশকিছু ভিডিও এখন আ’ইন-শৃঙ্খলা বাহি’নীর হাতে।*

*কী আছে এসব ভি’ডিও ক্লি’পে? এমন প্রশ্নে র‌্যাব কর্মকর্তা বলেছেন, পাপিয়ার মোবাইল ফোন অশ্লীল ভিডিওতে ঠাসা। অশ্লী’ল ভি’ডিও তুলে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করতেন পাপিয়া। লজ্জায় কেউ মুখ খুলত না। এসব ভি’ডিওতে থাকা ৭ জন উঠতি বয়সী তরুণীর সঙ্গে র‌্যাবের কথা হয়েছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, টি’পসের বাইরে এসব তরুণীকে মাসে ৩০ হাজার টাকা করে দিতেন পাপিয়া। এসব তরুণীকে আইনের আওতায় আনা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা বলেন, তাদের অপরাধের বিষয়টিও অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এসব তরুণী যদি ব্ল্যাকমেইলের সঙ্গে যুক্ত থাকেন তবে তাদেরও আইনের মুখোমুখি হতে হবে।*

*র‌্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, রাজনীতির আড়ালে মা’দক ও নারীদের নিয়ে ‘বাণিজ্য’ করতেন পাপিয়া। রাজধানীর তারকা হো’টেলগুলোয় মাঝে-মধ্যেই ‘ককটেল পার্টি’র আয়োজন করতেন। এসব পার্টিতে উপস্থিত হতেন সমাজের উচ্চস্তরের লোকজন। পার্টিতে নাচাগানার তালে তালে ভিআইপিদের মদ সরবরাহ করতো উঠতি বয়সী সুন্দরী তরুণীরা।*
*মদের নেশায় টালমাটাল আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে কৌশলে ধারণ করা হতো ওই তরুণীদের অ’শ্লীল ভি’ডিও। পরে ওইসব ভি’ডিও ফে’সবুকে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করতেন পাপিয়া। বনিবনা না হলেই ফে’সবুকে ছড়িয়েও দেয়া হতো।*

*প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই পাপিয়ার কাছ থেকে বেরিয়ে আসছে একের পর এক মাথা ঘুরিয়ে দেয়া খবর। পাপিয়ার অপকর্মের সঙ্গীদের ধরতে এরই মধ্যে একাধিক অভিযান চালানো হয়েছে।*
*পাপিয়ার বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎস জানার চেষ্টা করছে র‌্যাব। র‌্যাব জানতে পেরেছে, পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন চৌধুরী অন’লাইন ক্যা’সিনোর গড’ফাদার সেলিম প্রধানের গুলশানের বাসায় ক্যা’সিনো খেলতেন। সেলিম প্রধান কারাগারে গেলেও অনেকেই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান। এদের মধ্যে পাপিয়া ও সুমন চৌধুরী অন্যতম।*

*জানা যায়, ২০০০ সালের দিকে নরসিংদী শহর ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক মফিজুর রহমান চৌধুরী সুমনের উত্থান শুরু। শৈশব থেকেই চাঁ’দাবাজি সন্ত্রা’সী কর্মকাণ্ড ও ব্ল্যা’কমেইল ছিল সুমনের প্রধান পেশা। চতুর সুমন রাজনীতিবিদদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। ২০০১ সালে পৌরসভার কমিশনার মানিক মিয়াকে যাত্রা প্যান্ডেলে গিয়ে হত্যার পর তিনি আলোচনায় আসেন। এরই মধ্যে পাপিয়া চৌধুরীকে বিয়ে করেন তিনি। এর পর তিনি স্ত্রী পাপিয়াকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করান।*