প্রচ্ছদ স্পটলাইট *পাপিয়ার সঙ্গে ব্যবসায়ী নূর আলী ও তারেকের কি সম্প’র্ক?*

*পাপিয়ার সঙ্গে ব্যবসায়ী নূর আলী ও তারেকের কি সম্প’র্ক?*

4758
*পাপিয়ার সঙ্গে ব্যবসায়ী নূর আলী ও তারেকের কি সম্পর্ক?*

*এক এগারো সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বি’রুদ্ধে করা চাঁ’দাবাজির মা’মলার বাদী ব্যবসায়ী নুর আলীর সাথে নরসিংদীর জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়ার সখ্যতার একটি ভি’ডিও ফেসবু’কে ভাই’রাল হয়েছে।*
*সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১ মিনিট ১৪ সেকে’ন্ডের ভি’ডিওতে হোটেল ওয়ে’স্টিনে শামিমা নূর পাপিয়ার সাথে ব্যবসায়ী নুর আলীকে খোশগল্প করতে দেখা যায়। এসময় আরে ৮ জন তরুণী হো’টেলের ল’বিতে ব্যবসায়ী নুর আলীর সামনে বসে থাকতে দেখা গেছে।*

*ভি’ডিওটি ফে’সবুকে আপ’লোড দিয়ে অ’নলাইন অ্যাক’টিভিষ্ট ‘সুলতান মির্জা’ লিখেন ‘হো’টেল ওয়ে’স্টিনে পাপিয়া পিউ ব্যবসায়ী নুর আলীর সঙ্গে খোশগল্পে’।*
*জানা যায়, পাপিয়ার কাছ থেকে গোপন ক্যামেরায় ধারণকৃত অনেক ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী ব্যক্তির অন্তরঙ্গ দৃশ্যের ভি’ডিও ক্লি’প উ’দ্ধার করেছেন র‌্যাব কর্মকর্তারা।*
*উদ্ধার হওয়া এক ভিডি’ও ক্লি’পে দেখা গেছে, হো’টেল ওয়ে’স্টিনে পাপিয়া পিউ তার কথিত এক্স’ক্লুসিভ গা’র্লদের সাথে নিয়ে ব্যবসায়ী নুর আলীর সঙ্গে খোশগল্পে মত্ত রয়েছেন। পাপিয়া তার সকল অপরাধ কর্ম চালাতো যে হো’টেল ওয়ে’স্টিনে তার মালিকও এই নূর আলী।*

*ঋণ খেলাপীসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে নূর আলীর বি’রুদ্ধে। পাপিয়া গ্রেফতারের পর নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন ব্যবসায়ী নূর আলী।*
*নূর আলী ইউ’নিক গ্রু’পের চেয়ার’ম্যান ও বো’রাক রি’য়েল এ’স্টেট প্রা’ইভেট লি’মিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে নূর আলীকে ২০১৯ সালের জুনে তলব করে দুর্নী’তি দম’ন কমি’শন (দুদ’ক)।*

*দু’দক সূত্র জানায়, ১৯৯৮ সালে বনানীর সি’টি কর’পোরেশন মার্কেটে বোরাক রিয়েল এস্টে’ট প্রা’ইভেট লিমিটেড ১৪ তলা ভবন নির্মাণের অনুমতি নেয়। কিন্তু কোম্পানিটি অনুমতি ছাড়াই ২৮ তলা ভবন নির্মাণ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।*
*জানা যায়, বাংলাদেশে ফোর, ফাইভ ও সেভেন স্টার চেইন হোটেল আনেন এই নূর আলী। জবরদস্তি করে দেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খানের জনপ্রিয় পত্রিকা আমাদেরসময় দখলের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।*

*উল্লেখ্য, ইউনিক গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূর আলী ২০০৭ সালের ১৩ জুন তেজগাঁও থানায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা, চাচাতো ভাই শেখ হেলাল ও তার স্ত্রী রূপা চৌধুরীকে আসামি করে একটি চাঁদাবাজির মামলা করেন। এক এগারো সরকার আমলে করা এই মামলায় শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার হয়ে জেলেও যেতে হয়েছে। পরবর্তীতে দীর্ঘ তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে পুলিশ এ মামলায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা, চাচাতো ভাই শেখ হেলাল ও তার স্ত্রী রূপা চৌধুরীকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয় আদালত।*

*তারেকের হাত ধরেই অন্ধকার জগতে পা রাখেন পাপিয়া?*
*বহুল আলোচিত নরসিংদী জেলার যুবনেত্রী সাধারণ সম্পাদক শামিমা নূর পাপিয়াকে গত শনিবার র‌্যাব বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে। তাকে আদালতে তোলা হলে তার ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সূত্রে জানা গেছে যে, গ্রেপ্তারের পর পাপিয়ার মোবাইল ফোনগুলো জব্দ করেছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা। সেই সূত্র ধরেই নিশ্চিত হওয়া গেছে ২০০১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মাধ্যমেই অন্ধকার জগতে পা রেখেছিলেন পাপিয়া।*
*সূত্র বলছে, তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের সাথে ১৯৯৯ সাল থেকেই এক ক্লাবে পরিচয় হয় শামিমা নূর পাপিয়ার। সেখান থেকেই মামুনের হাত ধরে শামিমা নূর পাপিয়ার তারেক রহমানের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। হাওয়া ভবনে প্রায়শই তারেকের সাথে রাত্রিযাপন করতেন এই পাপিয়া পিউ।*

*জানা যায়, মোবাইল ফোনগুলোতে পাপিয়ার অনেক ভিআইপির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পেয়েছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা। বিশেষ করে অতীত জীবনে তারেক রহমান ও গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের সাথে সখ্যতার বিষয়টি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তারেক রহমানের মিশন বাস্তবায়ন করার জন্যই এই পাপিয়াকে সুকৌশলে যুব মহিলা লীগে প্রবেশ করায় বিএনপি। মোবাইলে ১১ জন বিএনপির শীর্ষ নেতার সাথে যোগাযোগ হয় এমন মোবাইল নাম্বার পাওয়া গেছে। এই মোবাইল নাম্বারে পাপিয়া গ্রেপ্তার হওয়ার আগের দিন পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে বিদেশে অবস্থানরত বিএনপির নেতাদের সাথে কথা বলেছেন।*

*এছাড়াও পাপিয়ার মোবাইলে ৩৩ জন বিএনপিপন্থী স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর সাথে যোগাযোগ রাখার একটি তালিকা পাওয়া গেছে। এই ৩৩ জন বিএনপি-জামায়াতের ব্যবসায়ীর সঙ্গে পাপিয়া নিয়মিত যোগাযোগ করতো। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শনিবার যখন তাকে বিমানবন্দরে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা (র‌্যাব) আটক করে তখনও পাপিয়া নিজেকে বাঁচানোর জন্য তাদেরকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তাদেরকে এটাও বলেছিলেন, আমি তারেক এর লোক তোরা জানিস?*

*সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, র‌্যাবের অমনমনীয় দৃঢ়তার মুখে শেষ পর্যন্ত পাপিয়া নমনীয় হন এবং তারপর তিনি তার অপরাধগুলো স্বীকার করতে থাকেন। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা বলছে, এই কল লিস্ট মোবাইল অপারেটরদের কাছ থেকে আনা হয়েছে। এই ১৫ দিনের রিমান্ডে যাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ, যাদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলতেন, তাদের ব্যাপারে তথ্য বের করবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।*