প্রচ্ছদ স্পটলাইট *নিজের দলের হাতেই লা’ঞ্চিত নে’তারা*

*নিজের দলের হাতেই লা’ঞ্চিত নে’তারা*

254
*নিজের দলের হাতেই লাঞ্চিত নেতারা*

*সাধারণত বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রতিপক্ষের ওপর হা’মলা-আক্র’মণ স্বাভাবিক ঘট’না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার জন্য প্রতিপক্ষের নে’তাদের ওপর চ’ড়াও হয়। কখনো যে দল ক্ষমতায় থাকে তার বিরোধী দলের ওপর আইনপ্রয়োগকারী সংস্থারা চ’ড়াও হয়। অথবা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পৃষ্টপোষকতায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর আ’ক্রমণ করে অন্য দলের ক্যা’ডাররা। তবে এর বাইরে কিছু ঘটনা রয়েছে, দলের ভিতর বিভিন্ন নে’তার কর্ম’কাণ্ডে অস’ন্তুষ্ট হয়ে তাকে আ’ক্রমন এবং লা’ঞ্চিত করে। দলের নেতৃত্বের বিরোধীতা বা দলের স্বার্থ বিরোধী তৎপরতা জন্য দলের ভিতরের অনেককেই লাঞ্চিত করেছে। বাংলাদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিভিন্ন সময় লাঞ্চি’ত হয়েছে। আসুন দেখে নেওয়া যাক কারা কখন কিভাবে লা’ঞ্চিত হয়েছেন।*

*ড. কামাল হোসেন: ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের ক্ষতবিক্ষত অবস্থা ছিল। এসময় আওয়ামী লীগের সভাপতির নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন ড. কামাল হোসেন। ড. কামাল সেসময় নির্বাচনে পরাজয়ের দায়ভার নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতিকে সরে যেতে বলেছিলেন। আওয়ামী লীগ সভাপতিও তখন পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা সাজেদা চৈৗধুরীর কাছে। কিন্তু নেতাকর্মীদের আবেগের কাছে তিনি শেষ পর্যন্ত পরাজিত হন। পরে নেতাকর্মীরা জানতে পারেন যে ড. কামাল হোসেনের কারণেই দলের সভাপতি এরকম একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। এরপর ড. কামাল হোসেনকে ধানমন্ডি ৩২ এর সামনে লাঞ্ছিত করেন দলের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।*

*মুকুল বোস: আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটে ওয়ান ইলেভেনের সময়। ২০০৮ আওয়ামী লীগের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুকুল বোস গিয়েছিলেন ধানমন্ডি ৩ এর আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে। সেসময় তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতিকে মাইনাস করার ক্ষেত্রে জোরালো কণ্ঠস্বর ছিলেন এবং তিনি সরাসরি শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। এ কারণে মুকুল বোস দলের নেতাকর্মীদের রোষানলে পড়েছিলেন। তাকে সেখানে উত্তম-মধ্যম দেওয়া হয়েছিল।*

*লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান: জেনারেল অব. মাহবুবুর রহমান বিএনপির শীর্ষনেতা ছিলেন। ওয়ান ইলেভেনে তিনি সংস্কারপন্থীদের অন্যতম ছিলেন। এ কারণেই তিনি বেগম খালেদা জিয়াকে মাইনাস করতে চেয়েছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। ২০০৮ সালে জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারতের সময় তিনি নেতাকর্মীদের রোষানলে পড়ে। তাকে দ্বিগম্বর করে দেয় বিক্ষুব্ধ বিএনপির নেতাকর্মীরা।*

*আব্দুল মান্নান ভূইয়া: ২০০৮ সালে ওয়ান ইলেভেনের সময় আব্দুল মান্নান ভূইয়া ছিলেন বিএনপির মহাসচিব। সংস্কারপন্থীদের অন্যতম হোতা ছিলেন তিনি। এ কারণে বিএনপির নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ ছিল। বিএনপির দলীয় কার্যালয় নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার সময় দলের ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের হাতে আক্রান্ত হন মান্নান ভূইয়া। তাকে লাঞ্ছিত করেন নেতাকর্মীরা।*
*এছাড়া বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী বিএনপির উভয় দলেরই যারা নেতৃত্বের বিরোধিতা করেছিল এবং দলের স্বার্থবিরোধী তৎপরতা করেছিল তারা লাঞ্ছিত হয়েছেন। যারা বিভিন্ন সময়ে এই লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন, তারা মূল রাজনীতি থেকেও ছিটকে পড়েছিলেন।*