প্রচ্ছদ বিশ্ব *‘ভারতের ১৫ কোটি মুসলমান ১০০ কোটি মানুষকে শা’সন করবে’*

*‘ভারতের ১৫ কোটি মুসলমান ১০০ কোটি মানুষকে শা’সন করবে’*

49
*‘ভারতের ১৫ কোটি মুসলমান ১০০ কোটি মানুষকে শাসন করবে'*

*অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন দলের নেতা ওয়ারিস পাঠান বলেছেন, ভারতে মুসলমানদের সংখ্যা মাত্র ১৫ কোটির মতো, তবে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের ১০০ কোটি মানুষকে শাসন করার শক্তি রাখেণ সম্প্রতি কর্নাটকের গুলবার্গা নামক এলাকায় একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।*
*আসামের জাতীয় নাগরিক পঞ্জীতে ১৯ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়ার পর এখন পশ্চিমবঙ্গেও শুরু হয়েছে এনআরসি নিয়ে আতঙ্ক। ভিড় জমেছে স্টেট আর্কাইভসে। এমতাবস্তায়, কর্নাটকের গুলবার্গা নামক এলাকায় ওই জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওয়ারিস পাঠান আরও বলেন, আমরা শুধুমাত্র ১৫ কোটি। কিন্তু, আমাদের শক্তি এদেশের ১০০ কোটি সংখ্যাগরিষ্ঠর থেকে অনেক বেশি।*

*ভারতের বিতর্কিত সংশোধিত নতুন নাগরিকত্ব আইন নিয়ে নারীরা বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলন করছেন সেই বিষয়েরও উল্লেখ করেছেন তিনি। বলেছেন, কেউ কেউ আমাদের বলছেন কেন নারীদের সামনে এগিয়ে দিয়েছি আমরা। আমি তাদের বলতে চাই, শুধুমাত্র সিংহীদের বেরিয়ে আসতে দেখেই আপনাদের ঘাম ঝরছে। তাহলে আপনারা চিন্তা করুন আমরা সবাই যদি একসঙ্গে রাস্তায় বেরিয়ে আসি তাহলে কী হবে।*

*১৯৪৭ সালেই মুসলিমদের পাকিস্তানে পাঠানো উচিত ছিল: ভারতীয় মন্ত্রী*
*ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভার বিতর্কিত মন্তব্যকারী ব্যক্তিদের মধ্যে যার নাম প্রথমের সারিতে আসবে তিনি হলেন দেশটির পশুপালন, দুগ্ধ ও মৎস্য বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং। আবারও মুসলিম-বিদ্বেষী মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। তিনি এবার বলেছেন, ভারতের সব মুসলিমকে ১৯৪৭ সালেই পাকিস্তান পাঠিয়ে দেয়া উচিত ছিল। আজ পূর্বসূরীদের সেই ‘ভুলের’ খেসারত দিতে হচ্ছে তাদের। গত বুধবার বিহারের পুর্নিয়ায় এক সভায় এসব কথা বলেন তিনি। খবর- ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির।*

*নরেন্দ্র মোদির অত্যন্ত আস্থাভাজন এ নেতা আরও বলেন, আমাদের সময় এসেছে জাতির কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার। ১৯৪৭ সালের আগে (মোহাম্মদ আলী) জিন্নাহ একটি মুসলিম রাষ্ট্রের চেষ্টা করেছিলেন। সেটা ছিল আমাদের পূর্বসূরীদের বড় ভুল, আজ আমরা সেই ভুলের মাসুল দিচ্ছি। তখন যদি মুসলিম ভাইদের ওখানে (পাকিস্তান) পাঠানো এবং হিন্দুদের এখানে (ভারত) নিয়ে আসা হতো, তাহলে আজ আর এই পরিস্থিতিতে থাকতাম না।*

*বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) বিরোধিতায় চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই এসব কথা বলেন বিজেপি নেতা গিরিরাজ সিং।*
*সমালোচকরা বলছেন, এই আইনের মাধ্যমে ভারতের নাগরিকত্বপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে ধর্মের পরীক্ষা দাঁড় করানো হয়েছে যা দেশটির সংবিধানবিরোধী। সিএএ ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জির মাধ্যমে ভারতে মুসলিমদের টার্গেট বানানো হচ্ছে বলে দাবি তাদের।*
*বিজেপি নেতা গিরিরাজ সিং এর আগেও বহুবার বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে মুসলিমদের প্রতি তার বিদ্বেষ প্রকাশ করেছেন। মাত্র চারদিন আগেই তিনি উত্তর প্রদেশের ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় দারুল উলুম দেওবন্দকে ‘সন্ত্রাসের উৎস’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।*

*ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির হিসাবে, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাস হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ভারতের রাজনৈতিক নেতারা অন্তত ৬৫ বার মুসলিম-বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়েছেন। এর মধ্যে ৬১ বারই তা এসেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতাদের মুখ থেকে। তাদের মধ্যে আছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও।*
*গিরিরাজ সিংয়ের বুধবারের মন্তব্যের জবাবে দেশটির বামপন্থী নেতা কানহাইয়া কুমার বলেছেন, তিনি (মন্ত্রী) পাকিস্তানের প্রচারণাতেই বেশি সময় পার করছেন। এজন্য তাকে ভিসা মন্ত্রী করা আর তার জন্য লাহোরে একটি ট্র্যাভেল এজেন্সি খুলে দেয়া উচিত।*