প্রচ্ছদ রাজনীতি *খালেদাকে নিয়ে কি সার্কাস চলছে?*

*খালেদাকে নিয়ে কি সার্কাস চলছে?*

51
*খালেদাকে নিয়ে কি সার্কাস চলছে?*

*বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন বেগম খালেদা জিয়া তাকে নিয়ে যা হচ্ছে, তাতে দল এবং পরিবারের ওপর বিরক্ত। আজ সকালে বিএসএমএমইউ-তে বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে এলে তার চিকিৎসকদের কাছে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেন। বেগম জিয়া বলেন, ‘আমাকে নিয়ে সার্কাস চলছে।’*

*বেগম খালেদা জিয়া চেয়েছিলে, যেকোনোভাবে নিজেকে মুক্ত করতে। এজন্য তিনি বিশেষ বিবেচনায় আবেদনের জন্য তার ছোটভাই এবং বোনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই নির্দেশ প্রতিফলিত হয়নি। কারণ তার বদলে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি আবার আইনী দীর্ঘপথে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে যে, আইনী পথে বেগম জিয়াকে মুক্ত করা হবে। বেগম জিয়া এতে বিরক্ত। তিনি মনে করেন, এতে তার সুচিকিৎসা বিলম্বিত হচ্ছে।*
*অন্যদিকে আজও বিএসএমএমইউ- এর চিকিৎসকরা তাকে বায়োলজিক্যাল ইনজেকশন দেওয়ার ব্যাপারে তাকে অনুরোধ করেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এখানে আমি আর কোন চিকিৎসা নেবো না।*

*‘অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট’ বাংলাদেশের কোথায়?*
*বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে আগামী রোববার থেকে হাইকোর্টে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এই শুনানির মূল বিষয় হলো ‘অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট’। বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলছেন যে, গত ১২ ডিসেম্বর মেডিকেল বোর্ডের যেই রিপোর্ট আপিল বিভাগে দেওয়া হয়েছিল সেই মেডিকেল রিপোর্টে বেগম খালেদার অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল।*

*কিন্তু সেই অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট বাংলাদেশে সম্ভব না বিধায়ই তারা খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিরোধিতা করবে সরকার এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সরকার এবং দুদক ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের কোথায় কোথায় অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট রয়েছে তার একটি তালিকা তৈরি করেছে। আগামী রোববার আদালতে বাংলাদেশেই এই ট্রিটমেন্ট সম্ভব বলে তারা যুক্তি প্রদর্শন করবেন। এবং এই অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্টের জন্য যেন বেগম জিয়া সম্মতি দেন। সেই সম্মতির ব্যাপারেও হাইকোর্টের কাছ থেকে নির্দেশনা চাইবেন বলে সরকার এবং দুদকের আইনজীবীদের সূত্রে জানা গেছে।*

*সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে বেগম জিয়ার অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট, এটি কিছু বায়োলজিক্যাল ইনজেকশন। এর জন্য তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এই পরীক্ষার পর তার বায়োলজিক্যাল ইনজেকশনের একটি প্লান তৈরি করা হবে।*
*বাংলাদেশে অন্তত ৫টি হাসপাতালে এটি করা যায় বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, ইউনাইটেড হাসপাতাল, অ্যাপোলো হসপিটাল এবং স্কয়ার হসপিটাল।*
*সূত্রমতে, এই যুক্তির ভিত্তিতেই খালেদা জিয়ার জামিনের বিরোধিতা করবেন আইনজীবীরা।*