প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *এবার কাদেরের কর্তৃত্ব খর্ব করা হচ্ছে!*

*এবার কাদেরের কর্তৃত্ব খর্ব করা হচ্ছে!*

364
*এবার কাদেরের কর্তৃত্ব খর্ব করা হচ্ছে!*

*বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তি ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরে তার অবস্থান। শুধু তাই নয়, সর্বশেষ আওয়ামী লীগের যে কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেই কাউন্সিল অধিবেশনের পরে ওবায়দুল কাদেরের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যে কমিটি গঠন করা হয়েছিল, সেই কমিটি গঠনের ক্ষেত্রেও ওবায়দুল কাদেরের ভূমিকাই ছিল মূল। ওবায়দুল কাদেরের পছন্দের ব্যক্তিরাই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন বলে আওয়ামী লীগের মধ্যেই অভিযোগ রয়েছে।*

*ওবায়দুল কাদের দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বের পাশাপাশি সেতুমন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময় এনিয়ে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের অসন্তোষ এবং অস্বস্তি লুকানো থাকেনি। তারা প্রকাশ্যেই কাদেরের একচ্ছত্র কর্তৃত্বের সমালোচনা করেছেন। এরফলে দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন বলেও আওয়ামী লীগের মধ্যে কানাঘুষা রয়েছে। কিন্তু এবার সেই ওবায়দুল কাদেরের কর্তৃত্বই খর্ব করা হচ্ছে বলে আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।*

*ঢাকা মহানগরীর দুই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার দায়িত্ব প্রধান করা হয়েছে কাজী জাফরুল্লাহ, আব্দুর রাজ্জাক এবং ফারুক খানকে। এই তিনজনই প্রেসিডিয়ামের সদস্য। জানা গেছে যে, আওয়ামী লীগের মহানগরীর এই কমিটিতে যেন সিন্ডিকেট না হয়, একটি বিশেষ গ্রুপ যেন কমিটি করায়ত্ত না করে, এ কারণেই আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটা করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, আওয়ামী লীগের মহানগরের যে বিগত কমিটি সেই কমিটি নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগও ছিল। সে কারণেই এবার কমিটিতে অপেক্ষাকৃত সৎ, স্বচ্ছ এবং দলের জন্য নিষ্ঠাবান নেতাকর্মীদের অন্তর্ভূক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই দলের এই সিনিয়র তিন নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের অঙ্গ, সহযোগি এবং ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলোর কমিটি গঠনের ক্ষেত্রেও ওবায়দুল কাদেরকে বাদ দেওয়া হয়েছে।*

*উল্লেখ্য যে, এর আগে ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের ৪ নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এরা ছিলেন জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, বাহাউদ্দীন নাছিম এবং বিএম মোজাম্মেল। সেই কমিটির গুরুত্ব অনেক বেশি ছিল। এবার তাই যুবলীগ, কৃষকলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগি সংগঠনগুলোর কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দলের সিনিয়র নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে, তবে আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন যে, বিভিন্ন নেতাকে বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়ার অর্থ এই নয় যে ওবায়দুল কাদেরের ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। বরং ওবায়দুল কাদের দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তিনি অসুস্থ। এজন্য তার চাপ কমানোর জন্যই অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।*
*তবে একাধিক সূত্র বলছে যে, আওয়ামী লীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটিতে ওবায়দুল কাদেরের যে একচ্ছত্র কর্তৃত্ব, এই কর্তৃত্ব কমানোর জন্যই অন্যান্য নেতারা যেন নিজেদের গুটিয়ে না নেন- সেজন্যই বিভিন্ন কমিটিগুলো গঠন করা হয়েছে। এরফলে দলের মধ্যে একটি ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ মনে করছেন।*