প্রচ্ছদ স্পটলাইট *মেয়র নাছির-খোকন: পরিণতি কি, গন্তব্য কোন পথে?*

*মেয়র নাছির-খোকন: পরিণতি কি, গন্তব্য কোন পথে?*

83
*মেয়র নাছির-খোকন: পরিণতি কি, গন্তব্য কোন পথে?*

*চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন একই পরিণতি বরণ করলেন। দুজনেই এবার সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে দলের মনোনয়ন লাভে ব্যর্থ হয়েছেন। ইতিমধ্যে ঢাকা দক্ষিণের নতুন মেয়র পদে শেখ ফজলে নূর তাপস নির্বাচিত হয়েছেন। ২৯ মার্চ হবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। এই দুজনের পরিণতির জন্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তাদের নিজেদের পরিণতির জেন্য নিজেরাই দায়ী। দলের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে না পারা। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা রকম সমালোচনা বা সিটি কর্পোরেশনের কাজে জনগণকে সন্তুষ্ট করতে পারেননি এরকম ধারণা দলের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে তৈরী হওয়ার প্রেক্ষিতেই তারা মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন বলে ধারণা করা হয়।*

*এই দুজনের এই পরিণতির জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদেরকেই সবার আগে দায়ী করছেন। কিন্তু দুজনের একই পরিণতি হলেও তাদের গন্তব্য এখন তৃণমূলেই বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।*
*সাঈদ খোকন রাজনীতিতে যুতসই অবস্থান কখনোই করতে পারেননি। তার নিজস্ব কোন কর্মী বাহিনী নেই। তার নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। সাঈদ খোকন এতদূর এসেছেন শুধুমাত্র তার পিতা প্রয়াত মোহাম্মদ হানিফের কল্যানে। মোহাম্মদ হানিফ আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিত নেতা ছিলেন।*

*বিশেষ করে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সময় তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে রক্ষা করেছিলেন। এ কারণেই ওয়ান ইলেভেনের সময় সংস্কারপন্থী হওয়ার পরেও তাকে আবার দলের মধ্যে নিয়ে এসে মেয়র পদে ২০১৫ সালে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। মেয়র পদে তিনি যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারেননি বলে যেমন অভিযোগ রয়েছে, তেমনি আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। যদিও এবার মেয়রপদে বঞ্চিত হওয়ার পর তাকে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য করা হয়েছে। কিন্তু নিজস্ব সাংগঠনিক দক্ষতা, মেধা এবং ধী শক্তি বলে তিনি কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে কতটকু বিকশিত হতে পারেন তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বরং সাঈদ খোকনের রাজনৈতিক জীবনের অমানিশা এবং প্রায় ধূসর অবস্থা দেখছেন অনেকে।*

*অন্যদিকে আ জ ম নাছির চট্টগ্রামের রাজনীতিতে একটি অবিসংবাদিত ফ্যাক্টর। চট্টগ্রামের রাজনীতিতে ব্যাড বয় হিসেবে খ্যাত আ জ ম নাছির। তার বিরুদ্ধে যেমন অনেক অভিযোগ রয়েছে, তেমনি তার সাংগঠনিক দক্ষতা প্রশ্নাতিত। চট্টগ্রামের প্রয়াত ডাকসাইটে নেতা মহিউদ্দীন চৌধুরীর সঙ্গে যুদ্ধ করে তিনি রাজনীতিতে টিকে আছেন। চট্টগ্রামের রাজনীতিতে আ জ ম নাছির একটা বড় ফ্যাক্টর। চট্টগ্রামের ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতিতে আ জ ম নাছিরকে কেউ উপেক্ষা করতে পারবে না। আ জ ম নাছির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব শেষ করার পর চট্টগ্রামের রাজনীতিতে আবার সক্রিয় হবে এটা বলাই বাহুল্য। তার যে সাংগঠনিক আয়োজন আছে, নিজস্ব কর্মী এবং ক্যাডার রয়েছে তা দিয়ে তিনি প্রতিপক্ষকে বিষিয়ে তুলতে পারেন বলে ধারণা করেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।*

*মেয়র পদে মনোনয়ন না পাওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে তিনি চট্টগ্রামের রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা এবং কোন্দলময় পরিস্থিতি তৈরী করতে পারেন বলে অনেকে মনে করছেন। আ জ ম নাছির মেয়র হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন মূলত তার নেতাকর্মীর অবস্থান এবং কোন্দল থেকে মুক্ত হওয়ার কৌশল হিসেবে। সে কারণেই আ জ ম নাছির চট্টগ্রামের রাজনীতিতে নিজেকে আরো বড় ফ্যাক্টর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করবেন। তাই দুজন মনোনয়ন না পেলেও একজন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে তার অবস্থান পোক্ত করবেন, আরেকজন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবেন কিনা সেই প্রশ্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।*