প্রচ্ছদ রাজনীতি *রা’ষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন খালেদার পরিবার?*

*রা’ষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন খালেদার পরিবার?*

44
*রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন খালেদার পরিবার?*

*খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে বিএনপি, খালেদা জিয়ার পরিবার এবং তারেক জিয়া ত্রিমুখী অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তিনটি পক্ষের পরস্পর বিরোধী অবস্থান ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বেগম জিয়ার পরিবার যে কোনো মূল্যে তার মুক্তির পথে এগুচ্ছে।*
*অন্যদিকে আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই খালেদা জিয়ার মুক্তির পথটাকে এখন প্রধান পথ হিসেবে বেছে নিয়েছে বিএনপি। আর এ কারণেই বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন করা হয়েছে। আজ আবার বেগম খালেদা জিয়ার জা’মিনের জন্য হা’ইকোর্ট আবে’দন করা হয়েছে। অন্যদিকে তারেক জিয়া বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে নিরুৎসাহী।*

*এই তিন পক্ষে মধ্যে বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার আবার সরব হয়ে উঠেছে। গত সপ্তাহে বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারব বিএ’সএমিউ’র কাছে তার উন্নতর চিকিৎসার জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেই আবেদনে খালেদা জিয়ার উন্নতর চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছিলেন তিনি।*
*কিন্তু বঙ্গবন্ধু মেডি’কেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে বেগম জিয়ার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে আবার খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নির্দেশ দেয়। এরপর মেডিকলে বোর্ড গত দুই দিনে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু মে’ডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেছেন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়া যেতে পারে। তিনি এটাও বলেছেন এড’ভান্স ট্রি’টমেন্ট যেটা কিছু বায়ো’লজিকাল ইন’জেকশন যেগুলো বঙ্গবন্ধু মে’ডিকেলেই দেওয়া সম্ভব।*

*বি’এসএমএমইউ সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার ভাইকে এই বার্তাটি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আর সে কারণেই বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার এখন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান। সাক্ষাৎ করে তারা রাষ্ট্রপতির কাছে একটা আবেদন জানাতে চান।*
*জানা গেছে, আইনজীবীরা বলছেন রা’ষ্ট্রপতির কাছে দ’ণ্ড স্থগিত বা মওকুফের আবেদন করতে হয়। এ জন্য তাকে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হয়। কিন্তু জিয়া পরিবারের তরফ থেকে বলা হয়েছে সে রকম কোনো আবেদন তারা করছেন না। বরং রাষ্ট্রপতি যেহেতু রাষ্ট্রের অভিভাবক এবং সাংবিধানিক প্রধান সেজন্য রা’ষ্ট্রপতির কাছে একজন সি’নিয়র সি’টিজের অসুস্থ্যতার বিষয়টি জানাবেন। আর রাষ্ট্রপতি যেন তার ক্ষমতার ব্যবহার করে বেগম জিয়াকে মুক্ত করেন সেজন্য অনুরোধ করা হবে।*

*কিন্তু বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্র’পতির এমন কোনো ক্ষমতা নেই। রা’ষ্ট্রপতির কাছে কেউ যদি কেবল ক্ষমা প্রার্থনা করেন তাহলে রাষ্ট্রপতি সেটা বিবেচনা করতে পারেন। কিন্তু তাও সেই ক্ষমা প্রার্থনার আবেদেন যেতে হবে নির্বাহী বিভাগের মাধ্যমে।*
*কাজেই রাষ্ট্র’পতির কাছে আবেদন করে কি লাভ হবে সেটি ‍নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের একাধিক সদস্য আলাপকালে বলেছেন, তারা বেগম খালেদা জিয়ার “সম্মানজনক” মুক্তির সম্ভাব্য সব চেষ্টাই করছেন। সেই চেষ্টার অংশ হিসেবে তারা মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে সাক্ষাৎ করতে আগ্রহী। আর এ ব্যাপারে আগামী দুই/এক দিনের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি বরাবরে একটি চিঠি দেওয়া হবে বলে বেগম জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।*

*উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে রা’ষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার রয়েছে। আর এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে আদালত ট্রাইবুনাল বা অন্য কোনো বিচারালয় কর্তৃক প্রদত্ত যে কোনো দণ্ডের মার্জনা বিলম্ব বিরাম মঞ্জুর করবার এবং যে কোনো দণ্ডের মওকুফ স্থগিত এবং হ্রাস করাবার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকবে।*
*তবে এই ধরনের আবেদনের জন্য ঐ দ’ণ্ডের জন্য তাকে অনুতপ্ত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। প্রশ্ন উঠেছে বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের থেকে এরকম কোনো আবেদন করা হচ্ছে?*

*যদিও বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে ক্ষমা প্রার্থনার প্রশ্নই ওঠে না। তারা শুধু মানবিক কারণের কথা চিন্তা করে এই ধরনের আবেদনের কথা বা সাক্ষাতের কথা ভাবছেন। কিন্তু এ ব্যাপারে আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ক্ষমা প্রার্থনা বা অনুতপ্ত ছাড়া এ ধরনের আবেদন বিবেচনার কোনো এখতিয়ার বা সুযোগ রা’ষ্ট্রপতির নেই।*