প্রচ্ছদ রাজনীতি *যে কারণে কাদের-হানিফের মধ্যে দূরত্ব!*

*যে কারণে কাদের-হানিফের মধ্যে দূরত্ব!*

218
*যে কারণে কাদের-হানিফের মধ্যে দূরত্ব!*

*আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনের পর থেকেই মাহবুবুল আলম হানিফ যেন নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে। নিজস্ব অনুষ্ঠান ছাড়া দলীয় কর্মকাণ্ডে তাকে দেখা যাচ্ছে না খুব একটা। হঠাৎ করেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অসুস্থ থাকা অবস্থায় তিনি সরব হয়েছিলেন, কিন্তু তারপর আবার দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন। দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন কিভাবে?*

*বিএনপির সমালোচনা করা বা সরকারের পক্ষে কথা বলার ক্ষেত্রে তিনি এতটুকু পিছিয়ে নেই। বরং তিনি নিজস্ব বলয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি বিএনপির সমালোচনা করছেন এবং বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের নিয়মিত ব্রিফিংগুলোতে আগে যেমন তাকে পাশে দেখা যেত, তার বদলে বাহাউদ্দীন নাছিম কিংবা প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানককে দেখা যায়। মাহবুবুল আলম হানিফকে দেখা যায় না। এনিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যেই গুঞ্জন উঠেছে হানিফের সঙ্গে কি ওবায়দুল কাদেরের দূরত্ব তৈরী হয়েছে?*

*মাহবুবুল আলম হানিফ আওয়ামী লীগের গত কমিটিতে প্রথম যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার অঅগের কমিটিতেও তিনি যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এবার অনেকেই ধারণা করেছিল, মাহবুবুল আলম হানিফ হয়তো প্রেসিডিয়ামের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হবেন, কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে মাহবুবুল আলম হানিফ একই পদে বহাল থেকেছেন। তার বদলে আবদুর রহমান এবং জাহাঙ্গীর কবির নানক- যারা দ্বিতীয় এবং তৃতীয় যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তাঁরা প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।*

*আওয়ামী লীগের অনেকেই মনে করেন যে, ওবায়দুল কাদেরের বলয়ে যারা, তারাই এবার আওয়ামী লীগের কমিটিতে ভালো জায়গা পেয়েছেন এবং ওবায়দুল কাদেরের প্রচ্ছন্ন সমর্থনেই জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং আবদুর রহমান প্রেসিডিয়ামে এসেছেন। ওবায়দুল কাদেরের সমর্থনের কারনেই বাহাউদ্দিন নাছিম সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। মির্জা আজম সদস্য থেকে সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন ওবায়দুল কাদেরের উদ্যোগে এবং লবিং-এ এবং এবারের আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলেই অনেকে বিশ্বাস করেন। আর এখান থেকেই মাহবুব আলম হানিফের সঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের দুরত্বের খবর পাওয়া যায়।*

*কারণ মাহবুবুল আলম হানিফ আশা করেছিলেন যে, তাকে হয়তো প্রেসিডিয়ামের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হিসেবেই তাকে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। অবশ্য আওয়ামী লীগের কেউ কেউ বলছেন যে, এটা আওয়ামী লীগ সভাপতি সচেতন ভাবেই করেছেন। কারণ ওবায়দুল কাদেরের যে স্বাস্থ্যগত অবস্থা, সেক্ষেত্রে যেকোন সময়ে যদি ওবায়দুল কাদের অসুস্থ হয়ে পড়েন তাহলে মাহবুবুল আলম হানিফ যেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নিতে পারেন, এরকম একটি বিবেচনা থেকেই হয়তো মাহবুবুল আলম হানিফকে প্রেসিডিয়ামে আনা হয়নি। কিন্তু যে কারণেই হোক না কেন, আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে গেলেই এ ব্যাপারে দুরুত্ব এবং সম্পর্কের শীতলতার খবর পাওয়া যাচ্ছে।*

*সাম্প্রাতিক সময়ে লক্ষ্য করা যায়, ওবায়দুল কাদের যে সংবাদ সম্মেলনগুলো করেছেন অধিকাংশতেই মাহবুবুল আলম হানিফ উপস্থিত ছিলেন না। কেনো তিনি উপস্থিত ছিলেন না তা নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা রকম গুঞ্জন রয়েছে।*
*আবার অনেকে মনে করেন মাহবুবুল আলম হানিফ তার নিজস্ব বলয় থেকে বক্তব্য রাখছেন। দলের মুখপাত্র হিসেবে যেহেতু ওবায়দুল কাদের বক্তব্য রাখছেন সেজন্য সেখানে তিনি বক্তব্য রাখছেন না। কিন্তু যেটিই হোক না কেনো সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে ওবায়দুল কাদের ঘনিষ্টদের একাধিকত্বের কারণেই হানিফ নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন কিনা সেই প্রশ্ন উঠেছে।*
*তবে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেছেন এ ধরণের কোনো কিছুই নয়। ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জনপ্রিয় এবং সকলের সঙ্গেই তার সুসম্পর্ক রয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি যাকে যে দায়িত্ব দিচ্ছেন সে দায়িত্বই তারা পালন করছেন।*