প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *৫ আসনে আ’লীগের মনোনয়ন পেলেন যারা*

*৫ আসনে আ’লীগের মনোনয়ন পেলেন যারা*

176
*৫ আসনে আ'লীগের মনোনয়ন পেলেন যারা*

*সম্প্রতি শূন্য হওয়া ৫টি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ।*
*শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলের সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের যৌথ সভায় প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করা হয়।*

*ঢাকা-১০ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, গাইবান্ধা-৩ আসনে কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি, বাগেরহাট-৪ আসনে আমীরুল আলম মিলন, বগুড়া-১ আসনে সাহাদারা মান্নান, যশোর-৬ আসনে শাহীন চাকলাদার।*
*এদিকে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে মনোনয়ন পেলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী।*
*জাতীয় সংসদের পাঁচটি উপ-নির্বাচন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এরই মধ্যে জাতীয় সংসদের শূন্য হয়ে যাওয়া ৫টি আসনের মধ্যে ৩টি আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। অপরদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোশেন ও সংসদের দুটি আসনের তফসিল ঘোষণা হবে ১৬ ফেব্রুয়ারি।*
*গত ৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী জাতীয় সংসদের ঢাকা-১০, গাইবান্ধা-৩ ও বাগেরহাট-৪ আসনের উপ-নির্বাচন হবে আগামী ২১ মার্চ। মনোনয়পত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি। তবে বগুড়া-১ এবং যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল এখনো ঘোষণা করা হয়নি।*

*রেজাউল করিমকেই কেন মনোনয়ন দিলেন শেখ হাসিনা?*
*আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে মেয়রপদে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী।*
*শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় গণভবনে দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় চসিকের মেয়র পদে মনোনয়ন চূড়ান্ত করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।*

*চসিক নির্বাচনে মনোনয়ন পওয়া মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী রাজনীতিতে পোড় খাওয়া নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আশির দশকে আওয়ামী লীগে বিভক্তির পর তিনি আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বাধীন বাকশালে যোগ দেন। তবে বাকশাল বিলুপ্তির পর তিনি আবার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরেন।*
*রেজাউল করিম চট্টগ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। তাঁর পূর্বপুরুষের নামেই বিখ্যাত ‘বহদ্দারহাট’ নামকরণ হয়েছে। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন।*

*জানা গেছে, চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের রাজনীতে তার নিজস্ব কোনো বলয় নেই। তবে তিনি প্রয়াত সাবেক মেয়র মহিউদ্দীন চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন। এর আগেও তিনি সংসদ নির্বাচনগুলোতে দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু পাননি। সর্বশেষ চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে দলের মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন। এমনকি চসিক নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার দৌড়েও তিনি আলোচনায় ছিলেন না। রেজাউল করিমকে চসিকের মেয়রপদে মনোনয়ন দেওয়াটা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার চমক হিসেবেই দেখছেন স্থানীয়রা।*

*চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘রাজনৈতিক জীবনের শেষপ্রান্তে এসে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মূল্যায়ন করেছেন। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। আমি চট্টগ্রামবাসীর কাছেও কৃতজ্ঞ। আমি দীর্ঘসময় প্রয়াত নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে রাজনীতি করেছি। রাজনৈতিক জীবনে আমি কখনও আদর্শবিচ্যুত হইনি। আমি সবার সহযোগিতা নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়ে চট্টগ্রামবাসীর সেবা করতে চাই। চট্টগ্রামবাসীর জন্য আমি জীবন উৎসর্গ করব।’*

*চসিকে আ.লীগের মনোনয়ন পাওয়া কে এই রেজাউল করিম?*
*চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেন রেজাউল করিম চৌধুরী। শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বোর্ডের সভায় তার নাম ঘোষণা করা হয়।*
*সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।*
*বীর মুক্তিযোদ্ধা এম.রেজাউল করিম চৌধুরী ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িত। ছাত্রাবস্থায় তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। দলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন পূর্বক বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করছেন।*

*রেজাউল করিম ১৯৫৩ সালের ৩১ মে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী প্রচীন জমিদার পরিবার বহরদার বাড়িতে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি ১৯৮৬ সালে সরকারি মুসলিম হাই স্কুল থেকে এস এস সি পাস করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি যোগ দেন পূর্ব পাকিস্থান ছাত্রলীগে। ১৯৬৯ সালে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন।*

*মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ ১৯৭১, সভাপতি চট্টগ্রাম কলেজ ছ্ত্রালীগ ১৯৭২-১৯৭৬, দপ্তর সম্পাদক চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগ ১৯৭২-১৯৭৩, সাংগঠনিক সম্পাদক ১৯৭৩-১৯৭৫, সাধারণ সম্পাদক ১৯৭৬-১৯৭৮, আহ্বায়ক চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগ আহ্বায়ক কমিটি ১৯৭৮। চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামিলীগের সদস্য, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ১৯৯৭-২০০৬, সাংগঠনিত সম্পাদক ২০০৬-২০১৪, বর্তমান যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম নাগরিক আন্দোলনের আহ্বায়ক।*
*ব্যক্তিগত জীবনে রেজাউল করিম চৌধুরী অত্যন্ত বন্ধুসুলভ মিষ্টিভাষীর অধিকারী। স্ত্রী সেলিনা আক্তার, মেয়ে তানজিনা শারমিন নিপুন (শিক্ষক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়), মেয়ে ছাবিহা তাসনিম তানিম (বি.বি.এ), ছেলে ইমরান রেজা চৌধুরী (ইঞ্জিনিয়ার)।*