প্রচ্ছদ রাজনীতি *দেশের মানুষের কাছে খালেদা জিয়ার ১০ অপ’রাধ*

*দেশের মানুষের কাছে খালেদা জিয়ার ১০ অপ’রাধ*

1040
*দেশের মানুষের কাছে খালেদা জিয়ার ১০ অপরাধ*

*কা’রাগারে অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়া এখন করুণা ভি’ক্ষা করছেন। সরকার এবং আওয়ামী লীগ, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তিনি চিকিৎসার জন্য প্যারোল চাইছেন এবং যে কোন শর্তে তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যেতে প্রস্তুত বলেও তার পরিবারকে জানিয়েছেন। খালেদা জিয়ার পরিবারও এখন প্যারোলের পথ খুঁজে বের করার জন্য দফায় দফায় সরকারের নানা মহলের সঙ্গে বৈঠক করছেন।*

*বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের দুবারের প্রধানমন্ত্রী। দুবার তিনি বি’রোধী দলের নে’তা ছিলেন। রাজনীতিতে তার জনপ্রিয়তা কম নয়। কিন্তু ব্যর্থ রাজনীতি, ভুল রাজনীতি এবং তার নিজস্ব কিছু অনাচার এবং পাপের কারণেই তার রাজনীতির এই করুণ পরিণতি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। যে সমস্ত কারণে বেগম খালেদা জিয়ার আজকের পরিণতি, আসুন তা বিশ্লেষণ করে দেখা যাক; বেগম খালেদা জিয়ার ১০ অ’পরাধ নিয়েই এই বিশেষ আয়োজন;*

*১. জাতির পিতাকে অসম্মান করা: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কেবল এ দেশের মুক্তি দাতাই ছিলেন না। বেগম খালেদা জিয়ার সংসারও বাঁচিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর জিয়াউর রহমান তাকে ঘরে নিতে চাননি, সে সময় জাতির পিতার কঠিন অনুশাসনের কারণেই জিয়াউর রহমানের সঙ্গে সংসার করতে পেরেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। বঙ্গবন্ধুর কিছু স্মৃতি শীর্ষক ড. ওয়াজেদ মিয়ার বইতেই এ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। সেই জাতির পিতার প্রতি তিনি বিভিন্ন রকম অসম্মান ও অবজ্ঞাসূচক মন্তব্য করেছেন। শুধু তাই নয়, পঁচাত্তরের পরে ১৫ আগস্ট জাতির পিতার শাহাদাত বার্ষিকী। পুরো জাতি যেখানে শোকে বিহব্বল থাকে সেই শোক দিবসে তিনি কেক কেটে ভুয়া জন্মদিন উৎসব পালন করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এটাই খালেদা জিয়ার সবচেয়ে বড় পাপ।*

*২. ই’নডেমনিটি অ’ধ্যাদেশ বা’তিল না করা: ১৯৯১ সালে নাটকীয়ভাবে ক্ষমতায় আসেন বেগম খালেদা জিয়া। সেই সময় তিন জোটের রুপরেখার প্রেক্ষিতে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠিত হয়। সকলে আশা করেছিলেন জিয়াউর রহমানের পথ ছেড়ে খালেদা জিয়া সুষ্ঠু গণতন্ত্র এবং সুশাসনের পথে এগুবেন। ই’নডেমনিটি অধ্যা’দেশের মতো কালো আইন বা’তিল করবেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া ওই কালো আইন বাতিল করেননি।বরং ওই কালো আইনের প্রতি সাফাই গেয়েছেন। এটা বেগম খালেদা জিয়ার আরেকটি বড় পাপ।*

*৩. বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের মদদ দেওয়া: বেগম খালেদা জিয়া তার শাসনামলে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ ও ২০০১-০৬; দুই মেয়াদেই তিনি খুনীদের পৃষ্ঠপোষকতা, মদদ এবং তাদেরকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়েছেন। বিভিন্ন দূতাবাসের কূটনৈতিক পদে যারা চাকরি করতেন তাদেরকে তিনি পদোন্নতি দিয়েছেন। এটি বেগম খালেদা জিয়ার আরেকটি বড় পাপ। এছাড়া ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে যে বঙ্গবন্ধুর বিচার শুরু করেছিল, ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে চলে যাবার পর সেই হ’ত্যার বিচার বেগম খালেদা জিয়া বন্ধ করে দেন এবং এটা ছিল একটি গর্হিত অপরাধ।*

*৪. স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে আঁতাত: ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন যু’দ্ধাপরাধী স্বাধীনতা বি’রোধী জামাতের সঙ্গে আপোস করে। ২০০১ সালে তিনি জামাতের সঙ্গে জোট করে ক্ষমতায় এসেছিলেন। ক্ষমতায় এসেই তিনি স্বাধীনতাবিরোধী দুই যুদ্ধা’পরাধীকে জাতীয় পতাকা তুলে দেন এবং তাদেরকে মন্ত্রীত্ব দেন। স্বাধীনতাবিরোধী মতিউর রহমান নিজামী এবং আলি আহসান মুজাহিদকে মন্ত্রী বানিয়ে বাংলাদেশের র’ক্তাত্ত ইতিহাসকে ক’লঙ্কিত করেছিলেন। এটা ছিল বেগম খালেদা জিয়ার আরেকটি বড় পাপ।*

*৫. পুত্রের ব্যাপারে অন্ধ: বেগম খালেদা জিয়ার, বিশেষ করে দ্বিতীয় মেয়াদে লাগামহীন দুর্নী’তি, হাওয়া ভবনের মাধ্যমে সারাদেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি ছিল একটি বড় ঘটনা। আর এধরণের অনিয়ম, দুর্নী’তি, স্বেচ্ছাচারিতার মূলহো’তা ছিল তাঁর পুত্রদ্বয় এবং এই ব্যাপারে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন নিরব দর্শক। বরং বেগম জিয়ার আশ্রয়-প্রশ্রয় তাঁর পুত্ররা লাগামহীন হয়ে উঠেছিল। এটাও বেগম খালেদা জিয়ার একটি বড় পাপ।*

*৬. আত্মীয় স্বজনের দূর্নীতি: বেগম খালেদা জিয়ার আত্মীয়-স্বজনরাও তাঁর ক্ষমতার সুবিধা ভোগ করেছে, লুটপাট করেছে। বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্নে, তাঁর ভাইরা এবং নিকটাত্মীয়রা বাংলাদেশকে লুণ্ঠন করেছে ইচ্ছেমতো। অথচ বেগম খালেদা জিয়া এসব ব্যাপারে পালন করেছে নিরব দর্শকের ভূমিকা। এটা ছিল বেগম খালেদা জিয়ার আরেকটি বড় পা’প।*

*৭. রাজনৈতিক শিষ্টাচার অনুসরণ না করা: বেগম খালেদা জিয়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। কিন্তু নূন্যতম রাজনৈতিক শিষ্টাচারগুলো অনুসরণ করেননি। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনোই নিজের দলের নেতারা তো দূরে থাক, অন্য দলের নে’তাদেরকেও নূন্যতম সম্মান পোষণ করেননি। সবসময় তিনি অসৌজন্যতা করতেন, যার কারণে তাঁর প্রতি অন্যান্য অন্যান্য নেতাদের নূন্যতম সম্মানবোধ এবং সহানুভূতি নেই।*

*৮. বিদেশিদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত: রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়া কথা বলতেন কম এবং সবসময় তিনি বিদেশিদের দ্বারা, বিশেষ করে পাকিস্তানি আইএস’আইদের দ্বারা পরিচালিত হতেন বলে প্রচুর তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। আর একারণেই নিজের দেশের মানুষ, নিজের দেশের আকাঙ্ক্ষা ইত্যাদি ভাবনাচিন্তা তাকে কখনোই উদ্বেলিত করতো না। বিদেশিদের উপর নির্ভরশীল রাজনীতির যে করুণ পরিণতি হয়, বেগম খালেদা জিয়া তাঁর বড় প্রমাণ।*

*৯. কিছু ব্যক্তির উপর নির্ভরতা: বেগম খালেদা জিয়ার আরেকটি বড় পাপ ছিল মোসাদ্দেক আলী ফালু, হারিস চৌধুরী কিংবা ড. কামাল সিদ্দিকির মতো কিছু ব্যক্তির উপর নিজেকে সম্পূর্ণ ছেড়ে দেয়া। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আমলে না নিয়ে, তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা কিছু তলপিবাহককে তিনি রাষ্ট্রপরিচালনার কেন্দ্রে এনেছিলেন যোগ্যতা ছাড়াই। এটা সাধারণ মানুষকে যেরকম ক্ষুদ্ধ্ব করেছিল, তেমনি নে’তাকর্মীদেরকেও হতাশ করেছিল। এটা বেগম খালেদা জিয়ার আরেকটি বড় পাপ।*

*১০. ২১শে আগস্টের গ্রে’নেড হাম’লা: ২০০৪ সালের ২১ শে আগস্টের গ্রে’নেড হাম’লা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের সবথেকে কল’ঙ্কিত একটি ঘ’টনা এবং এর মাধ্যমে তিনি রাজনীতিতে সমস্ত রকমের সমঝোতা, সহানুভুতির দরজা ব’ন্ধ করে দেন এবং ২১ শে আগস্টের গ্রে’নেড হাম’লাই বেগম খালেদা জিয়ার আজকের এই পরিণতির জন্য মূলত দায়ী বলে অনেকে মনে করেন।*