প্রচ্ছদ রাজনীতি *খালেদা-সরকারের মধ্যে দরকষাকষি চলছে*

*খালেদা-সরকারের মধ্যে দরকষাকষি চলছে*

73
*খালেদা-সরকারের মধ্যে দরকষাকষি চলছে*

*বেগম খালেদা জিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্যারোলের আবেদন করেননি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বেগম জিয়ার সঙ্গে গত পরশু তার পরিবারের লোকজন দেখা করার পর প্যারোল প্রক্রিয়া শুরু হলেও আনুষ্ঠানিক আবেদনে এখনো স্বাক্ষর করেননি তিনি।*
*জানা গেছে, পর্দার আড়ালে এই প্যারোল নিয়ে সরকারের সঙ্গে দরকষাকষি চলছে বেগম জিয়ার পরিবারের। বেগম জিয়ার পরিবার বলছে খালেদা জিয়া শুধুমাত্র স্বাস্থ্যগত অসুবিধার জন্য নিঃশর্ত প্যারোল চান।*

*অন্যদিকে সরকার বলছে প্যারোল কখনো নিঃশর্ত হয় না। সরকারের তরফ থেকে পাঁচটি শর্ত দিয়ে প্যারোলের আবেদন করতে বলা হয়েছে। না হলে এই আবেদন বিবেচনায় আনা হবে না বলেও সরকারের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারের তরফ থেকে যে শর্তগুলো দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে:*

*১। বেগম খালেদা জিয়াকে তার প্যারোলের আবেদনে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। ২। বেগম জিয়াকে রাজনীতি ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে হবে। ৩। বেগম জিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাবেন।*
*৪। বেগম জিয়া দেশের বাইরে অবস্থানকালে কোনো রকমের রাজনৈতিক বক্তব্য বা বিবৃত্তি দিতে পারবেন না।*
*৫। সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা শেষে তিনি দেশে ফিরে আসবেন। এরপর যতদিন তার চিকিৎসা চলে ততদিন সরকারের কাছে মাসিক প্রতিবেদন দিতে হবে।*

*কিন্তু বিএনপির নেতৃবৃন্দ বলছেন, এই শর্তগুলোতে বিএনপির নেতারা প্যারোল নিতে আগ্রহী নন। তিনি মনে করছেন এটা একটি অপমানজনক শর্ত। আর এটার ফলে বিএনপির রাজনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদিও এখনো প্যারোল নিয়ে বিএনপির নেতারা অন্ধকারে রয়েছেন। তারা প্যারোলের ঘোরতর বিরোধী। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার ও বোন সেলিনা ইসলামসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য সরকারের সঙ্গে এ নিয়ে দেনদরবার অব্যহত রেখেছেন।*

*বেগম জিয়ার পরিবারের একজন সদস্য বলছেন, চিকিৎসার জন্য ৬ মাস থেকে ১ বছর মেয়াদের প্যারোল পাবেন বেগম জিয়া। আর এই প্যারোল পেলে তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাবেন। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়। আর আইনগত কৃর্তৃত্ব বহির্ভূতভাবে এখানে সরকার তেমন কিছু করতে পারে না। অবশ্য আইনগতভাবে এখন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির পথ নেই। কারণ সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগ জিয়া এতিম খানা মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন। যার ফলে খালেদা জিয়ার একমাত্র মুক্তির পথ আলাপ আলোচনা এবং সমঝোতার মাধ্যমে খোলা।*

*সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, খালেদা জিয়া দুই ধরনের আবেদন করতে পারেন। একটা হলো ক্ষমা প্রার্থনা, অন্যটি দণ্ড মওকুফের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করতে পারেন। বেগম জিয়ার সূত্রে বলা হয়েছে, এরকম আবেদন তিনি কোন অবস্থাতেই করবেন না। তিনি সাময়িকভাবে একটি সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোল চাইতে পারেন। কিন্তু সে ধরণের প্যারোল চাইলে তাকে কতগুলো শর্তের আওতায় তার প্যারোলের আবেদনটি বিবেচনা করা হবে।*

*তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তিনি এ ধরণের প্যারোল নিয়ে কোন ধরণের সমঝোতা বা আলাপ আলোচনার কথা জানেন না। এ ধরণের কোন কিছু হচ্ছে বলেও তার জানা নেই। তবে তিনি বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া প্যারোলের আবেদন করবেন কি করবেন না সেটা বেগম জিয়ার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। তার পরিবাররা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্যারোল নিয়ে তার পরিবারের মধ্যে বিশেষ করে তারেক জিয়ার প্রকাশ্য বিরোধ রয়েছে। এখন পর্যন্ত তারেক জিয়া এই প্যারোলের বিরুদ্ধে। কিন্তু বেগম জিয়ার পারিবারিক সূত্রে বলা হয়েছে, বেগম জিয়া এ ব্যাপারে যতই বিরোধিতা করুক না কেন শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার আগ্রহেই তাকে বাঁচানোর জন্য এর কোন বিকল্প নেই। শেষপর্যন্ত এই শর্ত মেনে বেগম জিয়া প্যারোলের আবেদন করবেন কিনা সেটাই দেখার বিষয়।*