প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *যে সকল প্রতি’শ্রুতি ভ’ঙ্গ করেছেন মে’য়র নাছির*

*যে সকল প্রতি’শ্রুতি ভ’ঙ্গ করেছেন মে’য়র নাছির*

144
*যেসকল প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন মেয়র নাছির*

*২০১৫ সালে চট্টগ্রাম সি’টি নির্বাচনের আগে ‘মে’গাসিটির’ স্বপ্ন পূরণে ৩৬ দফা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দীন। মে’য়র নির্বাচিত হওয়ার পর বিগত ৫ বছরে এসকল প্রতি’শ্রুতির সিংহভাগ পূর্ন হয়নি। উল্টো প্রতি’শ্রুতির বিপরীতমুখী কাজ করে নানা সময়ে সমালোচিত হয়েছেন চট্টগ্রামের এ মেয়’র। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ভাবে সমালোচনার মুখে পড়া মেয়র নাছির নির্বাচনী ই’শতেহার পূরনে ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন থেকে ছিটকে পড়তে পারেন।*
*২০১৫ সালের ২২ এপ্রিল নগরীর ইঞ্জি’নিয়ার্স ইনস্টি’টিউট মিলনা’য়তনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন ‘স্বপ্নের মেগা’সিটি গড়তে চাই, জলাবদ্ধতামুক্ত জনবান্ধব চট্টগ্রাম’ শিরোনামে ৩৬ দফা উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা তুলে ধরেছিলেন।*

*মেয়র নাছিরের ই’শতেহারের ৩৬ দফা:*
*জলাবদ্ধতা নিরসরন, সমগ্র নগরীতে ওয়াইফাই জোন, পাহাড় রক্ষা ও বনায়ন, পানি দূষণ রোধ, পানি সংকট নিরসন, কর্ণফুলি নদী রক্ষা করা, শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, তথ্য প্রযুক্তিতে স্বনির্ভরতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার্থীদের বাসভাড়ায় ভর্তুকি, নারীদের জন্য বাস সার্ভিস চালু, আবাসন সংকট নিরসন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ক্রীড়া ও বিনোদন ব্যবস্থার উন্নয়ন, মা’দক ও সন্ত্রা’সমুক্ত সমাজ গঠন, সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণ, গণশৌচাগারের উন্নয়ন, ভিক্ষাবৃত্তি বিমোচন, দারিদ্র্য বিমোচন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ রোধ, আয়বর্ধক প্রকল্প গ্রহণ, শ্রমিক স্বার্থ রক্ষা, প্রান্তিক মানুষের সুবিধা বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যের সং’কট নিরসন, ফরমা’লিনমুক্ত বাজার ব্যবস্থাপনা, আধুনিক কসাইখানা স্থাপন, গরীব মানুষের জন্য বহুতল ফ্ল্যাট, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিক করা, শিশুবান্ধব নগর, ধর্মীয় সুবিধা প্রদান, তরুণ-যুবা-নারী সমাজকে কর্মমুখী করা, কৃষকদের প্রণোদনা প্রদান, ল্যাবরেটরি স্থাপন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন।*

*জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যর্থতা: নির্বাচনের পূর্বে জলাবদ্ধতা থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তীতে জলাবদ্ধতার দায় অস্বীকার করেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। এমনকি সিটি কর্পোরশনের প্রস্তাবিত জলবদ্ধতা নিরসনের বিশেষ প্রকল্প সরকার থেকে অনুমোদন আনতেও ব্যর্থ হন মেয়র নাছির। যার ফলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তাদের প্রস্তাবিত ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প সরকার থেকে অনুমোদন করিয়ে আনেন।*

*ওয়াই’ফাই জোনের হদিস নেই: তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সমগ্র নগরীতে ও’য়াইফাই জোন করার প্রতিশ্রুতি এসেছিল মেয়র নাছিরের নির্বাচনী ইশতেহারে। নির্বাচিত হওয়ার পর আদালত ভবন এবং চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজকে (চমেক) ওয়াইফাই’র জোন ঘোষণা করলেও তা তা বেশীদিন সচল থাকেনি। সর্বশেষ গত ২ ফেব্রুয়ারি একটি অনু্ষ্ঠানে মেয়র নাছির আবারো চট্টগ্রামকে ওয়াইফাই জোনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন।*

*রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাহাড় কাটা: পাহাড় রক্ষা ও বনায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়র নাছির নির্বাচিত হলেও বিগত ৫ বছরে পাহাড় কাটার অভিযোগ ছিল খোদ চট্টগ্রাম সি’টি কর্পো’রেশন (চ’সিক) এর বিরুদ্ধে। প্রকাশ্যে নির্বিচারে পাহাড় কেটে লেক সিটি আবাসন প্রকল্প নির্মাণ করেছে চট্টগ্রাম সি’টি কর্পো’রেশন।*
*কর্ণফুলি নদী রক্ষায় ছিল না উদ্যোগ: কর্ণফুলি নদী রক্ষা করার জন্য নানা উদ্যোগের কথা নির্বাচনী ইশ’তাহারে উল্লেখ করেছিলেন বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। কিন্তু এ প্রতিশ্রুতিটি ইশ’তেহারেই ফাই’লবন্দী ছিল বিগত ৫ বছর। কর্ণফুলী বাঁচাতে জেলা প্রশাসন বিভিন্ন সময় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও সি’টি কর্পো’রেশনের তেমন কোন উদ্যোগ দেখা মেলেনি।*

*শিক্ষাখাতকে ব্যাপক বাণিজ্যিকায়ন: শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সিটি মেয়’র আ জ ম নাছির উদ্দিন। কিন্তু চসিক পরিচালিত ৮৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিগত ৫ বছরে শিক্ষা ব্যায় বৃদ্ধি পেয়েছে নূন্যতম ৫ গুন। এসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত ৬০ হাজার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে এ নিয়ে চরম অসন্তোষ রয়েছে।*

*স্বাস্থ্য বিভাগেও ব্যর্থতা: সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর আমলে চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের সুনাম দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। তার আমলে প্রতিটি ওয়ার্ডে আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হলেও পরবর্তী মেয়ররা সে সুনাম ধরে রাখতে পারেনি। মেয়র নাছিরের ৫ বছরে চসিকের স্বাস্থ্যসেবা ছিল শূন্যের কৌটায়। তবে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে প্রতি ওয়ার্ড এক হাজার পরিবারকে ‘মে’য়র হে’লথ কা’র্ড’ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ প্রকল্পের সফলতা এখনো জনপ্রিয়তা লাভ করেনি।*

*শিক্ষার্থীদের বাসভাড়ায় ভ’র্তুকির প্রতিশ্রুতি ভ’ঙ্গ: সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরীতে শিক্ষার্থীদের জন্য বাসভাড়ায় ভর্তুকির কথা থাকলেও এ বিষয়ে মেয়র নাছিরকে কোন উদ্যোগ গ্রহণে দেখা মেলেনি।*
*গরীবের ফ্লা’ট দ’খল করে চসি’ক কার্যালয়: নির্বাচনের ইশতাহারে গরীব মানুষের জন্য বহুতল ফ্ল্যা’ট নির্মানের প্রতিশ্রুতি দিলেও উল্টো কাজটি করেছেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। মেয়র এম মনজুর আলমের আমলে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের বহুতল ভবন ২০১৯ সালের ১৮ জুন দখ’ল নিয়ে কার্যালয় বানিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এ নিয়ে গরীব ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়।*

*শিশু ও ক্রীড়াবান্ধব নগরী গড়তে ব্যর্থ: ইশতাহেরের শিশু ও খেলাধুলার উপযোগী নগরীর গড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও আ জ ম নাছির উদ্দিনের ৫ বছরে একের পর এক ধ্বংস হয়েছে নগরীর উন্মুক্ত মাঠ সহ বিনোদনের পার্ক। নগরীর আউ’টার স্টে’ডিয়ামের খোলা উদ্যানে সুই’মিংপুল বানিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন মেয়র নাছির। এছাড়াও পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার জাতিসংঘ পার্কটিও ধ্বংসের চূড়ান্ত পর্যায়ে।*
*তথ্য প্রযুক্তিতে স্বনির্ভরতা অর্জন হয়নি: ডিজিটাল চট্টগ্রাম গড়তে নগর ভবনে বিল প্রদানে স্মা’র্ট কা’র্ড স্কি’ম বাস্তবায়নের ওয়াদা ছিল নির্বাচনী ইশতে’হারে। বিগত ৫ বছরে সে ওয়া’দা রাখতে পারেনি মেয়র নাছির।*

*এছাড়াও মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের নির্বাচনী ইশ’তেহারে থাকা আরো যেসকল প্রতি’শ্রুতি পূরন হয়নি তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে পানি দূষণ রোধ, পানি সং’কট নির’সন, নারীদের জন্য বাস সার্ভিস চালু, আবাসন সংকট নিরসন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন, মা’দক ও সন্ত্রা’সমুক্ত সমাজ গঠন, সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণ, ভিক্ষাবৃত্তি বিমোচন, দারিদ্র্য বিমোচন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ রোধ, শ্রমিক স্বার্থ রক্ষা, প্রান্তিক মানুষের সুবিধা বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যের সংকট নিরসন, ফরমালিনমুক্ত বাজার ব্যবস্থাপনা, তরুণ-যুবা-নারী সমাজকে কর্মমুখী করা, কৃষকদের প্রণোদনা প্রদান, ল্যাবরেটরি স্থাপনের প্রতিশ্রুতি।*