প্রচ্ছদ রাজনীতি *ঐক্যফ্রন্ট নে’তারা বিএনপিতে যোগ দিচ্ছেন?*

*ঐক্যফ্রন্ট নে’তারা বিএনপিতে যোগ দিচ্ছেন?*

92
*ঐক্যফ্রন্ট নেতারা বিএনপিতে যোগ দিচ্ছেন?*

*জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপির টানাপোড়েন এখন চরমে। একে তো বিএনপির ভিতরে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। তার মধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে থাকা না থাকা নিয়ে নতুন বিরোধের খবর পাওয়া গেছে। অবশ্য ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর থেকেই ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে থাকা না থাকা নিয়ে বিএনপির নেতৃবৃন্দ দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ওই নির্বাচেনের পর যখন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তাদের নির্বাচিত কেউই সংসদে যাবেন না। কিন্তু তারপরই ড. কামাল হোসেনের সম্মতিতে প্রথমে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ*

*এবং পরবর্তীতে মোকাব্বির খান সংসদ সদস্য পদ গ্রহণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপির বাকি সংসদ সদস্যরাও শপথ গ্রহণ করেন। বিএনপির অনেক নেতাই মনে করছেন যে, ড. কামাল হোসেন সরকারের এজেন্ট। তারা বিএনপিকে ব্যবহার করে নিজেদের আখের গোছাচ্ছেন। সরকারের সঙ্গে নানা রকম লেনদেন করছেন। তবে তারেক জিয়া তেমনটি মনে করেন না।*
*তিনি মনে করেন, ঐক্যফ্রন্টে বিএনপি ছাড়া অন্য দলগুলোতে বড় বড় নেতা থাকলেও দলের সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল।*

*গত কয়েকদিন ধরে স্কাইপে তারেক জিয়া ঐক্যফ্রন্টের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদেরকে বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তারেক জিয়ার বক্তব্য হলো তারা বিএনপিতে গেলে তাদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে থাকাটা বিএনপির মধ্যে আপত্তি এবং অস্বস্তি রয়েছে। তারা যদি সরাসরি যোগ দেন তাহলে সরকার বিরোধী আন্দোলন বেগবান করা যাবে। তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ডা. জাফরুল্লাহ উল্টো তারেক জিয়াকে আপাতত রাজনীতি থেকে সরে যাওয়া এবং জামাত ত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছেন।*

*ডা. জাফরুল্লাহ জাতীয় ঐক্যফন্টের নেতাদের বিএনপিতে যোগদানের বিষয়টিকে অলীক কল্পনা এবং অবাস্তব চিন্তাভাবনা বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, বৃহত্তর ঐক্য করতে হবে, কোনো দলের পেটে ঢুকে গিয়ে নয়। বৃহত্তর ঐক্য বলতে তিনি মনে করেন যে বামদল এবং অন্যান্য সকল প্রগতিশীল, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দলের ঐক্যের মাধ্যমে এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব। তারেক জিয়ার সঙ্গে স্কাইপ আলাপে ডা. জাফরুল্লাহ ৩টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে উত্থাপন করেন বলে জানা গেছে।*

*প্রথমত তিনি বলেছেন, তারেক জিয়া যেহেতু দেশের বাইরে আছেন, তিনি বাংলাদেশের হাল-হকিকত বোঝেন না। স্কাইপের আলাপ দিয়ে দল পরিচালনা করা সম্ভব নয়। কাজেই আপাতত তিনি দলের নেতৃত্ব থেকে সরে যাক এবং দলে অভিজ্ঞ বিচক্ষণ কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হোক। বিএনপিতে এমন বিচক্ষণ লোকের পরিমাণ অনেক রয়েছে বলেও ডা. জাফরুল্লাহ মন্তব্য করেছেন।*

*দ্বিতীয়ত ডা. জাফরুল্লাহ বলেছেন যে, বিএনপি যখন কর্মসূচি দিচ্ছে, সেই কর্মসূচিতে বিএনপির সিনিয়র নেতারা অনুপস্থিত থাকছে। উল্লেখ্য যে, ঢাকায় গত সিটি নির্বাচনের পরদিন ২ ফেব্রুয়ারি বিএনপি ঢাকায় হরতাল ডেকেছিল। কিন্তু এই হরতাল কর্মসূচিতে বিএনপির কোনো সিনিয়র নেতারা ছিলেন না। ডা. জাফরুল্লাহ বলেন যে, আন্দোলনের কর্মসূচি ডেকে যদি নেতৃবৃন্দ রাস্তায় না থাকেন তো সেটা একটা গর্হিত অপরাধ এবং সেই অপরাধ বিএনপির নেতারা করেছেন।*

*তৃতীয় যে বিষয়টি তিনি আপত্তি করেছেন, সেটা হলো জামাতের সঙ্গে সম্পর্ক। ডা. জাফরুল্লাহ তারেক জিয়াকে বলেছেন যে জামাতের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে আন্তর্জাতিক মহল বিএনপির প্রতি বিরাগভাজন। অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে যে বৃহত্তর ঐক্য তৈরি করতে চায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সেটাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর পাল্টা হিসেবে তারেক জিয়া মৃদু হেসে ড. জাফরুল্লাকে বিএনপিতে যোগ দেয়ার কথা বলেছেন। আর তিনি বলেছেন, আপনারা সবাই বিএনপিতে চলে আসুন। আপনাদের সম্মিলিত উদ্যোগে আমরা এই সরকারের পতন ঘটাতে পারবো।*

*উল্লেখ্য, কিছু দিন ধনেই বিএনপির মধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে থাকা না থাকা নিয়ে বিরোধ চলচিল। বিশেষ করে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের নেতারা শুধুমাত্র ফটোসেশন করেন। তাদেরকে রাস্তায় পাওয়া যায় না। এমনকি ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন এক দিনের জন্যও মাঠে নামেননি বলে অভিযোগ রয়েছে বিএনপির নেতৃবৃন্দের।*
*আর এর প্রেক্ষিতেই বিএনপির অনেকে নেতা তারেক জিয়ার কাছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রয়োজনীয়তা কি তা জানতে চান। এর প্রেক্ষিতে তারেক জিয়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দকে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার কথা বলেছেন।*

*অবশ্য রাজনৈতিক বিশ্লষকরা বলছেন, এর মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অকার্যকর এবং শেষ পর্যন্ত পরিত্যক্ত জোট হিসেবেই পরিণত হতে যাচ্ছে। কারণ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা যেমন বিএনপিতে যোগ দেবেন না। তেমনি বিএনপিও জামাত ছাড়তে পারবে না এবং তারেককে ছাড়তে পারবে না। এর ফলে আগামী দিনগুলোতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কার্যক্রম আরো স্থবির এবং সীমিত হয়ে যাবে বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন।*