প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *বিদেশে গাড়ি চালানোর লাই’সেন্স পেল কোথায় আজহারী?*

*বিদেশে গাড়ি চালানোর লাই’সেন্স পেল কোথায় আজহারী?*

47
*বিদেশে গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পেল কোথায় আজহারী?*

*সব ধরনের মাহ’ফিল স্থগিত করে মালয়েশিয়া চলে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও সমালোচনা পিছু ছাড়ছে না মিজানুর রহমান আজহারীর।*
*সম্প্রতি সো’শ্যাল মিডি’য়ার বিভিন্ন মাধ্যমে ভাই’রাল হয়েছে আজহারীর একটি গাড়ি ও গাড়ি চালানোর কয়েকটি ছবি। ছবিতে দেখা গেছে, মিজানুর রহমান আজহারী একটি ‘বে’ন্টলি’ গাড়ি চালাচ্ছেন যার বাজারমূল্য কমপক্ষে ৫ কোটি টাকা।*
*ইসলামের একজন দাঈ (নিজেকে দাবি করেন) হয়ে মালয়েশিয়ায় কি করে এতো দামি গাড়ি কেনেন আজহারী? মাহফিলে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও সাহাবাদের ত্যাগী ও সাদাসিধে জীবনের কথা বলে মালয়েশিয়ায় কি তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন?*

*অনেকেই বলছেন, দেশে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেই মালয়েশিয়ায় চলে গেছেন আজহারী। আবার অনেকে বলছেন, গাড়িটি অন্য লোকের। প্রশ্ন হলো গাড়ি অন্য লোকের হলে ড্রাইভিং লাইসেন্স কার? আজহারি কি অন্য কোন দেশের নাগরিক?*
*যদি নাগরিকই হয়ে থাকেন তাহলে কিভাবে হলো? সাধারণত বিয়ে বা মোটা টাকার বিনিয়োগ ছাড়া এত অল্প সময়ে নাগরিক হওয়া যায় না। আজহারি কোনটা করেছেন?*
*অনেকে বলছেন, যে লোক নিজেই বেআইনী কাজ করে তার কাছ থেকে মানুষ কি শিক্ষা পাবে?*

*আজহারী কি জ’ঙ্গিবাদের সাথে জড়িত? | মুফতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ*
*আজহারী যে গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সেটি কয়েক কোটি টাকা দামের গাড়ি। দাবি করা হয়েছে, সে গাড়িটি আজহারীর নিজের নয়; সেটি তার বন্ধুর। এ দাবি যদি সত্যও হয় তবে একথা তো আর অস্বীকার করা যায় না যে, কয়েক মাসে দেশের মূর্খ ধর্মান্ধদের বোকা বানিয়ে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে আজহারী তা নিয়ে মালয়েশিয়ায় চলে গেছে। এখন আজহারী তাঁর গুরু সন্ত্রাসী জাকির নায়েক ও আন্তর্জাতিক মৌলবাদী চক্রের সাথে মিলে বাংলাদেশ ও বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে দেবে, এটাই তো স্বাভাবিক। একটা বিষয় বেশ উল্লেখযোগ্য, আজহারীর প্রতিটি ওয়াজে বাংলাদেশের পুলিশ নিরাপত্তা দিয়েছে।*

*আজহারী পুলিশের ব্যাপক প্রশংসা করেছে। পুলিশ অফিসাররা নাকি আজহারীকে বলেছে, তাঁরাও তাঁর ওয়াজ শোনে। এ থেকে কি বোঝা যায়? বাংলাদেশের পুলিশ কি তাহলে মৌলবাদী নিয়ন্ত্রিত? মাত্র অল্প কয়েক মাসের ওয়াজের ফলেই আজহারী-জ্বরে কাঁপছে সারা বাংলাদেশ! আজহারী দোয়া করেছে, ঘরে ঘরে আল্লামা সাঈদী পয়দা হোক। এখন আজহারীর দোয়া কি ঠেকানো যাবে? ঘরে ঘরে আল্লামা সাঈদী পয়দা হওয়া আটকানো যাবে? অলরেডি ঘরে ঘরে হেফাজতের জঙ্গিরা তৈরি। প্রতিটি পরিবারে দু’জন তিনজন করে হেফাজতের জঙ্গিবাদে আস্থা রাখা মানুষ তৈরি হয়ে গেছে। পরিবারের যে ক’জন হেফাজতী জঙ্গিবাদের সাথে একমত না, তারা যদি এবার আল্লামা সাইদী হয়ে যায়? একটি পরিবারে সৎ কথা বলার মতো আর কেউ কি থাকবে?*

*একটি তথ্য জানিয়ে রাখি: বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর সদস্যদের প্রায় সবাই এখন ইসলামপন্থী। অধিকাংশই জামাতের সমর্থক। আর বাকিদের মধ্যে কেউ তাবলীগী, আর কেউ জাকির নায়েকের অনুসারী। উল্লেখ্য, জাকির নায়েকের অনুসারীরা হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী ও ওহাবী মতাদর্শের মধ্যে সেতুবন্ধনকারী। ২০১৩ সালে বিমান বাহিনীর কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম যিনি চরম কট্টরপন্থী, তাঁর সাথে জুম্মার দিন প্রকাশ্যে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন জাসদ নেতা মঈন উদ্দীন খান বাদল। তাঁকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়া থেকে বিরত থাকতে বলেছিলেন বাদল, কিন্তু ইমাম বাদলের সাথে আর্গুমেন্টে জড়িয়ে পড়েছিলেন। পরবর্তীতে সরকারের চাপ থাকা সত্ত্বেও বিমানবাহিনীর প্রধান সেই ইমামকে চাকরিচ্যুত করা কিংবা বদলি করা থেকে বিরত ছিলেন। সেই ইমামের সাথে একটি ঘরোয়া বৈঠকে কথা বলার সময়ে জানতে পারলাম, তিনি তাঁর শায়খ ওসামা বিন লাদেনের চরম ভক্ত!*

*২০১৫ সালে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব ছিলেন মুফতি মাহমুদুল হাসান (মাহমুদুল হকও হতে পারে, আমার ঠিক মনে নেই।) মুফতি মাহমুদুল হাসান ছিলেন জামায়াতের একনিষ্ঠ সমর্থক এবং আহলে হাদিস মতাদর্শী। তাঁর চেষ্টায় ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের কেন্দ্রীয় মসজিদে একদল আর্মি অফিসার আহলে হাদিস হয়ে গিয়েছিল। মাগরিবের নামাজের সময়ে তারা আমীন জোরে বলতো এবং বুকে হাত বাঁধত। মুফতি মাহমুদুল হাসানের সাথে আমার একবারই দেখা হয়েছিল, এবং সেটি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের জামায়াত নেতা মাওলানা আব্দুল কাইয়ুমের বালুঘাটের অফিসে বসে। মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম একজন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী। জামায়াত করার কারণে তার কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা নিত স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা। চাঁদার বেশিরভাগ অর্থই চলে যেত মন্ত্রী ফারুক খানের চেম্বারে। মাওলানা আব্দুল কাইয়ুমের অফিসে ২০১৫-১৬ সালে দেখেছি, দেয়ালে বাঁধাই করা রয়েছে মন্ত্রী ফারুক খানের সাথে তার হাস্যোজ্জল ছবি!*
*(লেখাটি মুফতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ-এর ফেসবুক থেকে সংগৃহিত)*