প্রচ্ছদ খেলা ক্রিকেট *আ’ইসিসি বাংলাদেশ-ভারতের ৫ ক্রি’কেটারকে শা’স্তি দিলো*

*আ’ইসিসি বাংলাদেশ-ভারতের ৫ ক্রি’কেটারকে শা’স্তি দিলো*

83
*আইসিসি বাংলাদেশ-ভারতের ৫ ক্রিকেটারকে শাস্তি দিলো*

*অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের ফাই;নাল ম্যা;চ শেষে বিবাদে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় বাংলাদেশ ও ভারতের পাঁচজন ক্রিকেটারকে দোষী সাব্যস্ত করেছে ইন্টা’রন্যাশনাল ক্রি’কেট কা’উন্সিল (আ’ইসিসি)।*
*শা’স্তিপ্রাপ্তরা হলেন- বাংলাদেশের তৌহিদ হৃদয় (১০ ম্যাচ নি’ষিদ্ধ), শামীম হোসেন (৮ ম্যাচ নি’ষিদ্ধ) এবং রকিবুল হাসান (৪ ম্যাচ নি’ষিদ্ধ)। ভারতের দুই ক্রিকেটারের মধ্যে আকাশ সিং নি’ষিদ্ধ হয়েছেন ৬ ম্যাচ আর লেগস্পিনার রবি বিষ্ণুইকে নি’ষিদ্ধ করা হয়েছে ৫টি ম্যাচ। এই ক্রিকেটাররা অনুর্ধ্ব-১৯ বা ‘এ’ দলের হয়ে সামনের ওয়ানডে অথবা টি- টো’য়েন্টি ম্যাচে এই নি’ষেধাজ্ঞার শা’স্তি ভোগ করবেন।*

*মঙ্গলবার ভোরে এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানিয়েছে আইসিসি। ক্রিকেটারদের এই শাস্তি পরের আন্তর্জাতিক ম্যাচ থেকেই কার্যকর হবে।*
*আইসিসি জানিয়েছে- ফাইনাল ম্যাচ শেষে নিজেদের মধ্যে বিতর্ক এবং ধাক্কাধাক্কি করে এই ক্রিকেটাররা ক্রিকেটের স্পিরিট নষ্ট করেছেন। মাঠের খেলোয়াড় ও সাপের্টিং স্টাফদের মধ্যে আইসিসির বিধি বিধানের লেভেল তিন ভঙ্গ করেছেন। তাই এই শাস্তি।*

*ফাইনালের ম্যাচ রেফারি গ্রায়েম ল্যাবরয় জানান-বাংলাদেশের তিন ক্রিকেটার তৌহিদ হৃদয়, শামীম হোসেন এবং রকিবুল হাসান এবং ভারতের দুজন খেলোয়াড় আকাশ সিং ও রবি বিষ্ণুইয়ের বিরুদ্ধে আইসিসি’র এই বিধি বিধানের ২.২১ ধারা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে বিশ্নয়ের অপরাধের মাত্রা আরেকটু বেশি। তিনি এর সঙ্গে ২.৫ বিধির মাত্রাও অতিক্রম করেছেন।*
*ম্যাচ রেফারি ভিডিও ফুটেজ দেখে অভিযুক্ত ক্রিকেটারদেরকে জবানবন্দি নেন। অভিযুক্ত ৫ ক্রিকেটারই তাদের দোষ স্বীকার করে নেন।*

*শাস্তির বিস্তারিত: তৌহিদ হৃদয়: তার বিরুদ্ধে ২.২১ বিধি বিধান ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। শাস্তি হিসেবে তাকে দেয়া হয়েছে ১০টি সাসপেনসান পয়েন্ট। যার ডিমেরিট পয়েন্ট হলো ৬। এই ডিমেরিট পয়েন্ট তার ক্যারিয়ারে থাকবে আগামী দু’বছরের জন্য। শাস্তি হিসেবে সামনের ১০টি ম্যাচে খেলতে পারবেন না তৌহিদ হৃদয়।*
*শামীম হাসান: এই ক্রিকেটার ২.২১ বিধি বিধান ভঙ্গের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন। তাকে দেয়া হয়েছে ৮টি সাসপেনসান পয়েন্ট। সেই সঙ্গে তার নামের পাশে যোগ হয়েছে ৬টি ডিমেরিট পয়েন্ট। শামীমকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ৮টি ম্যাচে।*

*রকিবুল হাসান: ফাইনালের উইনিং শট নেয়া বাংলাদেশের এই স্পিনার অলরাউন্ডার শাস্তি হিসেবে পেয়েছেন ৪টি সাসপেনসান পয়েন্ট। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে ৫টি ডিমেরিট পয়েন্ট। সামনের ৪টি ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকছেন রকিবুল হাসান।*
*আকাশ সিং: ভারতের এই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধেও ২.২১ বিধি ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত। তাকে দেয়া হয়েছে ৮টি সাসপেনসান পয়েন্ট। তিনি ডিমেরিট পয়েন্ট পেয়েছেন ৬টি। সবমিলিয়ে ৮টি ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকছেন আকাশ সিং।*
*রবি বিষ্ণুই: ফাইনালে ৪ উইকেট পাওয়া এই লেগস্পিনার নিষিদ্ধ হয়েছেন ৫টি ম্যাচে। তার ডিমেরিট পয়েন্ট ৭।*

*কৃষকের ছেলে এখন ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যত*
*কার্তিক তেয়াগি। হালকা-পাতলা গড়নের ভারতীয় তরুণ পেসার। এবারের অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে নিজের গতির জানান দিয়েছেন নতুন করে। নিয়মিত ১৪০ এর আশেপাশে গতিতে বল করে থাকা কার্তিক এতদিনে আরো বড় তারকা হবার কথা ছিল। তবে নিজের নামটাকে বড় করার আগে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়েছে ১৯ বছর বয়সী এই পেসারকে।*

*দুই বছর আগে নিজের দ্বিতীয় রঞ্জি ট্রফি ম্যাচ খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কার্তিক। গা গরমের জন্য ফুটবল খেলে অনুশীলন করতে গিয়ে ভেঙে ফেলেন নিজের পা। উত্তর প্রদেশে ক্ষুদ্র এক কৃষকের ছেলে কার্তিকের ভাঙা পা ঠিক করার জন্য ছিলনা যথেষ্ট সামর্থ্য। সন্তানের চিকিৎসার জন্য শেষ পর্যন্ত নিজের আড়াই একরের জমি বিক্রি করতে হয় তাকে।*
*বাবার সর্বস্ব বিক্রি করে সন্তানকে সুস্থ করে তুলতে সময় লাগে মাত্র ১১ মাস। আশ্চর্যজনকভাবে মাত্র ১১ মাস পরেই ক্রিকেটে ফেরেন কার্তিক। জায়গা করে নেন ভারতের অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ স্কোয়াডে। আইপিএল নিলামে ঝড় তুলে এই কার্তিককে কেনে রাজস্থান রয়েলস। নিলামে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর কার্তিকের মূল্য ওঠে প্রায় দেড় কোটি রুপি!*

*কার্তিকের বোলিং ধরন ভুবেনেশ্বর কুমারের মতো। সুইংয়ে কার্তিকের মাঝে ভুবির ছাপ স্পষ্ট। তবে কার্তিকের আইডল অজি কিংবদন্তী পেসার ব্রেট লি। অবসরে ব্রেট লির বোলিং দেখেন ইউটিউবে। ১৭ বছর বয়সে রঞ্জিতে দল পাওয়া কার্তিকের এখনো বিষ্ময় কাটেনি নিজেকে নিয়ে।*
*একটা সময় পিতাকে নিঃস্ব হতে হয় কার্তিকের জন্য। আর এখন পিতাকে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন নিজের বোলিং দিয়ে। ১৯ বছর বয়সী এই কিশোরের জাতীয় দলের অভিষকেটা এখন সময়ের ব্যাপার। কৃষক পিতার তারকা সন্তান এখন তাই নিজেকে নিয়ে যেতে চায় আরো উঁচুতে।*

*কিছুটা প্রশংসা প্রাপ্য সুজনেরও*
*ক্রিকেটারদের বাজে পারফরমেন্সে যদি সমালোচিত হতে হয় ম্যানেজমেন্টকে, তাহলে সাফল্যের সময়ে প্রশংসাটাও প্রাপ্য বোর্ড এবং ম্যানেজমেন্টের। তবে সমালোচনাটা সবাই করতে চাইলেও প্রাপ্য সম্মান দেবার বেলায় পাওয়া যায় না অধিকাংশকে। যার ধারাবাহিকতায় গতকাল যে ইতিহাস রচনা করেছে টাইগার যুবারা, তার পেছনে বোর্ড ম্যানেজমেন্টের অবদান যেন রয়ে গেছে পর্দার অন্তরালে, অগোচরে।*

*সাউথ আফ্রিকায় যুবা বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যে ইতিহাস গড়েছে, সেই ইতিহাসটি রচিত হয়নি একদিনে। ছিল লম্বা পরিকল্পনা, পরিশ্রম আর কিছুটা সৌভাগ্যের ছোঁয়া। আকবর আলীদের এই দলটি গত ১ বছরে একসঙ্গে খেলেছে ৩০ টির বেশি ওয়ানডে। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ডের মতো কন্ডিশনে এদেরকে প্রস্তুত করেছে বিসিবির গেম ডেভলপমেন্ট কমিটি।*
*খালেদ মাহমুদ সুজন হলেন বিসিবির গেম ডেভলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান। অনূর্ধ্ব ১৯ দলের দেখভালের সব দায়িত্ব এই কমিটির ওপর বর্তায়। তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় তুলে আনা, তাঁদের পরিচর্যা করা, শীর্ষ পর্যায়ের জন্য তাঁদের প্রস্তুত করে তোলা, বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে তাঁদের জায়গা করে দেওয়া– এটা হল গেম ডেভেলপমেন্টের প্রধান কাজ।*

*আর অনূর্ধ্ব ১৯ দলের হয়ে তাদের কাজের অন্ত নেই। তাদের কোচ, কোচিং স্টাফ, মাঠের ফ্যাসিলিটি, আবাসন ফ্যাসিলিটি সহ সব ব্যাপার দেখভাল করে এই গেম ডেভেলপমেন্ট। প্রধান কোচ শ্রীলঙ্কার নাভিদ নাওয়াজ, ফিল্ডিং কোচ ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স বা স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ রিচার্ড স্টয়নিয়ার– এদের সবাইকে খুঁজে বের করে দলে নিয়োগ দেওয়ার কাজটা করেছে খালেদ মাহমুদ সুজনের নেতৃত্বাধীন কমিটি।*
*গেল দুই বছর আক্ষরিক অর্থেই দলটা শিরোপার জন্য অসম্ভব পরিশ্রম করেছে। বিশ্বের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত ঘুরে অনুশীলন করেছে, অসংখ্য ম্যাচ খেলেছে– এই সব কিছুর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন হয়েছে সুজনদের কমিটির কারণে। যারা সবশেষ দুই বছর যাবত আকবর আলীদের নিয়ে পরিকল্পনা আঁটছেন বিশ্বকাপে ভালো করার। তাই দেশের ঐতিহাসিক এই সাফল্যে, প্রশংসার দাবি রাখেন সুজন নিজেও।*