প্রচ্ছদ রাজনীতি *বিনাশর্তে খালেদার প্যা’রোলের জন্য আ’বেদন প্রস্তুত*

*বিনাশর্তে খালেদার প্যা’রোলের জন্য আ’বেদন প্রস্তুত*

68
*বিনাশর্তে খালেদার প্যারোলের জন্য আবেদন প্রস্তুত*

*বিএনপি নে’তারা যতই মুখে বলুক যে, বেগম খালেদা জিয়া কখনও প্যা’রোলের আবেদন করবেন না, কিন্তু বিএনপির সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করে তার পরিবার প্যা’রোলের আবেদন করার প্রস্তুতি নিয়েছে। আজ মঙ্গলবার এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বেগম জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন তার পরিবারের পাঁচজন সদস্য। তার বোন সেলিমা ইসলামের নেতৃত্বে এই পাঁচ সদস্যের প্রতিনিছি দল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএ’সএমএমইউ) বিকেল সাড়ে তিনটায় সাক্ষাৎ করতে যান। যদিও তার পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে, তবে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে একটি খসড়া আবেদন বেগম খালেদা জিয়াকে এই সাক্ষাতে দেখানো হয়েছে।*

*এই আবে’দনটিতে বেগম জিয়া কেবল স্বাস্থ্যগত কারণে বিশেষ বিবেচনায় চিকিৎসার জন্য সাময়িক মুক্তি চেয়েছেন। তিনি তার দণ্ডের ক্ষমা প্রার্থনা করেননি এবং দোষ স্বীকারও করেননি। এমনকি এই প্যারোল আবেদনে রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণাও দেননি।*
*বেগম খালেদা জিয়ার আই’নজীবীদের সূত্রে বলা হয়েছে যে প্যারোলের ক্ষেত্রে নিয়ম হলো যে, সেই আবেদনটি স্বরাষ্ট্র সচিব বরাবর লেখা হবে। বেগম খালেদা জিয়া আজ অনুমতি দিলে এটি জেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বেগম জিয়ার স্বাক্ষরের জন্য দেওয়া হবে। বেগম জিয়া তাতে স্বাক্ষর করবেন। এরপর সেটি জেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে প্রেরণ করা হবে। স্বরাষ্ট্র সচিব এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবে।*

*আইনজীবীদের সূত্রে জানা গেছে যে, এরকম প্যারো’লের আবেদনের ক্ষেত্রে সরকার বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে কোনো শর্ত আরোপ করতে পারে। তবে কী কী শর্ত আরোপ করা হবে সে ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে এখনই কোনো মন্তব্য করা হয়নি।*
*সরকারের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন যে, আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্যা’রোলের পাওয়ার পর তার সামগ্রিক স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং প্যারো’লের আবেদন মেরিট বিবেচনা করে কী কী শর্ত আরোপ করা যায় বা আদৌ প্যারোল মঞ্জুর করা যায় কিনা তা ভেবে দেখা হবে।*

*দীর্ঘদিন যাবত বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ বিবেচনায় মুক্তি নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছিল। বিশেষ করে জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় যখন তার জামিন সর্বোচ্চ আদালত নাকচ করে দেয় তখন থেকেই তার প্যারোলের বিষয়টি সামনে চলে আসে। কিন্তু প্যারোল নিয়ে বেগম জিয়ার পরিবারের সাথে বিএনপির নেতৃবৃন্দের মধ্যে তীব্র মতবি’রোধ সৃষ্টি হয়েছিল। বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং বেগম খালেদা জিয়ার জেষ্ঠ্যপুত্র লন্ডনে পলাতক তারেক জিয়া এই প্যারোল আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁরা বলেছিল, এরকম মুচলেকা নিয়ে যদি বেগম খালেদা জিয়া জামিন নেন, তাহলে এটা হবে তার জন্য রাজনৈতিক আত্মহ’ত্যার শামিল। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের একাধিক সদস্য বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার যে বর্তমান শারীরিক অবস্থা, সেই অবস্থায় তার সুচিকিৎসা অত্যন্ত জরুরী এবং বিএস’এমএমইউ তে তার সুচিকিৎসা সম্ভব না এবং বেগম জিয়াও নিজে বিএস’এমএমইউ তে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী না।*

*আর একারণেই তাঁরা মনে করছে যে, প্যা’রোলের আবেদন ছাড়া তাঁদের সামনে কোন বিকল্প নেই। উল্লেখ্য যে, বেগম খালেদা জিয়ার কা’রাবরণ দিবস উপলক্ষ্যে গত ৮-ই ফেব্রুয়ারি বিএনপি তাঁদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে একটি প্রতিবাদ কর্মসূচীর আয়োজন করেছিল এবং সেখানে বিএনপির অধিকাংশ নেতারাই প্যা’রোলের বিরো’ধিতা করেছিল। তবে বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা মনে করছে যে, বিএনপি নেতৃবৃন্দরা বেগম জিয়ার লা’শ নিয়ে রাজনীতি করতে চাইছে, সেটি করতে দেয়া হবে না এবং পরিবারের সদস্যরা মনে করছে যে, প্যা’রোলের আবেদন করলে নিশ্চয়ই সরকার তার শারীরিক অবস্থা, বয়স এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করবে এবং আবেদন মঞ্জুর করবেন। তবে কতদিনের জন্য এই তার উন্নত চিকিৎসা দরকার এবং চিকিৎসার জন্য কোথায় যাবে সেটা এখনো নিশ্চিত নয়।*