প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *এ’কাত্তরের জন্য ক্ষ’মা চাইবে ইমরান খান?*

*এ’কাত্তরের জন্য ক্ষ’মা চাইবে ইমরান খান?*

10545
*একাত্তরের জন্য ক্ষমা চাইবে ইমরান খান?*

*ভারতের সঙ্গে নাগরিকত্ব আইন এবং নাগরিকপঞ্জী নিয়ে বাংলাদেশে যখন টানাপোড়ন চলছে। যে সময় সীমান্তে হরহামেশাই বাংলাদেশিদের তুলে নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশিদের হ’ত্যার অভি’যোগ উঠছে। ঠিক সেই সময় পাকিস্তান বাংলাদেশকে আ’কৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য পাকিস্তান নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।*

*সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই আগামী ২৬ মার্চের আগে পাকিস্তান একাত্তরের গ’ণহত্যা ও নৃ’শংতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করবে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ক্ষেত্রে ৩টি অন্তরায় রয়েছে।*
*প্রথমত, একাত্তরে পাকিস্তানের যে ভূমিকা এবং যে গণহ’ত্যা করেছিল সেটার জন্য পাকিস্তানকে ক্ষ’মা চাইতে হবে।*

*দ্বিতীয়ত, পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের যে পাওনা, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন সর্বভৌম বাংলাদেশ যখন আত্মপ্রকাশ করে তখন দুই দেশের সম্পদের বন্টনের যে হিসেব নিকেশ করা হয়েছিল সেই হিসেবে পাকিস্তানের কাছে যে টাকা বাংলাদেশ পায়, সেই অর্থ ফেরত দেওয়া। সাথে বাংলাদেশে আটকে পড়া বিহারীদেরকে পাকিস্তানে ফিরিয়ে নেয়া।*
*তৃতীয়ত, পাকিস্তান বাংলাদেশে যে স্বাধীনতাবি’রোধী, মৌ’লবাদী এবং সন্ত্রা’সীগোষ্ঠীকে বিভিন্নভাবে ম’দদ এবং পৃষ্ঠপোষকতা করে তা ব’ন্ধ করা।*

*এই তিনটি কাজ যদি পাকিস্তান করে, তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সুন্দর-স্বাভাবিক, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টি হতে পারে বলে বাংলাদেশের কূ’টনৈতিক মহল থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।*
*ইমরান খান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হবার পরে অনেক বিষয়ে তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে কাশ্মীর ইস্যুতে ইমরান খানের উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে এবং পাকিস্তানের জ’ঙ্গীবাদ-স’ন্ত্রাসবাদ দমনের ক্ষেত্রেও ইমরান খান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে কূ’টনৈতিক সূত্র মনে করছে। আর ইমরান খান সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক নীতিনির্ধারকদের বৈঠকে বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক তৈরি করায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবার জন্য পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দে’শ দিয়েছেন এবং সেই দপ্তরের নি’র্দেশ অনুযায়ী পাকিস্তান এখন কাজ করছে।*

*সম্প্রতি পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, পাকিস্তানের কাছে যে পাওনা টাকা সেটা অবাস্তব। এটা কখনোই ফেরত পাওয়া সম্ভব নয় এবং আটকে পড়া যে বিহারীরা দীর্ঘদিন বাংলাদেশে রয়েছে, তাঁরা পাকিস্তানে আসতে চাইলে এবং পাকিস্তানের যে অর্থনৈতিক অবস্থা, সেই অর্থনৈতিক অবস্থায় তাঁদের ভার বহন করার মতো সামর্থ্য পাকিস্তানের নেই।*

*তবে একাত্তরের গ’ণহত্যা এবং মুক্তি’যুদ্ধের জন্য ক্ষমা নয় দুঃখ প্রকাশের মতো একটা কিছু করা প্রয়োজন বলে পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি জ’ঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রা’সীদের মদ’দ না দেওয়ার যে নীতি ইমরান খান গ্রহণ করছেন তা এগিয়ে নিলেই বাংলাদেশ সরকারের যে তৃতীয় শর্ত তা পূরণ হয় বলে পাকিস্তান মনে করছে।*

*উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে মু’ক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে দুটি দেশ র’ক্তাত্ব ও তিক্ত স্মৃতি নিয়ে আলাদা হয়। পাকিস্তান বাংলাদেশের মানুষের উপর যে দীর্ঘ নি’র্যাতন ও নি’পীড়ন করে তার পরিসমাপ্তি ঘটে একাত্তরের গ’ণহত্যার মধ্যে দিয়ে। ৩০ লাখ শহীদের বিনিময়ে বাংলাদেশ যখন তার বিজয় অর্জন করে তখন দেশটি ছিল একটি তলাবিহীন ঝুড়ি। আর পাকিস্তান ছিল অন্যতম সমৃদ্ধশালী দেশ। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৯ বছরের মাথায় বাংলাদেশ এখন সব কিছুতে পাকিস্তানকে পিছনে ফেলেছে। আর এ কারণেই পাকিস্তান এখন বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করতে আগ্রহী।*

*কিন্তু কূটনৈতিকরা মনে করছেন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সুসম্পর্কের কারণে উপমহোদেশে পাকিস্তান যে একঘরে হয়ে গেছে। সেখান থেকেই পাকিস্তান বাংলাদেশকে নতুন বন্ধু হিসেবে নিতে চায়। আর সে জন্য পাকিস্তান কিছু ছাড় দিয়ে হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়তে চায়। আর এ কারণে হয়তো ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসছে।*