প্রচ্ছদ স্বাস্থ্য *বাড়ছে জাপানের জাহাজে করো’নাভাইরাসে আক্রা’ন্তের সংখ্যা*

*বাড়ছে জাপানের জাহাজে করো’নাভাইরাসে আক্রা’ন্তের সংখ্যা*

34
*বাড়ছে জাপানের জাহাজে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা*

*জাপানে যাত্রীবাহী সেই জাহাজে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৬১ জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে গত দু’দিনে ১০ জন করে মোট ২০ জন আক্রান্তের বিষয়টি জানা যায়। পরে নতুনভাবে আরও ৪১ জন সনাক্ত হল।*
*জাপানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের দ্রুত ওই জাহাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে হাসপাতালে। বিদেশিদের মধ্যে যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে সনাক্ত হয়েছেন, তাদেরও হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।*

*চীনের বাইরে জাপানের ডায়ামন্ড প্রিন্সেস নামক জাহাজেই করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। জানা গেছে, সিঙ্গাপুরে ২৮ জন, থাইল্যান্ডে ২৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আর সেই জাহাজে আক্রান্তের মধ্যে বেশিরভাগই জাপানের নাগরিক।*
*প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে তিন হাজার সাতশ ১১ জনসহ যাত্রীবাহী জাহাজ সমুদ্রে আলাদা করে রেখেছে জাপান। জানা গেছে, জাহাজের অন্তত ২৭৩ জনকে পরীক্ষা করে ১০ জনকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে সনাক্ত করা হয়েছে প্রথমধাপে।*

*সমুদ্রে বিচ্ছিন্ন করে রাখা সেই জাহাজে ২৬৬৬ জন যাত্রী এবং ১০৪৫ জন ক্রু রয়েছেন। আক্রান্ত ১০ জনকে জাপানের একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।*
*জাপানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাটসুনোবু কাটো জানিয়েছেন, এর আগে সেই জাহাজের একজন যাত্রী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। তার সঙ্গে যারা দেখা করেছিলেন এবং একটু অস্বস্তিতে রয়েছেন, এরকম ২৭৩ জনকে পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন প্রথমদিনে। পরদিন আরো ১০ জন চিহ্নিত হন।*

*জাপান সরকার বলছে, সেই জাহাজে অন্তত ১৪ দিন যাত্রীদের পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। কারণ, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে ১৪ দিনের মধ্যেই লক্ষণ প্রকাশ পায়। আর এ ঘটনায় জাপানে এখন পর্যন্ত ৮৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত হলেন।*

*প্রসঙ্গত, ওই জাহাজে থাকা এক যাত্রী গত সোমবার হংকংয়ে যাওয়ার পর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। এরপর গত সোমবারই ওই জাহাজের আরো আটজন যাত্রী (যারা এরই মধ্যে জাহাজ থেকে নেমে গেছেন) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। জাপানের সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, ওই আটজনের জ্বর ও সর্দি-কাশি রয়েছে।*
*জাহাজে থাকা প্রত্যেক যাত্রী বর্তমানে আতঙ্কে আছেন। তাদের প্রত্যাশা, যেন শিগগিরই সবাইকে পরীক্ষা করে দেখা হয়, তারাও আক্রান্ত কিনা। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, ব্যাংকক পোস্ট*

*চীন-তাইওয়ান দ্বন্দ্বের বলি কয়েকশ’ তাইওয়ানিজ!*
*মরণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণে এরই মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৬ শতাধিক। আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৩০ হাজারের বেশি মানুষ। এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে অন্তত ২৩টি দেশে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাস নিয়ে চরম আতঙ্কে বিশ্ববাসী।*
*এদিকে, করোনাভাইরাসের উৎসস্থল চীনের উহান শহরে আটকা পড়েছেন তাইওয়ানের কয়েকশ’ নাগরিক। চীন এবং তাইওয়ানের দ্বন্দ্বের কারণে মাতৃভূমিতে ফিরতে পারছেন না তারা। এজন্য পরস্পরকে দোষারোপ করছে বেইজিং ও তাইপেই কর্তৃপক্ষ। খবর রয়টার্স ও স্ট্রেইট টাইমসের।*

*করোনাভাইরাস সংক্রমণের ফলে উহানে আটকা পড়েছে প্রায় পাঁচশ’ তাইওয়ানিজ নাগরিক। এর মধ্যে মাত্র একটি ফ্লাইটে ২৪৭ জন নিজ শহরে ফিরতে পেরেছেন।*
*যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ফেরাতে একাধিক ফ্লাইটের অনুমতি দিয়েছে বেইজিং। কিন্তু তাইওয়ানিজদের জন্য একটির বেশি ফ্লাইটে একমত হতে পারেনি চীন-তাইওয়ান।*
*তাইওয়ানে চীনা নীতিনির্ধারণী মূলভূমি বিষয়ক কাউন্সিল জানিয়েছে, গত সোমবার চীনফেরত নাগরিকদের মধ্যে একজনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। আরও কয়েকজন জ্বরে ভুগছেন। ওই ফ্লাইটের সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।*

*কাউন্সিলের পক্ষ থেকে শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একই ফ্লাইটে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। এর কারণে যদি আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেড়ে যায় সেক্ষেত্রে ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে।*
*তারা বলছেন, চীনের উচিত তাইওয়ানিজদের মধ্যে বয়স্ক, তরুণসহ অন্যান্যরা যারা সহজে সংক্রমণযোগ্য এবং যারা উহানে স্বল্পকালীন ভ্রমণে গিয়েছিলেন তাদের আগে ফেরত পাঠানো। কিন্তু প্রথম ব্যাচ ফেরত আনার সময় চীন এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে।*
*চীন বলছে, তাইওয়ানের বিভিন্ন বিধি-নিষেধের কারণেই চলতি সপ্তাহের অন্য ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। তাদের উচিত তাইওয়ানিজদের ফেরানোর বাধাগুলো সরিয়ে নেওয়া। পাশাপাশি, ‘রাজনৈতিক খেলা’ বন্ধ করে তাইওয়ানের ফ্লাইট চালু করা উচিত বলেও মন্তব্য করেছে তারা।*

*করোনাভাইরাস বিরোধী ওষুধ যাচ্ছে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে*
*মহামারাী রূপ নিয়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। এরই মধ্যে এই ভাইরাসে মারা গেছে ৬৩০ জন। আক্রান্ত আরও ৩০ হাজারের বেশি। এতে প্রায় নাকাল হয়ে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম পরাশক্তি চীন।*
*অবশ্য, এই ভাইরাসের চিকিৎসায় সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে করোনাভাইরাস বিরোধী একটি ওষুধ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ।*

*জানা গেছে, করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য চিকিৎসার জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে একটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ প্রস্তুত করা আছে। গিলিয়েড সায়েন্স নামের একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের তৈরি এ ওষুধটির ফেজ-৩ এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনা করা নিয়ে চীনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে।*
*এ ওষুধটি প্রাথমিকভাবে ইবোলা ভাইরাসের চিকিৎসার জন্য তৈরি করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে ইবোলার ক্ষেত্রে এটি যে কার্যকর তা প্রমাণিত হয়নি। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা থেকে জানা যায় যে, ওষুধটি 2019-nCoV করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় কার্যকর হতে পারে।*

*নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনের (এনইজেএম) একটি প্রকাশনায় বলা হয়েছে, উহান থেকে উৎপত্তি করোনাভাইরাস সংক্রমিত প্রথম মার্কিন নাগরিকের ওপর ওষুধটি প্রয়োগ করার পর সন্তোষজনক ফলাফল পাওয়া গেছে। মার্কিন রোগীকে ৭ দিনের অসুস্থতার পর এটি প্রয়োগ করা হলে অষ্টম দিনে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটেছে।*
*চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের নতুন প্লাসবো নিয়ন্ত্রিত ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে গিলিয়েডের এ ওষুধের তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়েল অনুষ্ঠিত হবে। এক্ষেত্রে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হালকা এবং মাঝারি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ২৭০ রোগীকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।*

*প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে বলেছে, গিলিয়েডের ওষুধ নতুন করে ট্রায়েলের পর প্রতিক্রিয়া জানাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ চলছে। যদিও এ মুহূর্তে 2019-nCoV এর বিরুদ্ধে ক্রিয়াকলাপ দেখায় এমন রিম্যাডভাইভারের জন্য কোনো অ্যান্টিভাইরাল তথ্য নেই।*
*তবে অন্য করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে পরিচালিত ট্রায়েলে প্রাপ্ত তথ্য আমাদের আশা জাগায়। রিমেডিসিভির এখনও লাইসেন্সেড বা অনুমোদিত নয়। প্রাণীর মডেলগুলোতে ইন-ভিট্রো এবং ইন-ভিভো বিশ্লেষণ মধ্যপ্রাচ্যের শ্বসন সিন্ড্রোম (মার্স) এবং গুরুতর তীব্র শ্বাসতন্ত্র সিন্ড্রোমের (সার্স) বিরুদ্ধে ড্রাগের ক্রিয়াকলাপ প্রমাণ করেছে, যা 2019-nCoV এর কাঠামোগত মিলের সাথে ভাইরাল প্যাথোজেন।*