প্রচ্ছদ স্পটলাইট *আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ কে বা কারা?*

*আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ কে বা কারা?*

126
*আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ কে বা কারা?*

*ঢাকার দুই সি’টি কর্পো’রেশনের নির্বাচনের মাধ্যমে একটি বিষয় প্রমাণিত হয়েছে; তাহলো আওয়ামী লীগ এখন রাজনীতিতে প্রতিপক্ষশূন্য। বিএনপি আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা করার জন্য যেমন সাংগঠনিকভাবে সক্ষম না, তেমনি নেতৃত্বের দিক থেকেও অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে এখন প্রধান বিরোধী দল হলো জাতীয় পার্টি। তাদের অবস্থা তো তথৈবচ। সবসময় মনে করা হত যে, আওয়ামী বিরোধী যে শক্তি সেই শক্তির কেন্দ্রস্থল হলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। কিন্তু দলটি দুর্বল হতে হতে এমন ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে যে এখন আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে দলটিকে বলা অন্যায় পর্যায় পড়ে। তাই রাজনৈতিক অঙ্গনে সিটি নির্বাচনের পর প্রশ্ন উঠেছে তাহলে আওয়ামী লীগ কি প্রতিদ্বন্দ্বিহীন রাজনৈতিক দল হিসেবেই আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে? প্রতিপক্ষহীন রাজনৈতিক দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে?*

*কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ প্রতিপক্ষহীন না, বরং আওয়ামী লীগ অপ্রতিরোধ্যও নয়। বরং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দুর্বল করে একটি মহল আওয়ামী লীগের মূল প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়াতে চাইছে যাদেরকে বলা হয় তৃতীয় শক্তি। এই তৃতীয় শক্তির কোন রাজনৈতিক অবয়ব নেই, বরং কিছু ব্যক্তিসমষ্টি আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছে। সিটি নির্বাচনের আগে, কূটনৈতিকদের যে দৌড়ঝাঁপ ছিল সেই দৌড়ঝাঁপের পেছনেও এই সমস্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা ছিল বলে জানা গেছে। তাঁরা দেশেবিদেশে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জনমনে নানারকম বিভ্রান্তি এবং প্রচারণা করছে সারাক্ষণই। এরাই এখন আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ।*

*ড. মোহাম্মদ ইউনূস: ড. মোহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আওয়ামী লীগের দ্বৈরথ নতুন নয়। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এই অর্থনীতিবিদ দেশ বিদেশে সবসময় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রচার-প্রচারণায় লিপ্ত এবং দেশের চেয়ে তিনি বিদেশে বিভিন্ন নীতিনির্ধারকদের কাছে, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোতে তিনি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কথা বলার ক্ষেত্রে মুখপাত্র হিসেবে বিবেচিত হন। অভিযোগ রয়েছে যে, পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধের ক্ষেত্রে ড. মোহাম্মদ মোহাম্মদ ইউনূস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এখন ড. মোহাম্মদ মোহাম্মদ ইউনূস নিরব থাকলেও তিনি নিরবে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে কাজ করছেন।*

*ড. বদিউল আলম মজুমদার: সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার একজন নির্বাচন বিশ্লেষক হলেও তাঁর ইদানীংকার ভূমিকা হচ্ছে আওয়ামী লীগের সমালোচনা করা। নানাভাবে তিনি বোঝাতে চান যে আওয়ামী লীগের কারণে ভোটের অধিকার নষ্ট হচ্ছে, আওয়ামী লীগ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত নয় ইত্যাদি কথা দেশ বিদেশে প্রচারণার ক্ষেত্রে তিনি বিএনপির থেকেও সরব ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।*

*ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য: আওয়ামী লীগের গত ১১ বছরের সবথেকে বড় অর্জন হচ্ছে উন্নয়ন। আওয়ামী লীগ অনেকগুলো দৃশ্যমান উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। যেমন পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, রূপপুর পারমানবিক প্রকল্প। আর টানা প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সারা বিশ্বে একটি ইর্ষণীয় নজির স্থাপন করেছে। কিন্তু এই উন্নয়নকেও প্রশ্নবিদ্ধ করার ক্ষেত্রে যিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি হচ্ছেন তিনি হলেন, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো দায়িত্ব পালন করা এই অর্থনীতিবিদ উন্নয়নের নানা ফাঁকফোকর আবিষ্কার করছেন। এমনকি প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি নিয়েও নিয়মিত সন্দেহ পোষণ করছেন।*

*ড. ইফতেখারুজ্জামান: আওয়ামী লীগের এই টানা শাসনে দলটির আরেক প্রতিপক্ষ হিসেবে অভিভূত হয়েছে টিআইবি। আর টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রায় নিয়মিতভাবেই কিছু প্রতিবেদন প্রকাশ করে সরকারের ভেতরে দুর্নীতি ও সুশাসনের অভাব ইত্যাদি বিষয়গুলো চিহ্নিত করতে চাইছেন। তিনিও আওয়ামী লীগের একজন প্রতিপক্ষ হিসেবেই পরিচিত।*

*সুরেন্দ্র কুমার সিনহা: সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এখন নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। কিন্তু নিউইয়র্কে তিনি চুপচাপ বসে নেই। সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের আশায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নানা রকম বিষোদগার করছেন নিয়মিত। তবে শুধু বিষোদগার করেই তিনি ক্ষান্ত হয়নি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের নীতি নির্ধারক মহলে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নানা রকম অপপ্রচারের ক্ষেত্রে তিনি একজন শিরোমণি হিসেবে পরিচিত হয়েছেন।*

*এই সমস্ত ব্যক্তিদের আপাতদৃষ্টিতে বিচ্ছিন্ন এবং পৃথক সত্তা মনে হলেও তারা অভিন্ন লক্ষ্যে কাজ করছে। সেই লক্ষ্যটা হলো বিরাজনীতিকরণ প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রভাবশালী একটা গণমাধ্যম বা মিডিয়া হাউজ জড়িত। যারা প্রতিনিয়ত ভাবে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। আওয়ামী লীগের এখন রাজনীতি প্রতিপক্ষ নেই বটে তবে এই সুশীলরা আওয়ামী লীগের বড় প্রতিপক্ষ হিসেবে অভিভূত হয়েছেন।*