প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *শেখ হাসিনা ছাড়া ভারতের বিকল্প নেই*

*শেখ হাসিনা ছাড়া ভারতের বিকল্প নেই*

121
*শেখ হাসিনা ছাড়া ভারতের বিকল্প নেই*

*টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা মোদি সরকারের সম্পর্কের টানাপোড়েনের খবর এখন আর নতুন নয়। বিশেষ করে নাগরিকত্ব আইন এবং নাগরিকপঞ্জি নিয়ে দুইদেশের মধ্যে সম্পর্কের যে শীতলতা তা এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। আর সীমান্তগুলোতে প্রতিনিয়তই ঘটছে বাংলাদেশিদেরকে আ’টকে রাখার ঘট’না। এর ফলে দুইদেশের সীমান্ত রক্ষাবাহিনীর যে পতাকা বৈঠকগুলো হচ্ছে, সেগুলোও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন বলেছেন যে এই হত্যা দুঃখজনক, এটা কারোই কাম্য নয়। এই সবকিছু নিয়েই কূটনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।*

*বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এই যে শীতল হলো, এখন বিজেপি সরকার কি বাংলাদেশে নতুন মিত্র খুঁজছে? কারণ ভারতের কূটনৈতিক কৌশল যারা জানেন, সবসময় ভারত একটি বিকল্প রাজনৈতিক দলের ওপর আস্থা এনেই ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সম্পর্ক ইচ্ছে করেই খারাপ করে।*
*আমরা ১৯৯৬-২০০১ এ আমরা দেখেছি যে, সেই সময় তৎকালীন ভারত সরকার যখন বিএনপির সঙ্গে গোপন আঁতাত করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক স্থাপন করেছিল। শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নয়, ভারত সব পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গেও একই নীতি এবং কৌশল গ্রহণ করে। কিন্তু ভারতের কূটনৈতিক বিশ্লেষক এবং বিজেপির থিং’ক ট্যাং’করা এই যাত্রায় অন্য কথা বলছেন।*

*তারা বলছেন যে, বাংলাদেশে এখনো শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প তৈরি হয়নি। সেজন্য এখনই বাংলাদেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সংঘাতে যাওয়া বা সম্পর্কের টানাপোড়েন করা ঠিক নয়। বরং নরেন্দ্র মোদি ১৭ মার্চ বাংলাদেশে সম্পর্কের নতুন বার্তা নিয়ে আসবেন বলেই ভারতের কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন চলছে। দুইদেশের যে অস্থিরতাগুলো রয়েছে, সেগুলো দূর করার জন্য মোদি নিজেই উদ্যোগ নেবেন বলেও ভারতের কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে।*

*বিজেপি সরকারকে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে সেখানে কতগুলো ‘থিংক ট্যাংক’ খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাদের পরামর্শেই মূলত মোদি সরকার পরিচালিত হয়। এই থিংক ট্যাংকগুলোই এখন বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের ব্যাপারে অত্যন্ত নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করেছে নানা কারণে।*
*প্রথমত, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এটার জন্য একক কৃতিত্ব দাবি করতে পারেন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিজেপির থিংক ট্যাংকরা মনে করছেন যে শেখ হাসিনা ছাড়া এই সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো নেতৃত্ব বর্তমানে বাংলাদেশে আর নেই।*

*দ্বিতীয়ত, গত ১১ বছরে বাংলাদেশ থেকে ভারত বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন। এর ফলে বাংলাদেশ যেমন লাভবান হয়েছে, তার চেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে ভারত। কাজেই বিজেপির থিং’ক ট্যাং’করা মনে করছেন, এখন যদি সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরী হয় এবং তার আঁচ যদি বাণিজ্যের ওপর লাগে তাহলে ক্ষতি ভারতেরই হবে। আর এখন এমন কোন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান হয়নি যারা শেখ হাসিনার মত সততার সঙ্গে এই বাণিজ্যিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাবে।*

*তৃতীয়ত, পশ্চিম বাংলায় যে নাগরিকপঞ্জী এবং নাগরিক আইন নিয়ে অস্থিরতা তৈরী হয়েছে সেটা বিজেপিকে আরেকদফা বিপদে ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আর এরফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে বি’জেপির প্রতিদ্বন্দ্বি দল কংগ্রেস। আর এ কারণেই নরেন্দ্র মোদি এখন মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে সম্পর্ক ঝালিয়ে নেওয়ার কৌশল নিয়েছেন থিংক ট্যাংকদের পরামর্শেই। ভারত মনে করছে, পশ্চিম বাংলা যদি বি’জেপির ব্যাপারে নেতিবাচক হয় তাহলে সেই আঁচ বাংলাদেশেও লাগবে। বাংলাদেশেও ভারত বিরোধী মনোভাব তৈরী হবে।*

*চতুর্থত, ভারত মনে করছে যে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার যে জনপ্রিয়তা এবং শেখ হাসিনার প্রতি জনগনের যে আস্থা তেমন আরেকজন নেতা নেই। যিনি বিচ্ছন্নতাবাদী, জ’ঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রা’স দমনের ব্যপারে অনমনণীয় অবস্থান গ্রহণ করবে।*
*আর আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক আলগা হলে ভারতের বিচ্ছি’ন্নতাবাদী, জ’ঙ্গিবাদের উত্থান ঘটবে যেটা সে দেশের জন্য হবে একটা উদ্বেগজনক ঘটনা। আর এ কারণেই আগামী মাস থেকেই দৃশ্যপটের পরিবর্তন অপেক্ষা করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। নরেন্দ্র মোদি শান্তির বার্তা, সৌহার্দ্যের বার্তা নিয়ে সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার জন্য মুজিববর্ষে বাংলাদেশ সফর করবেন আর সেই সফরের মাধ্যমে দু দেশের সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক ছন্দেই ফিরবে বলে মনে করছেন ভারতের কূটনৈতিকরা।*