প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *বিএনপির কর্মীদের দ্বারা লা’ঞ্ছিত হলেন ফখরুল*

*বিএনপির কর্মীদের দ্বারা লা’ঞ্ছিত হলেন ফখরুল*

272
*বিএনপির কর্মীদের দ্বারা লাঞ্ছিত হলেন ফখরুল*

*সি’টি কর্পো’রেশন নির্বাচনে ব্যর্থতার কারণে নিজ কার্যালয়ে লা’ঞ্ছিত হলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ ভোটের পরপরই তিনি দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নিয়েছিলেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ব্যা’রিস্টার মওদুদ আহমেদ, স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ আরো অনেক নে’তৃবৃন্দ।*

*এই সময় প্রথমে তারা যখন নির্বাচনের ভোট গ্রহণের পর নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ আলোচনা করছিলেন, তখন দলের কর্মীরা সেখানে শ্লোগান দেয় এবং মির্জা ফখরুলকে দুয়ো দিতে থাকে। এমনকি তারা এ সময় মির্জা ফখরুলকে দালাল হিসেবে চিহ্নিত করেন। আর মির্জা ফখরুলকে অবিলম্বে মহাসচিবের পদ থেকে সরে যাওয়ার জন্য শ্লো’গান দিতে থাকে।*

*এ সময় খন্দকার মোশাররফ হোসেনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু প্রথম দফা সংবাদ সম্মেলনের পর তিনি কোনো কর্মসূচি ঘোষণা না করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন দলের কর্মীরা। এ সময় কর্মীরা রীতিমত তাদের ঘেরাও করেন। কিছু কিছু মধ্যস্তরের নেতার বাধা উপেক্ষা করে কর্মীরা মির্জা ফখরুল ইসলামকে মারতে যান। আর এ সময় তারা কর্মসূচিত দাবি উত্থাপন করেন। লাঞ্ছিত মির্জা ফখরুল হতভম্ব হয়ে পড়েন। এরপরই বিএনপির সিনিয়র নেতাদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। আর আধাঘন্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর কর্মসুচির ব্যাপারে ঘোষণা দেওয়া হয়।*

*উল্লেখ্য, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই নির্বাচনের পক্ষে ছিলেন। দলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এই নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। তারা মনে করছেন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া এই ধরনের নির্বাচনে অংশ নেওয়া অর্থহীন। কিন্তু তৃণমূলের মতামতকে উপেক্ষা করে ফখরুল এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে নির্বাচনে ভরাডুবির কারণে দলে তিনি এখন ভিলেন হিসেবে পরিচিত হচ্ছেন। তার উপর ক্ষুব্ধ নেতা কর্মীদের আক্রোশ আজ দলীয় কার্যালয়ে লক্ষ্য করা গেছে।*

*হ’রতাল: বিএনপির আরেকটি ভুল*
*ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে রাজধানীতে বিএনপি সকাল-সন্ধ্যা হর’তাল ডেকেছে। কিন্তু সেই হর’তালের কোনো আমেজ নগরীতে পড়েনি। স্বাভাবিক নিয়মেই যান চলাচল করছে এবং বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড়ও বাড়ছে। একমাত্র বিএনপির স্বেচ্ছাবন্দি নেতা রুহুল কবির রিজভী বিএনপি কার্যালয়ের সামনে চেয়ার নিয়ে শীতের রোদ পোহানো ছাড়া হরতালে বিএনপির তেমন কোনো কর্মসূচিও চোখে পড়েনি। এভাবে প্রস্তুতি ছাড়াই হ’রতাল ডেকে বিএনপি আরেকটি ভুল করলো বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।*

*১ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অনেকটা চাপের মুখেই আজ হ’রতাল ঘো’ষণা করেন। কিন্তু এই হরতালের জন্য বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রস্তুত ছিল না। নির্বাচনের পর তাদের মধ্যে হ’তাশা তৈরি হয়েছে। তার ওপর কর্মীদের বিরুদ্ধে পুরনো মা’মলাগুলোর চাপ। সবকিছু মিলিয়ে হর’তাল ডাকার জন্য যে সাংগঠনিক শক্তি দরকার তার কোনোটাই বিএনপির নেই।*
*বিএনপির একজন নে’তা বলেছেন, আগের সেই অবস্থা বিএনপির নেই যে, রাতে হর’তাল ডেকে সকাল বেলা তা পালন করবে। বরং কোনো প্রস্তুতি ছাড়া হর’তাল ডেকে বিএনপি তার রাজনীতিতে আরেকটি ভুল করলো। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যে, হরতালের পর বিএনপি যে ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচী দেবে তারও উপায় নেই।*

*আগামীকাল শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় বিএনপি যদি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচী দেয়, সেটা হবে বিএনপির আরেকটি গণবিরোধী সিদ্ধান্ত। যার ফলে সাধারণ মানুষ বিএনপির বি’রুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করবে, যেটা ২০১৪ এবং ১৫’তে হয়েছিল। তাই এই একটি মাত্র হরতাল দিয়ে এবং সেটিও যদি সাধারণ মানুষ প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে বিএনপির আন্দোলনের কৌশল কি ভুল হলো না? এই প্রশ্ন উঠেছে বিএনপির মধ্য থেকেই।*

*বিএনপি সত্যি সত্যি যদি সরকারের বিরু’দ্ধে আন্দো’লন করতে চায়, ফলাফল বাতি’লের দাবিতে সরকারকে সম্পৃক্ত করতে চায়, তাহলে বিএনপির প্রস্তুতি নিয়ে আন্দো’লন করা উচিৎ ছিল বলে দলের নে’তারাই মনে করেন। তারা আরও মনে করেন যে আগামী একমাস আন্দো’লন করার কোনো সময় নেই কারণ আগামীকালই শুরু হবে এস’এসসি পরীক্ষা। এরপর মার্চ মাসে আ’ন্দোলন করা যাবে না কারণ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী নিয়ে দেশকে নিরাপত্তার চাদরে রাখা হবে। এপ্রিলে শুরু হবে রোজা, কাজেই সেসময় আন্দোলন শুরু করা যাবে না। এই দীর্ঘ সময় আন্দোলন না করার কারণে যে এই ই’স্যুটি থিতিয়ে পড়বে, সেটা বোঝার জন্য কোনো বোদ্ধা হওয়ার দরকার নেই।*
*তাই ভুল সময়ে ভুল কৌশলে হর’তাল ডেকে বিএনপি আরেকটি ভুল করলো বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিশেষত এই হর’তালের ফলে তাদের যে সাংগঠনিক দুর্বলতা, তা আরও স্পষ্ট হলো। ফলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের ওপর আরও চড়াও হতে এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে এতটুকু দ্বিধা করবেন না।*