প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *বিএনপির পরা’জয়ে উল্ল’সিত তারেক*

*বিএনপির পরা’জয়ে উল্ল’সিত তারেক*

228
*বিএনপির পরাজয়ে উল্লসিত তারেক*

*ঢাকার দুই সি’টি কর’পোরেশনে বিএনপির পরাজয় এখন নিশ্চিত। বিএনপির পক্ষ থেকে আজ সংবাদ সম্মেলন ডেকে এই নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এবং আগামীকাল ঢাকা শহরে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকা হয়েছে।*
*কিন্তু দুইদিন ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া এই ফলাফলে উল্লসিত। তারেক জিয়া এই ফলাফলের পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে টেলিফোন করে বলেছেন যে, ‘আই অ্যাম হ্যাপি’। বিএনপির একাধিক নেতা বলেছেন যে, বিভিন্ন কারণে তারেক এই ফলাফলে উল্লাস প্রকাশ করেছেন।*

*প্রথমত, এই নির্বাচনে তারেককে মাইনাস করা হয়েছিল এবং বিএনপির দুই প্রার্থীর কেউই নির্বাচনী প্রচারণার সময়ে কোন পর্যায়ে তারেক জিয়ার নাম উচ্চারণ করেনি। এতে তারেক জিয়া অত্যন্ত ক্ষুদ্ধ ছিলেন এবং বিএনপির দুই প্রার্থীর কারো সাথেই কোনপ্রকার যোগাযোগ রাখেননি।*
*দ্বিতীয়ত, তারেক জিয়া জানতেন যে, এই নির্বাচনে যদি কোনভাবে বিএনপি বিজয়ী হয়, তাহলে রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান আরও নড়বরে হয়ে যেত এবং তাঁর আদেশ-নির্দেশ বিএনপিতে কেউ শুনবে না।*

*তৃতীয়ত, এই দুই প্রার্থী বিজয়ী হলে সরকারবিরোধী এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন থেকে বিএনপি দূরে সরে যেত। বরং বিএনপি সরকারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাঁদের সংগঠন গোছাতো এবং তারেক জিয়ার কাছে এরকম খবর ছিল যে, একটি বা দুটি কেন্দ্রে বিজয়ী হলেই বিএনপির বিজয়ী মেয়ররা সরকারের সাথে আঁতাত করবে। বরং তারেক জিয়া চেয়েছিলেন যে, এই নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হোক, পরাজিত হবার মাধ্যমে বিএনপি একটি আন্দোলনের পথপ্রক্রিয়া শুরু করুক।*
*একারণেই তারেক জিয়া যা চেয়েছিলেন, তেমনটাই হয়েছে এই নির্বাচনে তাই তারেক তাঁর উল্লাস এবং আনন্দ গোপন রাখতে পারেননি। তাই তিনি বিএনপির বিচিন্ন নেতাকে ফোন দিয়ে এই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তাঁর সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন।*

*বিএনপির টিকে থাকার ৫ চ্যালেঞ্জ*
*ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন ছিল বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ। কিন্তু ঘুরে দাঁড়ানো তো দূরের কথা, এই নির্বাচন বিএনপিকে আরও বেশি অস্তিত্বের সংকটে ফেলেছে। এই নির্বাচনে বিএনপি যেভাবে আশা করেছিল, বাস্তবে ঠিক তার উল্টো ঘটনাটিই ঘটেছে। এই নির্বাচনে বিএনপি মনে করেছিল যে যেহেতু বিএনপি প্রচার প্রচারণা ভালো করেছে, সেহেতু স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাররা এসে বিএনপিকে ভোট দেবে। কিন্তু জনগণকে সম্পৃক্ত করা ছাড়া যে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দেয় না, এটা বিএনপির হিসাবের মধ্যে ছিল না। বিএনপি মনে করেছিল যে নেতাকর্মীরা যেভাবে মাঠে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছিল, ঠিক একইভাবে তারা পোলিং এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু আগেরদিনেও যারা নির্বাচনী প্রচারণায় ছিল, তারাই পরেরদিন নির্বাচনে পোলিং এজেন্ট হিসেবে অনুপস্থিত ছিল।*
*এ কারণেই অস্তিত্বের সংকটে থাকা বিএনপি এই সিটি নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন করে সংকটে পড়েছে। বিএনপির নেতারাই মনে করছেন যে এই নির্বাচনের পর বিএনপি টিকে থাকার সংগ্রামে ৫ টি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি পড়েছে। এগুলো হলো:*

*তৃণমূলে হতাশা: প্রথম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে তৃণমূলে হতাশা। এই নির্বাচন তৃণমূলকে পুরোপুরি হতাশ করেছে। তৃণমূলের মধ্যে যে আশা ছিল যে জনগণ বিএনপিকে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে, জনগণ এই সরকারের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ খুঁজছে কিন্তু সুযোগ পাচ্ছে না। কিন্তু এবারের নির্বাচনে দেখা গেছে যে জনগণ আওয়ামী লীগ বিএনপি নয়, জনগণ ভোটের ওপরেই আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। বিএনপিকে ভোট দেওয়ার জন্য জনগণ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার কোনো আগ্রহ প্রকাশ করেনি। তাই তৃণমূলের মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে।*

*নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা: ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর থেকে বিএনপির তৃণমূলের মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে একধরনের অনাস্থা তৈরি হয়েছে। তারা একবার বলছে যে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর তারা এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না, এই নির্বাচন কমিশনের অধীনেও তারা কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না। কিন্তু এর পরপরই তারা সংসদে গেছে, শপথ নিয়েছে, এই সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের অধীনে তারা নির্বাচনও করেছে। বিএনপির বার বার মত বদল এবং সিদ্ধান্ত পরিবর্তন নেতৃত্বের প্রতি তৃণমূলের অনাস্থা তৈরি করেছে। এই নির্বাচনের সময়েও বিএনপির নেতৃত্বের পক্ষ থেকে মনে করা হয়েছিল যে, এই নির্বাচন হবে ঘুরে দাঁড়ানোর নির্বাচন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে ঢাকাবাসী ভোটবিপ্লব করবে। কিন্তু এর কিছুই হয়নি। বরং এই সিদ্ধান্ত তৃণমূলের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতি নতুন করে অনাস্থা তৈরি করেছে।*

*খালেদার মুক্তি: বিএনপির টিকে থাকার সংগ্রামে এখন সবচেয়ে বড় ইস্যু হলো খালেদার মুক্তি। বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে একদফা আন্দোলনের কথা বলেছিল। একদফা আন্দোলন তো দূরের কথা, খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে এখন ন্যূনতম কর্মসূচিও তারা দিতে পারছে না। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার প্যারোলের জন্য যে পরিবার উদ্যোগ নিয়েছে, তারও বিরোধিতা করেছে বিএনপি। আইনি পথে বেগম খালেদা জিয়াকে মু্তি করতেও তারা ব্যর্থ হয়েছে।*

*বিএনপির যারা কর্মীসমর্থক, তাদের একটি বড় অংশ বেগম খালেদা জিয়ার অনুগত এবং তারা বেগম জিয়াকে পছন্দ করেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে বিএনপি যখন কিছু করতে পারছে না, তখন তাদের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা এবং অনাস্থা হচ্ছে। খালেদা জিয়ার মুক্তির ইস্যুতে শেষ পর্যন্ত বিএনপি যদি ভেঙেও যায়, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কারণ খালেদার পরিবার এখন যেকোনো মূল্যে, এমনকি প্যারোলের জন্য হলেও খালেদা জিয়াকে মুক্ত দেখতে চায়।*

*নতুন করে মামলা আতঙ্ক: সিটি নির্বাচনে বেশকিছু সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে দক্ষিণের গোপীবাগের ঘটনার পরে বিএনপির একাধিক নেতার নামে মামলা হয়েছে। এছাড়াও মেয়রপদে বিএনপির দুই প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, তাদের দুইজনের নামেও দুর্নীতির মামলা রয়েছে। যেহেতু বিএনপি আজ হরতাল পালন করলো, তাই অনেকেই মনে করছেন সিটি নির্বাচনের প্রচারণায় যারা একেবারে সামনের দিকে ছিল, যারা চিহ্নিত হয়েছে- তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা চালু হবে। পাশাপাশি বিএনপিকে আরও নিংসঙ্গ এবং নিস্তেজ করে দেওয়া হবে। এর ফলে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে আরও দুর্বল হয়ে পড়বে তা নিশ্চিত।*

*দলের অনৈক্য এবং বিভেদ: সিটি নির্বাচনের পরে বিএনপির জন্য আরেকটি চ্যালেঞ্জ হয়েছে যে বিএনপির মধ্যে অনৈক্য এবং বিভেদ মেটানো। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর থেকে বিএনপির মধ্যে বিরোধ ছিল প্রকাশ্য। সেই বিরোধ এখন আরও প্রকাশ্য হয়েছে এবং বিএনপির নেতারা একে অন্যকে প্রকাশ্যেই দোষারোপ করছেন। তাদের মধ্যে অনৈক্য নিয়েও কোনো রাখঢাক নেই। এই পরিস্থিতিতে গতকালের নির্বাচনের পর এই বিরোধ অনৈক্য আরও বাড়বে এবং বিএনপি আরও সংকটে পড়বে।*
*সার্বিকভাবে টিকে থাকার সংকটে থাকা বিএনপি এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করে কীভাবে একটি রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে টিকে থাকবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।*