প্রচ্ছদ শিক্ষাঙ্গন *এবার ঢা’বির চার শিক্ষার্থীকে রাতভর পি’টিয়েছে*

*এবার ঢা’বির চার শিক্ষার্থীকে রাতভর পি’টিয়েছে*

28
*এবার ঢাবির চার শিক্ষার্থীকে রাতভর পিটিয়েছে*

*চার মাস পার হলেও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ব’বিদ্যালয়ের (বু’য়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হ’ত্যা ঘট’নার কথা এখনো সবার মুখে মুখে। সেই ঘট’নার বিচার শুরু হওয়ার আগেই ফের আবরার স্টা’ইলে শি’বির স্টা’ইলে রাতভর ছাত্রলীগের নির্যা’তনের শি’কার হয়েছে ঢাকা বিশ্ব’বিদ্যালয়ের শহীদ সার্জে’ন্ট জহুরুল হক হলে চার শিক্ষার্থী।*
*মারধ’রের পর হল প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরি’য়াল টি’ম আহত শিক্ষার্থীদের শাহাবাগ থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে রাতেই শাহবাগ থানা পুলিশ আহত চার শিক্ষার্থীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাস’পাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। তবে এই ঘট’নায় বিশ্ববিদ্যালয় পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো অভি’যোগ দায়ের করা হয়নি।*

*ছাত্রলীগের একটি সূত্র জানায়, রাত সাড়ে ১১টায় সন্দেহবশত তারা দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে শি’বির সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য গেস্ট’রুমে ডেকে আনে। এ সময় ছাত্রলীগের নেতারা প্রথমে ঐ শিক্ষার্থীকে শিবিরকর্মী স্বীকার করানোর জন্য মানসিকভাবে চাপ দিতে থাকে। স্বীকার না করায় মার’ধর করে। এ সময় তার মোবাইলে আরও তিন বন্ধুর সঙ্গে ‘যোগাযোগ তালিকায়’ নাম থাকায় তাদেরও ডেকে গে’স্টরুমে আনা হয়। এ সময় হল শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা, হল সংসদের সহ-সভাপতি সাইফুল্লাহ আব্বাসী অনন্তসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগের নেতারা এসে র’ড, লা’ঠি দিয়ে মা’রধর করে। মার’ধরে গুরুতর আ’হত হয় ওই চার শিক্ষার্থী।*

*প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১১টার দিকে জহুরুল হক হলের গে’স্টরুমে ছাত্রলীগের নিয়মিত গে’স্টরুম চলছিল। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যু’রিজম অ্যা’ন্ড হস’পিটালিটি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মুকিম চৌধুরীকে শিবির সন্দে’হে গে’স্টরুমে ডাকা হয়। সেখানে হল শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা তাদের অনুসারীদের দিয়ে মুকিমকে প্রথমে মানসিকভাবে চাপ দেয়। এতে স্বীকার না করায় তাকে লা’ঠি, স্টা’ম্প ও র’ড দিয়ে বেধ’ড়ক মা’রধর করতে থাকে। পরে তার ফোনের কল’লিস্ট দেখে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সানওয়ার হোসেনকে গেস্ট’রুমে আনা হয়। সেখানে তাকেও বেধ’ড়ক মার’ধর করে ছাত্রলীগের নে’তারা। মার’ধর সহ্য করতে না পেরে উভয়ই মেঝেতে বসে ও শুয়ে পড়ে।*

*এর একটু পর ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মিনহাজ উদ্দীন এবং একই বর্ষের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী আফসার উদ্দীনকে ধরে গে’স্টরুমে আনা হয়। সেখানে রাত দুটা পর্যন্ত তাদের ওপর নির্যা’তন করতে থাকেন ছাত্রলীগ নে’তারা। পরে রাত ২টার পর তাদের প্রক্টরি’য়াল টি’মের মাধ্যমে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে পুলিশ তাদের ঢাকা মেডি’কেল ক’লেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।*
*এ বিষয়ে নির্যা’তন করা ছাত্রলীগের নেতারা দাবি, আহত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শি’বির সংশ্লিষ্ট বই উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধার করা বইটি দেখাতে পারেননি তারা। এমনকি শি’বিরের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি ছাত্রলীগ।*

*নির্যাতনকারী আনোয়ার হোসেন ও আমির হামজা দুজনেই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের অনুসারী। আমির হামজা ঢাকা মেডি’কেল ক’লেজের সামনে এক ফার্মে’সি দোকানদারকে মা’রার অপ’রাধে ঢাকা বিশ্ব’বিদ্যালয় ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত হয় বলে জানা গেছে।*
*এছাড়া তার বিরু’দ্ধে ক্যাম্পা’সের বিভিন্ন জায়গায় ছাত্রলীগের নাম দিয়ে চাঁ’দাবাজির অ’ভিযোগ রয়েছে। এতে তাকে হল থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। তবে ছাত্রলীগের ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের ইচ্ছায় তিনি আবার হলে ফেরেন।*

*জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববি’দ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘তাদেরকে কেউ নির্যা’তন করেনি। হ’ল প্রশাসন এবং প্রক্ট’রিয়াল টি’মের সহায়তায় তাদেরকে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে কিছু না পেলে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হবে।’*
*শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, গতকাল রাত আনুমানিক তিনটার দিকে হলে চার শিক্ষার্থীকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। চিকিৎসার পর রাতেই আবার তাদের থানায় আনা হয়। বর্তমানে তারা থানায় আছে।*