প্রচ্ছদ অর্থ-বাণিজ্য *ভারতের হঠাৎ নিষে’ধাজ্ঞা বাংলাদেশের সয়াবিন আমদানিতে*

*ভারতের হঠাৎ নিষে’ধাজ্ঞা বাংলাদেশের সয়াবিন আমদানিতে*

103
*ভারতের হঠাৎ নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের সয়াবিন আমদানিতে*

*একটি মাত্র শব্দ ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে ভোজ্যতেল আমদানিতে হঠাৎ ‘বিধি’নিষেধ’ জারি করে দিল ভারত, যার ফলে বিপাকে পড়েছে দেশের রপ্তানিমুখী ভোজ্যতেল কারখানাগুলো।*
*রপ্তানির উদ্দেশে শত শত কনটেইনার ভর্তি ভোজ্যতেল আ’টকা পড়েছে সীমান্তের স্থলবন্দরগুলোতে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরোপিত নিষে’ধাজ্ঞা তুলে নিতে ভারতকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠাচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আজকালের মধ্যে এই চিঠি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। সূত্রগুলো জানায়, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা সাফটার আওতায় ভারতে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ভোজ্যতেল রপ্তানির সুবিধা ভোগ করছিলেন। তবে দেশটির সরকারের নির্বাহী আদেশে সম্প্রতি সেই সুবিধা বন্ধ করতে আমদানি নীতি সংশোধন করা হয়েছে। এর ফলে দেশটিতে আর ভোজ্যতেল রপ্তানি করতে পারছে না বাংলাদেশের কোম্পানিগুলো।*

*গত ৮ জানুয়ারি ভারতের বাণিজ্য দফতর ভোজ্যতেল আমদানির ক্ষেত্রে এ সংক্রান্ত গেজেট নোটিফিকেশন জারি করে। এতে দেশটি তাদের আমদানি নীতি সংশোধন করে পামঅয়েল, পামঅলিন ও অন্যান্য ভোজ্যতেল আমদানিতে ‘ফ্রি’ শব্দের স্থলে ‘রেস্ট্রিকটেড’ শব্দটি বসিয়ে দিয়েছে। আর এই এক শব্দেই বন্ধ হয়ে গেছে বাংলাদেশ থেকে ভোজ্যতেল রপ্তানি। বিষয়টি স্বীকার করে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন জানান, ভোজ্যতেল আমদানিতে হঠাৎ রেস্ট্রিকশন আরোপের ইস্যুটি তিনি গত সপ্তাহে (১৫ ও ১৬ জানুয়ারি) দিল্লিতে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের সভায় তুলেছিলেন।*

*সেখানে ভারত দাবি করেছে, তেল আমদানির ক্ষেত্রে তাদের এই বিধিনিষেধ সব দেশের জন্যই কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য তারা পৃথক কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেননি। এ ছাড়া এটিকে তারা নিষেধাজ্ঞা না বলে ‘শর্তারোপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বলেও জানান বাণিজ্য সচিব। ‘ভারত আমাদের বলেছে, তারা ভোজ্যতেল আমদানি একেবারে বন্ধ করে দেয়নি, তবে তাদের ওখানে ভোজ্যতেল রপ্তানি করতে হলে দেশটির বাণিজ্য দফতরের অনুমতি নিতে হবে। এখন আমরা তাদের এই রেস্ট্রিকশন তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি,’ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ড. জাফর উদ্দীন। সংশ্লিষ্টরা জানান, খাদ্য নিরাপত্তা ইস্যুতে একটি দেশ কোনো ধরনের নোটিফিকেশন ছাড়াই আমদানি-রপ্তানিতে ‘বিধিনিষেধ’ জারি করতে পারে। যেমন পিয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটি।*

*তবে ভোজ্যতেল ভারতের খাদ্য নিরাপত্তার অন্তর্ভুক্ত পণ্য নয় এবং এটি আমদানির ওপর নির্ভরশীল দেশটি হঠাৎ কেন এই পণ্য আমদানিতে বিধিনিষেধ জারি করল সেটিও বোধ্যগম্য নয় বলে জানাচ্ছেন বাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা। কেন না, কোনো ধরনের কারণ দর্শানো ছাড়া পণ্য আমদানির ওপর এ ধরনের বিধিনিষেধ সাফটার মুক্তবাণিজ্য চেতনার পরিপন্থী। এদিকে পার্শ্ববর্তী দেশটির হঠাৎ নিষেধাজ্ঞায় স্থলবন্দরে আটকে গেছে কনটেইনার ভর্তি কয়েক হাজার মেট্রিক টন ভোজ্যতেল। আরও কয়েক হাজার মেট্রিক টন ভোজ্যতেল এলসি করার পর সেগুলো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশীয় কোম্পানিগুলো।*

*শুধু তাই নয়, দেশের ইকোনমিক জোনগুলোতে প্রতিষ্ঠিত শতভাগ রপ্তানিমুখী ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে। তাদের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। বেকার হয়ে পড়েছে শত শত শ্রমিক। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে রপ্তানির উদ্দেশে পাঠানো কিছু কিছু কোম্পানির ভোজ্যতেল ভর্তি কনটেইনার আটকে গেছে বিভিন্ন এলসি স্টেশনে। এ অবস্থায় তারা স্থানীয় বাজারে ভোজ্যতেল বিক্রির অনুমোদন চেয়েছেন। গত ১৫ জানুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে উদ্বেগ জানিয়ে এসজি অয়েল রিফাইনারিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সারোয়ার আই তালুকদার পিএসসি, এনডিসি, (অব.) উল্লেখ করেন, মোংলা ইপিজেডে অবস্থিত তাদের তেল পরিশোধন কারখানাটি শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান।*

*২০১৮ সালের জুলাই থেকে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের কোম্পানি ভারতে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ভোজ্যতেল রপ্তানি করেছে। তবে গত ৮ জানুয়ারি থেকে বিধিনিষেধ জারির পর তারা সীমান্ত দিয়ে আর ভোজ্যতেল রপ্তানি করতে পারছেন না। তেল রপ্তানি না হওয়ায় তাদের কোম্পানি বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়ভাবে নিয়োগকৃত প্রায় ২০০ শ্রমিক বেকার হয়ে গেছে। এখন উৎপাদিত ভোজ্যতেল স্থানীয়ভাবে বিক্রির অনুমোদন চেয়ে কোম্পানিটির চেয়ারম্যান বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে এই ‘বিধিনিষেধ’ তুলে নেওয়ার জন্য যেন যত দ্রুত সম্ভব ভারতকে অনুরোধ জানানো হয়। না হলে রপ্তানিমুখী তেল পরিশোধন কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাবে, যেটি দেশের কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।*