প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত *চার ই’মামসহ সবাই একমত গান-বাদ্য ইসলামে হা’রাম!*

*চার ই’মামসহ সবাই একমত গান-বাদ্য ইসলামে হা’রাম!*

সুষুপ্ত পাঠক

73
*চার ইমামসহ সবাই একমত গান-বাদ্য ইসলামে হারাম!*

*ইসলামে গান জায়েজ হলে মসজিদে গান গাওয়া হত। আমি একটা গির্জাতে শিশুদের গলায় রবীন্দ্রনাথের ‘সকাতরে ওই কাঁদিছে সকলে, শোনো শোনো পিতা। কহো কানে কানে, শুনাও প্রাণে প্রাণে মঙ্গলবারতা’ গাইতে শুনেছি। মসজিদে রবীন্দ্রনাথের কোন ভক্তিমূলক গান কি জুম্মার খুতবার আগে পড়ে গাওয়া সম্ভব? তাহলে আপনি কোন খুঁটির জোরে ইসলামে গান জায়েজ তার রেফারেন্স দেয়ার চেষ্টা করছেন?*

*ঈদের দিন দফ বাজিয়ে রসূলের সামনে এক বাঁদি গান গাইছিলো সেই হাদিস পেশ করে ইসলামে গান জায়েজ বলার চেষ্টা কি জোয়ারে বালুর বাধ টিকবে? আপনি বলুন ঈদের দিন রুনা লাইয়া মৃদু নেচে নেচে শরীর দুলিয়ে গলা ছেড়ে ‘শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাবো’ গাইলে ইসলামের কোন অসুবিধা নাই? ইসলাম কি সেই অনুমোদন দিয়েছে? দফ বাজিয়ে তথাকথিত আল্লার নবীর সামনে তার প্রশংসা করে এক বাঁদি গান গাইছিলো। এর নামি বুঝি সংগীত? আরব দেশে কি আর বাদ্য যন্ত্র ছিলো না? সেগুলোর কোন নাম কেন পাই না ইসলামে? গান মানে কি আল্লার প্রশংসা আর রসূলের সুখ্যাতি? বিয়ের সুসংবাদ জানিয়ে দফ বাজানোর আদেশ আয়েশাকে মুহাম্মদ দিয়েছিলেন সেই হাদিস দিয়ে বাজনাকে জায়েজ করা যায় কি? ঘরের অন্তপুরে মহিলারা গোপনে হাস্যকর একটা বাদ্য যার কোন উচ্চস্বর নেই, কোন সুর নেই তা বাজিয়ে নিজেরা আনন্দ করবে এটাকে সংগীত বলে? মুহাম্মদকে কি আয়েশাকে স্টেজে বসে সেতার বাজানোর অনুমতি দিয়েছে? এমন কোন হাদিস দেখাতে পারবেন?*

*পারবেন না। এবার আসি যে হাদিস দিয়ে ইসলামে গান জায়েজের চেষ্টা হচ্ছে তার খানিকটা বিশ্লেষণ। (বুখারীঃ ৯৪৪, মুসলিমঃ ৮৯২) এই হাদিস থেকে জানা যায় একদা ঈদের দিন রসূল চাদরে মুখ ঢেকে শুয়ে আছেন আর পাশে দুই বাঁদি দফ বাজিয়ে গান গাইছিলো। এমন সময় আবু বকর ঘরে প্রবেশ করে বাঁদিকে গান গাইতে দেখে রেগে উঠেন। তিনি তিরস্কার করে বলেন, কোন সাহসে তোমরা আল্লার রসূলের সামনে শয়তানের প্রলাপ বকছো।… রসূল তখন আবু বকরকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, হে আবু বকর! ওদেরকে ধমক দিওনা, আজ ঈদের দিন, ওদেরকে একটু আনন্দ করতে দাও। তাছাড়া ওরা তো আল্লাহ ও রসূলের প্রশংসা করছে…।*

*এর নাম কি গান জায়েজ? আপনার বাড়ির বৈঠকখানায় আপনার স্ত্রী বা কন্যা হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান গাইছে রবীন্দ্র বা নজরুল- আর শুনছে আত্মীয় ও প্রতিবেশীরা- বলুন ইসলাম এই সংগীতকে সমর্থন করে? মদিনা হিযরত করার সময় মুহাম্মদকে আনসার মহিলারা গান গেয়ে অভ্যার্থনা জানিয়েছিলো। এই হাদিস থেকে বলা হচ্ছে গান হারাম হলে রসূল এসবকে বরদাস করতেন না। কি উদ্ভট যুক্তি। তখনো তো শরীয়ত তৈরি হয়নি। কুরআনের একটাও মাদানী সুরা নাযিল হয়নি। তখনো মদ নিষিদ্ধ হয়নি। তাছাড়া স্বাভাবিকভাবে একজন বিদেশী যিনি আশ্রয় নিচ্ছেন তিনি অন্যের সংস্কৃতিতে এক দেখাতেই খারিজ করতে পারেন না। মদিনা থিতু হওয়ার পর মুহাম্মদ যখন দেখলেন রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন তখনই তিনি আয়ত নাযিল করছিলেন তার মন মতো। হযরত বিল্লাল গলায় ঢোল বেধে ইসলামের বিভিন্ন বার্তা শোনানোকে রেফারেন্স টানাও একই ব্যাপার। মক্কা থাকার সেই সময় নামাজই তো তখন পর্যন্ত আসেনি। ইসলামে গান বাদ্যের প্রতি বৈরী হয় নযর বিন হারিসের কারণে।*

*সুরা লোকমানের ৬ নম্বর আয়াতকে গান হারামের দলিল ধরা হয়, কারণ এই আয়াতটা নাযিল হয় হারিসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এই সুরার শানে নযূল বলছে, নযর ইবনে হারিস বিদেশ থেকে একটি গায়িকা বাঁদী খরিদ করে এনে তাকে গান-বাজনায় নিয়োজিত করল। কেউ কুরআন শ্রবণের ইচ্ছা করলে তাকে গান শোনানোর জন্য সে গায়িকাকে আদেশ করত এবং বলত মুহাম্মদ তোমাদেরকে কুরআন শুনিয়ে নামায, রোযা এবং ধর্মের জন্য প্রাণ বিসর্জন দেওয়ার কথা বলে। এতে শুধু কষ্টই কষ্ট। তার চেয়ে বরং গান শোন এবং জীবনকে উপভোগ কর। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা উক্ত আয়াত নাযিল করেন। -মাআরিফুল কুরআন ৭/৪।*

*মুহাম্মদের সবচেয়ে প্রিয় সাহা্বী, যাকে মুহাম্মদ মনে করতেন কুরআন সবচেয়ে ভালো বুঝে সেই আবদুল্লাহ ইবনে মাসুদ সুরালোকমানের ‘লাহওয়াল হাদীস’ বলতে কি বুঝানো হয়েছে তার উত্তরে বলেন, তা হচ্ছে ‘গান’। এছাড়া তাবেয়ী সায়ীদ ইবনে যুবাইর থেকেও অনুরূপ মত বর্ণিত হয়েছে। বিখ্যাত তাবেয়ী হাসান বসরী রাহ. বলেন, উক্ত আয়াত গান ও বাদ্যযন্ত্রের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে, যা বান্দাকে কুরআন থেকে গাফেল করে দেয়।-তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৪৪১।*

*ইসলামের চার ইমামসহ সবাই একমত গান বাদ্য সমস্ত ইসলামে হারাম! তাহলে কি? আজ থেকে গান গাওয়া কিংবা শোনা ছেড়ে দিবেন? আমি জানি আমার অনেক বন্ধু বিরক্ত হয়ে বলতে চাইছেন যারা ইসলামে গান জায়েজ প্রমাণ করতে চাইছে এটা তো ভালো, কেন আমি তাদের প্রচারণায় ব্যাঘাত করছি? শোনেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, ইসলামে গান হারাম পাপের কাজ, শয়তানের কাজ এমন বক্তব্য রেফারেন্স তথ্য সমস্ত কিছু কি কেউ মুছে ফেলতে পারবে? একটাও কথিত জাল হাদিস কি ইসলাম থেকে কেউ নিশ্চিহ্ন করতে পেরেছে?*

*মাদ্রাসা, মক্তব, মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্র আল আজহার বা দেওবন্ধ থেকে কি গান হারামের হাদিস কুরআনের শিক্ষা কেউ বাতিল করতে পারবেন? কেউ পারবে না। কিন্তু মাঝখান থেকে ইসলামে গান জায়েজ- এই একটা অপপ্রচার মুসলিম মডারেট বলে একটা ট্যাঁশ প্রজাতীকে ইসলাম দিয়েই সব কিছু ডিফেন্স করতে শেখানো হচ্ছে। তার মানে কি, ইসলামে গান হারাম হলে গান শুনব না? কেন ধর্ম চলে আসবে সব কিছুতে? সিনেমা দেখা হারাম নাকি হালাল? কিছু লোক বলবে যা দেখে মানুষ কিছু শিক্ষতে পারে, শালিন সুন্দর কিছু দেখা তো পাপ নয়… অতএব্র সিনেমা হারাম হবে কেন?*

*কিন্তু সিনেমায় নর-নারীর স্বামী স্ত্রী সেজে অভিনয় ইসলামের কোন ফেকরা জা’য়েজ বলবে দেখান আমাকে! কেন মুসলমানদের সিনেমা দেথার আগে ইসলামে জায়েজ আছে সেই স্বস্তি নিয়ে বসতে হবে কিংবা অস্বস্তি নিয়ে বসতে হবে? কেন মুসলিমরা সব কিছু ধর্ম দিয়ে বিচার করবে? ইহুদী খ্রিস্টান হিন্দু বৌদ্ধরা তো কোন শিল্পকে ধর্ম দিয়ে হালাল হারাম করে নেয় না। ওসব ধর্মের যদিও গান বৈধ কারণ মন্দির গির্জা মঠে গান গাওয়া হয়। সেটা নজরুল লিখুক কিংবা রবীন্দ্রনাথ কিছু যায় আসে না। মন্দিরে নজরুলের শ্যামা সংগীত আকছার গাওয়া যায়। মসজিদে আবদুল আলীমের সর্বনাশা পদ্মা নদী এই গানটাই গেয়ে শোনান দেখি, দেখি মডারেট আলেমরা সেটা পারেন কিনা!*
*সুষুপ্ত পাঠক: ব্ল’গার*