প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *সি’টি নির্বাচনে তারেককে অ’বাঞ্চিত ঘো’ষণা*

*সি’টি নির্বাচনে তারেককে অ’বাঞ্চিত ঘো’ষণা*

148
*সি'টি নির্বাচনে তারেককে অ'বাঞ্চিত ঘো'ষণা*

*ঢাকার দুই সি’টি ক’র্পোরেশন নির্বাচনে প্রচার প্রচারণা এখন তুঙ্গে। নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে ততই অন্য প্রার্থীদের ছাপিয়ে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি প্রার্থীদের প্রচারণাই ঢাকাবাসীর নজর কাড়ছে। এই নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি অন্যান্যবারের তুলনায় নিজেদের বেশি নিয়োজিত করেছে। প্রচারণায় বিএনপি- আওয়ামী লীগ পাল্লা দিয়ে ল’ড়াই করছে। নির্বাচন প্রচারণায় বিএনপির দুই প্রার্থী উত্তরে তাবিথ আউয়াল এবং দক্ষিণে ইশরাক হোসেন নির্বাচনী প্রচারণায় বিভিন্ন রকম কথাবার্তা বলছেন। একদিকে যেমন তারা নাগরিক সমস্যা সমাধানের কথা বলছেন।*

*অন্যদিকে নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ হবে কিনা সেই নিয়ে তাদের সংশয় এবং সন্দেহেরে কথা বলছেন। তাদের ওপর হা’মলার কিছু সত্য কিছু মিথ্যে মিলিয়ে অভি’যোগ উত্থাপন করছে। পাশাপাশি মূল রাজনীতি নিয়েও দুই প্রার্থী কিছু কিছু কথা বলছে। এর মধ্যে খালেদা জিয়ার মুক্তি, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে ভোটের অধিকার নিশ্চিতের মত নানা রকম মুখরোচক কথাবার্তা দিয়ে তারা ভোটারদেরকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু নির্বাচনী প্রচারণায় এবার একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো বিএনপির দুই প্রার্থীর কেউই তারেক জিয়ার নাম একটি বারের মতো উচ্চারণ করেননি। গত সাতদিনে যে নির্বাচনী প্রচারণা তাতে তাবিথ আউয়াল এবং ইশরাক হোসেন দেড় শতাধিক পথসভা মতবিনিময় সভা করেছেন। এর একটিতেও তারা তারেক জিয়ার নাম পর্যন্ত উচ্চারণ করেননি।*

*শুধু তাবিথ এবং ইশরাক নন, তাদের সঙ্গে যারা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করছেন, সেই হেভি’ওয়েট নে’তারা যেমন- মির্জা আব্বাস ও তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ যারা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করছেন- তারাও এই এই প্রচারণায় তারেক জিয়ার নাম উচ্চারণ করছেন না।*
*প্রশ্ন উঠেছে যে বিএনপিতে কি তাহলে তারেক জিয়ার নাম নেওয়া নি’ষিদ্ধ হয়েছে? বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তারা বলছেন যে, কৌশলগত কারণেই তারা তারেক জিয়ার নাম উচ্চারণ করতে চাইছেন না। কারণ তারেক জিয়া বিএনপির ভেতরে এবং বাইরে একজন বি’তর্কিত ব্যক্তিত্ব।*

*একটা সময়ে তারেক জিয়া বিএনপির একজন অবিসংবাদিত নে’তা ছিলেন। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে তার একটা শক্ত অবস্থান ছিল। তারেক জিয়ার বিরু’দ্ধাচারণ করা মানেই তরুণদের আক্রো’শের মুখে পড়তে হতো সিনিয়র নে’তাদের। কিন্তু ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা এবং নির্বাচনের পর সংসদে যাওয়ার সি’দ্ধান্তের পর তারেক জিয়া এখন দলের মধ্যেই ভি’লেনে পরিণত হয়েছেন। তৃণমূলের কাছে তিনি একজন পলাতক অর্থ’লোভী, স্বার্থপর নে’তা ছাড়া আর কিছুই নন। তৃণমূল এখন তাকে পছন্দ করছে না। এখন জাতীয়ভাবে তারেকের ইমেজ হলো লু’টেরাজ, দুর্নী’তিবাজ এবং ন’ষ্ট রাজনীতির একটি দৃষ্টান্ত। এ কারণে জনগণের মধ্যে তারেকের ইমেজ নেতিবাচক। সাধারণ মানুষের মধ্যে তারেকের ভা’বমূর্তি খুবই খারাপ।*

*বিএনপির নে’তৃবৃন্দ এটি বুঝতে পেরেছেন এবং এটা বুঝতে পারার কারণেই সিটি নির্বাচনের প্রচারণা থেকে তাকে একেবারে দূরে রেখেছেন। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে বার বার উপস্থাপন করা হয়েছিল, বিএনপির থিং’ক ট্যাং’করা বলছেন এর ফলেই নেতিবাচক ফলাফল হয়েছিল।*
*তাই এই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তারা মনে করছেন যে তারেককে যত দূরে রাখা যায় এবং তারেক বিএনপির কেউ নয়- এই ভাবমূর্তি যত প্রতিষ্ঠা করা যায়, বিএনপির জন্য তত মঙ্গল হবে। ফলে তারা তারেক জিয়ার নাম উচ্চারণ করছে না বলে বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।*

*বিএনপির একাধিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারেকের প্রতি তারা খুবই বির’ক্ত। তারেক যে বিএনপির জন্য ক্ষতি’কর, এই বোধ তাদের মধ্যে তীব্র হয়েছে। আর এ কারণেই বিএনপির নেতৃবৃন্দ মনে করছেন যে সিটি নির্বাচনে যদি তারেকের নাম উচ্চারিত হয়, তবে শুধু যে বিএনপির বাইরের ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নেবেন তা নয়। বিএনপির ভোটাররাও নিরুৎসাহিত হবেন। এই কথা মাথায় রেখে কৌশলগত কারণেই তারেকের নাম উচ্চারিত হচ্ছে না।*
*তারেকের সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগও এসময় শিথিল হয়ে পড়েছে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল বলছেন, এটি বিএনপির একটি কৌশল। তারেকের নেতিবাচক ই’মেজ থেকে নিজেদেরকে দূরে রেখে তারা নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে নির্বাচনে তারা যদি বিজয়ী হয় তাহলে তারেকের প্রভাব দ্বারাই যে তারা নিয়ন্ত্রিত হবেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।*