প্রচ্ছদ অর্থ-বাণিজ্য *তবে কি ‘সোনার খনির’ মালিক আওয়ামী লীগ নেতা এনু-রুপন?*

*তবে কি ‘সোনার খনির’ মালিক আওয়ামী লীগ নেতা এনু-রুপন?*

105
*তবে কি 'সোনার খনির' মালিক আওয়ামী লীগ নেতা এনু-রুপন?*

*গত বছর ক্যা’সিনোবিরোধী অভি’যান শুরু হওয়ার পর আলোচনায় আসেন ক্যা’সিনো কারবারি দুই ভাই এনামুল হক এনু ও রূপন ভূঁইয়া। যদিও শুরু থেকেই তারা প’লাতক ছিলেন। অবশেষে তাদের গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপ’রাধ ত’দন্ত বিভাগ (সি’আইডি)। সোমবার সকালে রাজধানীতে পৃথক অভি’যানে তাদের গ্রেফতারের কথা জানিয়েছেন সিআ’ইডির গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপা’র ফারুক হোসেন।*

*এনামুল হক এনু পুরান ঢাকার গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। তার ভাই রুপন ভূঁইয়া একই কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। এই দুই ভাইয়ের আরেক পরিচয় রয়েছে। তারা কাউন্সি’লর এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ ওরফে ক্যা’সিনো সাঈদের ব্যবসায়িক পা’র্টনার। ঢাকা ওয়া’ন্ডারার্স ক্লা’বের ক্যা’সিনোর অংশীদার। থানা পর্যায়ের আওয়ামী লীগের এই দুই নে’তার টাকা রাখার জায়গা নেই। ক্যাসি’নোবিরোধী অভি’যানের সময় তাদের টাকায় ঠাসা একে একে পাঁচটি ভ’ল্ট খুঁজে পেয়েছিল র‌্যা’ব। আরও একটি ভ’ল্টে মিলেছিল স্বর্ণা’লঙ্কার। অত্যাধুনিক অ’স্ত্র আর গো’লাবারুদও উ’দ্ধার হয় তাদের বাসা থেকে। শুধু তা-ই নয়, র‌্যা’ব ঢাকাতেই এনামুলের ১৫টি বাড়ির সন্ধান পায়। এনামুলের আরও অন্তত ৩০টি বাড়ি রয়েছে বলে তাদের কাছে সংবাদ রয়েছে।*

*সে সময় অভিযান পরিচালনাকারী র‌্যা’ব কর্মকর্তারা টাকা, অ’স্ত্র আর স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধারের পর হ’তবাক হয়ে পড়েন। হ’তবাক স্থানীয়রাও। তাদের কেউ কেউ বলেন, তারা দুই ভাই তো দেখি ‘সোনার খনির’ মালিক! স্থানীয়রা বলেন, আগে এই দুই ভাই ক্যা’সিনোর খেলোয়াড় ছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তারা নিজেরাই মালিক বনে যান ক্যা’সিনোর। যেন আলাদিনের চেরাগ চলে আসে হাতে। মাত্র তিন বছরেই হু হু করে বাড়তে থাকে তাদের বিত্তবৈভব। ঢাকায় একে একে বাড়ি কিনতে থাকেন তারা। আজ সিঙ্গাপুর তো কাল ব্যাংকক। রাতারাতি ভাগ্যের পরিবর্তনের বিষয়টি এলাকার মানুষের চোখ এড়ায়নি।*

*সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছরের সেপ্টেম্বরে সূত্রাপুরের বানিয়ানগরে তাদের বাড়িতে র‌্যা’ব অভি’যান চালিয়ে তিনটি ভ’ল্টে খুঁজে পায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা এবং ৭২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার। ছয়তলা ওই বাড়িতে অভিযান শেষে নারিন্দার লালমোহন সাহা স্ট্রি’টে এনামুলের কর্মচারী আবুল কালাম কালু এবং শরৎগুপ্ত রোডে তার বন্ধু হারুনুর রশীদের বাসায় অ’ভিযান চালায় র‌্যা’ব। এ সময় আরও দুটি ভল্ট থেকে মোট ৪ কোটি টাকা জব্দ করা হয়। এসব টাকা ক্যা’সিনোর বলে র‌্যা’বের ধারণা। র‌্যা’ব কর্মকর্তারা বলেন, টাকা রাখার জায়গা না পেয়ে এ দুই ভাই সোনা কিনে রাখেন।*

*গত সেপটেম্বরে অভিযানের সময় র‌্যাব জানায়, রাজধানীতে এনামুলের অন্তত ১৫টি বাসার সন্ধান পেয়েছেন তারা। তবে ওয়ারী, সূত্রাপুর, গেণ্ডারিয়া, বংশাল, কোতোয়ালি এলাকায় এনামুল ও রুপনের আরও ৩০টি বাড়ি থাকার ত’থ্য পাওয়া গেছে। সপ্তাহখানেক আগে কা’উন্সিলর এ কে এম মমিনুল হক সাঈদের সঙ্গে সিঙ্গাপুর হয়ে থাইল্যান্ড গেছেন এনামুল। তিনি সাঈদের ক্যা’সিনো, চাঁ’দাবাজি ও বাড়ি দ’খল সি’ন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য। তিন-চার বছর আগে তারা হঠাৎ করে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি কেনা শুরু করেন। সূত্রাপুরের বাড়িটি দেড় বছর আগে হারুনুর রশীদ নামে একজনের কাছ থেকে তারা কিনেছেন।*

*সূত্রাপুরের এ বাড়িতে অভি’যান শেষে এনামুলের বাকি দুটি ভ’ল্টের সন্ধানে আরও দুটি বাসায় অভিযান চালায় র‌্যা’ব। এনামুলের কর্মচারী আবুল কালাম ওরফে কালুর নারিন্দার ৮৩/১ লালমোহন দাস লেনের চতুর্থ তলার বাসা থেকে একটি ভ’ল্ট জ’ব্দ করা হয়। ওই ভল্ট খুলে পাওয়া যায় আরও দুই কোটি টাকা। ওই বাসার আলমারিতে রাখা একটি ব্যাগের ভিতর থেকে একটি পিস্তল ও ১৮ রাউন্ড গুলিও জ’ব্দ করা হয়। এরপর এনামুলের বন্ধু হারুনুর রশিদের ২২/১ শরৎগুপ্ত রোডের তিনতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে জ’ব্দ করা হয় আরেকটি ভ’ল্ট। এখানে পাওয়া যায় আরও ২ কোটি টাকা।*

*এনামুলের কর্মচারী কালামের স্ত্রী শিলা রহমান জানান, তার স্বামী আওয়ামী লীগ নেতা এনামুলের বিভিন্ন কন’স্ট্রাকশন সা’ইট তদারক করেন। টাকার ভো’ল্ট সম্পর্কে তিনি দা’বি করেন, এনামুলের ব’ডিগার্ড পাভেল এসে একটি ব্যাগ এবং ভ’ল্টটি রেখে যান। অন্যদিকে, এনামুলের বন্ধু হারুনের স্ত্রী লিপি দা’বি করেন, দুজন লোক এসে তাদের বাসায় ওই ভ’ল্ট রেখে যান। ভিতরে কী ছিল তা তারা জানতেন না।*

*স্থানীয়রা জানান, ওয়ারী, সূত্রাপুর, গেণ্ডারিয়া, বংশাল, কোতোয়ালি থানা এলাকায় এনামুল ও রুপনের অসংখ্য বাড়ি থাকলেও তারা মূলত কোন বাড়িতে থাকতেন তা কেউ জানে না। তারা যেসব বাড়ির মালিকানা দা’বি করেন, সেগুলো কেনার নাম করে অল্প কিছু টাকায় বাড়ির মালিকের কাছ থেকে বায়না করতেন। এরপর অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বিনা টাকায় পুরো বাড়ি দ’খল করে নিতেন। যেসব বাড়ি কাগজপত্রে ঝামেলাপূর্ণ মনে করতেন, সেসব বাড়ি তারা টার্গেট করতেন।*