প্রচ্ছদ রাজনীতি *তাবিথ-ইশরাককে হা’রাতে ড. কামালের নতুন মি’শন শুরু!*

*তাবিথ-ইশরাককে হা’রাতে ড. কামালের নতুন মি’শন শুরু!*

145
*তাবিথ-ইশরাককে হারাতে ড. কামালের নতুন মিশন শুরু!*

*ড. কামাল হোসেন নড়েচড়ে বসলেই বিএনপির একটি অংশ আ’তংকবোধ করে। প্রায় সর্বক্ষণ নিরব এবং নিস্ক্রিয় থাকা ড. কামাল হোসেন যখনই জেগে ওঠেন তখনই বিএনপির কেউ কেউ মনে করেন যে এখনই বোধহয় বিএনপির কোনো ক্ষতি হবে। বিএনপির একটি বড় অংশের মধ্যে এরকম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে ৩০ ডিসে’ম্বরের নির্বাচনের পর।*
*নিদ্রায় থাকা ড. কামাল হোসেন গত বছরের অক্টোবরে জেগে উঠেছিলেন। জেগে উঠেই তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে বিএনপি সামিল হয়ে মনে করেছিল যে ড. কামাল হোসেনই তাদের সবকিছু করে দেবে।*

*আর এ কারণেই ড. কামাল হোসেনকে ব্লা’ঙ্ক চে’ক দিয়েছিল দলের হাইক’মান্ড। ড. কামাল এই ব্লা’ঙ্ক চে’ক নিয়ে ড. কামাল বিএনপির কোনো দাবি আদায় ছাড়াই গণভবনে গিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপে। সেই সংলাপে বিএনপি কিছুই পায়নি। তারপরেও বিএনপি নির্বাচনে গেছে। এই নির্বাচনে ড. কামাল হোসেনের ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে অংশগ্রহণ করে বিএনপি। এই নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিএনপি বাদে অন্য দলগুলোর তেমন জনপ্রিয়তা না থাকলেও অনেকগুলো আসন ছাড় দেয় এবং ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হয়। এই নির্বাচনের পর থেকেই ড. কামাল হোসেনকে সন্দেহের চোখে দেখে বিএনপির একটি অংশ।*

*বিএনপির একটি অংশ মনে করে যে, ড. কামাল হোসেন বিএনপিকে নির্বাচনে নিয়ে ভরাডুবি করানোর এজেন্ডা নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন। আর সে কারণেই তিনি বিএনপিকে সংলাপে নিয়ে গেছেন। এই সংলাপের পর বিএনপিকে নির্বাচনেও নিয়ে গেছেন।*
*৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে বিএনপির অবস্থান ছিল যে তারা এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে তো যাবে না এবং সংসদে যাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু সেসময় আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন ড. কামাল হোসেন। তিনি বিএনপির নেতাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। তার উদ্যোগেই প্রথম সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, পরে মোবারক হোসেন খান শপথ গ্রহণ করেন। এরা দুজনই কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামের নেতা। এরপর ড. কামাল হোসেন বিএনপির বাকি ৫ জনকেও সংসদে নিতে বাধ্য করেন। এ নিয়ে বিএনপির মধ্যে এখনও তীব্র মতবিরোধ আছে। এরপর আবার ড. কামাল হোসেন শীতনিদ্রায় চলে যান।*

*সাম্প্রতিক সময়ে সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতেই সরব হয়েছেন ড. কামাল হোসেন। গতকাল মঙ্গলবার তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেন। ‘কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হয়’-এই ধারণা থেকেই কি ড. কামাল হোসেন হঠাৎ করে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইলেন? খালেদা জিয়ার আইনজীবী হতেও তিনি রাজি আছেন এমন বাণী দিলেন।*
*(উল্লেখ্য যে, ড. কামাল হোসেন কখনই ক্রিমিনাল ল’ইয়ার ছিলেন না। তিনি সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং পেট্রোলিয়াম বিশেষজ্ঞ। ক্রিমিনাল ল’ইয়ার হিসেবে তার মামলার রেকর্ড হাইকোর্টে নেই বললেই চলে।)*

*ড. কামাল হোসেনের এই আবেগঝরা বক্তৃতার পরেই ঘটলো সেই ঘটনা। বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল এবং ইশরাক মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে দোয়া নিতে গেলেন। ড. কামাল হোসেন তাদেরকে দোয়া দিলেন এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দিল। এখন বিএনপির এই দুই প্রার্থী নির্বাচন করবেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানার থেকে। এতে বিএনপির অধিকাংশ নেতাদের ভিমরি খাওয়ার উপক্রম হয়েছে। কারণ তারা মনে করছেন, নিশ্চয়ই ড. কামাল হোসেনের কোনো মতলব আছে। বিএনপিকে হারানোর জন্যই হয়তো তিনি আবার মাঠে নেমেছেন।*

*ড. কামাল হোসেন কার এজেন্ট তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বিএনপির একাধিক নেতা। এর মধ্যে সরব বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি আর দেরি করেননি, কামাল হোসেনের সঙ্গে বিএনপির মেয়র প্রার্থীদের বৈঠকের পরপরই তিনি তার কর্মীদেরকে বলেছেন, নির্বাচনের সর্বনাশ হয়ে গেলো। এই নির্বাচন এখন আর আমাদের হাতে নেই। কারণ ড. কামাল হোসেনের ভূমিকা সব সময়ই রহস্যময়। তিনি যখন যে দল বা জোটে থাকতেন সেই দল বা জোটের বিরুদ্ধে কাজ করেন। এটাই হলো রেওয়াজ।*
*আরও অতীতে ফিরে গেলে দেখা যায়, ১৯৮৬ সালে ড. কামাল হোসেন আওয়ামী লীগকে জোর করে নির্বাচনে নিয়ে যেতে বাধ্য করেছিলেন। এরপর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবির পেছনেও ড. কামালের হাত ছিল বলে অনেকে মনে করেন।*