প্রচ্ছদ রাজনীতি *ঢাকা সি’টি নির্বাচনে আ’লীগের জন্য যা মা’থাব্যাথার কারণ*

*ঢাকা সি’টি নির্বাচনে আ’লীগের জন্য যা মা’থাব্যাথার কারণ*

112
*ঢাকা সিটি নির্বাচনে আ'লীগের জন্য যা মাথাব্যাথার কারণ*

*আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু না হলেও ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ সি’টি ক’র্পোরেশনের নির্বাচনে প্রচারণায় নেমে পড়েছে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল। আওয়ামী লীগের মেয়র দুই প্রার্থী নিজেদের সাংগঠনিক জনসংযোগ এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আজ যেমন সময় কাটিয়েছেন তেমনি বিএনপির দুই প্রার্থী ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামালের সঙ্গে সাক্ষাত করে নিজেদের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থ হিসেবে ঘো’ষণা করেছেন। সি’টি নির্বাচন যদিও স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন। স্থানীয় ইস্যুগুলোই এই নির্বাচনে প্রতিপাদ্য বিষয় হওয়া উচিত।*

*কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে যে, সবসময় সিটি নির্বাচনে জাতীয় বিষয় একটা ফ্যাক্টর হয়ে যায়। নির্বাচনকালীন সময় পারিপাশ্বিক ঘটনা নির্বাচনের ওপর প্রভাব ফেলে। এবারের সিটি নির্বাচনে ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণে কয়েকটি বিষয় আওয়ামী লীগকে খানিকটা সমস্যায় ফেলতে পারে। এই বিষয়গুলোর কারণে আওয়ামী লীগ নির্বাচনী দৌড়ে পিছিয়ে পড়তে পারে। বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে;*

*মন্ত্রী-এ’মপিরা প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না: অন্যান্যবারের মতো এবারও মন্ত্রী এম’পিরা সি’টি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। যদিও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, মন্ত্রী এম’পিদের নির্বাচনে প্রচারণায় সুযোগ দেওয়ার জন্য। কিন্তু নির্বাচন কমি’শন আজ এটা নাকচ করে দিয়েছেন এবং বলেছেন, মন্ত্রী-এ’মপিরা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবে না। ঢাকায় দুই সি’টি করপো’রশনের সবগুলো সংসদীয় আসনেই আওয়ামী লীগের নির্বাচিত এ’মপি রয়েছেন। তারা যদি প্রচারণায় অংশ নিতো, তাহলে এলাকাভিত্তিক প্রচারণা জমজমাট হতো এবং আওয়ামী লীগের বিজয় অনেক সহজসাধ্য হতো।*

*কিন্তু এ’মপিরা প্রচারণায় অংশগ্রহণের সুযোগ না পাওয়ার ফলে এলাকাগুলোতে বাড়তি নজরদারি রাখতে হবে। তাছাড়া আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতারা এই নির্বাচনে সরাসরি অংশ নিতে পারবেন না। যেমন আওয়ামী লীগ ঢাকা উত্তরে তোফায়েল আহমেদ এবং দক্ষিণে আমির হোসেন আমুকে দায়িত্ব দিয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও সরাসরি জনগণের সঙ্গে জনসংযোগ করতে পারবেন না এই বিপুল জনপ্রিয় হেভিওয়েট নেতারা। অন্যদিকে এদিক থেকে বিএনপি শুরু থেকেই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। কারণ বিএনপির হে’ভিওয়েট জাতীয় নেতৃবৃন্দের কেউই এমপি নন। ব্যা’রিস্টার মওদুদ আহমেদ, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো বড় বড় নেতারা নির্বিঘ্নে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। কারণ তারা মন্ত্রী-এমপি কিছুই নন।*

*দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি: প্রত্যেকটা নির্বাচনে জাতীয় এবং সাম্প্রতিক কিছু বিষয় নির্বাচনের উপর প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক সময়ে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি জনজীবনে নাভিশ্বাস তুলেছে। বিশেষ করে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় এই উর্ধ্বগতি নিয়ে জনঅস্বস্তি এবং জনবিরক্তি প্রকাশ্য রূপ ধারণ করেছে। পেঁয়াজের দাম কমার পর পেঁয়াজের দাম আবার বেড়েছে। এই পেঁয়াজের ঝাঁজ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপক্ষে যেতে পারে বলে অনেক মনে করছে।*
*নগরীর যানজট: সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা সিটি কর্পোরেশেন অনেকগুলো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে। বিশেষ করে মেট্রো রেলের কর্মকাণ্ডের ফলে ঢাকা মহানগরীতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। আর এই যানজটের বিরক্তি ভোটের বাক্সে আওয়ামী লীগের প্রতি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনেকে মনে করছে।*

*অনিরাপদ শহর: সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ধ’র্ষণের ঘটনা শুধু রাজধানীতে নয় সারা বাংলাদেশের তোলপাড় তুলেছে। যদিও স্বল্প সময়ের মধ্যেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ধর্ষ’ককে গ্রেপ্তার করছে। তবে এই ঘট’নার মধ্যে দিয়ে এই শহরকে অনিরাপদ শহর হিসেবে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। আর এই অনিরপাদ শহর আওয়ামী লীগের জন্য নেতিবাচক প্রভাব রাখতে পারে নির্বাচনে।*

*কাউন্সিলরে বিদ্রো’হী প্রার্থীর ছড়াছড়ি: এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর পদে অনেক বিদ্রোহী প্রার্থী। দেখা গেছে প্রায় প্রতিটি আসনেই সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের কোনো না কোনো প্রার্থী দাঁড়িয়ে গেছেন। আওয়ামী লীগের এই বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচেন আওয়ামী লীগের ক্ষতির কারণ হতে পারেন। কারণ তখন তারা মেয়র পদের প্রার্থীর জন্য ভোট চাইবেন না। আর কাউন্সিলরদের বিভক্তি স্থানীয় পর্যায়ের আওয়ামী লীগকে বিভক্ত করে দেবে। এতে ভোটে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।*
*এই নেতিবাচক বিষয়গুলো কাটিয়েই উঠেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে হবে।*