প্রচ্ছদ স্পটলাইট *সফল ও ব্যর্থ যারা সরকারের ১ বছরে*

*সফল ও ব্যর্থ যারা সরকারের ১ বছরে*

286
*সফল ও ব্যর্থ যারা সরকারের ১ বছরে*

*টানা তৃতীয় মেয়াদে দেশ পরিচালনায় আসা আওয়ামী লীগ সরকারের ১ বছর পূর্ণ হলো আজ। গত বছরের ৭ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করেছিল। সেই মন্ত্রিসভায় ছোট খাটো কয়েকটি পরিবর্তন ছাড়া পুরো মন্ত্রিসভাই ১ বছর পার করলো। তৃতীয় মেয়াদে দেশ পরিচালনায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার শুরু থেকেই নানা রকম অস্বস্তি এবং সমস্যার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, নতুন সড়ক পরিবহণ আইন, সামাজিক অস্থিরতাসহ নানা সমস্যায় জনমনে নানা উদ্বেগ উৎকন্ঠা ক্রমশ বাড়ছে। কিন্তু এত অস্থিরতার মধ্যেও বেশ কয়েকজন মন্ত্রী স্বমহিমায় উদ্ভাসিত। তাদের সাফল্যের কারণে এখনো সরকারের ওপর জন আস্থা রয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাফল্যের দিক থেকে পাঁচ জন মন্ত্রী সবচেয়ে এগিয়ে। সরকারের ১ বছর পূর্তিতে সফল পাঁচ মন্ত্রীকে নিয়েই এই প্রতিবেদন-*

*প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা: সাফল্যের কেন্দ্রে যিনি রয়েছেন তিনি হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তর্ক-বিতর্ক থাকলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখনো জন আস্থার প্রতীক। সবাই তাকিয়ে থাকেন তার দিকে। তিনি যে কোন সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে সাহসী এবং বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। টানা তিন মেয়াদে দেশ পরিচালনায় থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকেরই আচার-আচরণ কিংবা কর্মস্পৃহায় কিছুটা শিথিলতা এসেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদিক থেকে একেবারেই ব্যতিক্রম। ১১ বছর আগে দেশ পরিচালনায় এসে তিনি যতটা কর্মোদ্দমী এবং দৃঢ়চেতা ছিলেন, এখনো তিনি ঠিক তেমনটাই আছেন। বাংলাদেশে সবচেয়ে সফল মন্ত্রী এবং রাজনীতিবিদ হলেন শেখ হাসিনা। তিনি টানা তৃতীয় ও চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী থেকে জনগনের দুঃখ এবং সমস্যা সমাধানে সবচেয়ে সফল ব্যক্তি।*

*শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি: ডা. দীপু মনি শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেই যে বড় কাজটি করেছেন সেটি হলো প্রশ্নপত্র ফাঁসের কেলেঙ্কারি থেকে জাতিকে মুক্তি দিয়েছেন। এর পাশাপাশি শিক্ষা অঙ্গনে যে সমস্যাগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠছিল সেগুলোও কথা কম বলে ঠান্ডা মাথায় সমধান করতে উদ্যোগী হয়েছেন তিনি। অনেক মন্ত্রীকেই আমরা দেখেছি যে, তারা কাজ করার তুলনায় কথা বলাকেই বেশি প্রাধান্য দেন। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সেক্ষেত্রে উজ্জ্বল ব্যাতিক্রম।*

*সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের: একইসাথে পদ্মাসেতু-মেট্রোরেলসহ সড়ক অবকাঠামোয় বড় বড় কাজগুলো হচ্ছে, যেখানে কোন দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হয়নি। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী হিসেবে এসব কাজ তদারকির ক্ষেত্রে যথেষ্ঠ ন্যায়নিষ্ঠতার পরিচয় দিচ্ছেন ওবায়দুল কাদের। এ জন্য তিনি বর্তমান সরকারের সেরা পাঁচ মন্ত্রীদের মধ্যে একজন।*

*নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী: নৌপরিবহনের ক্ষেত্রে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার এসেছে খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর হাত ধরে। বিশেষ করে নৌপরিবহনের চারপাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ নৌপথের সংস্কারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। পাশাপাশি, কোনো বিতর্কে না জড়িয়ে ক্লিন ইমেজ ধরে রেখেই কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। এজন্য বর্তমান সরকারের সেরা পাঁচ মন্ত্রীদের তালিকায় তিনিও থাকছেন।*
*ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী: ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী সফল মন্ত্রী হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ভূমি ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এজন্য তাকে সফল মন্ত্রী হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়।*

*সরকারের ১ বছর: ব্যর্থ ৫ মন্ত্রী*
*একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিন-চতুর্থাংশ আসনে বিজয়ী হওয়ার পর ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। সে হিসেবে বর্তমান সরকারের ১ বছর পূর্ণ হলো আজ। গত ১০ বছরের ধারাবাহিকতায় এগিয়ে চলছে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি। তবে সাফল্য সত্ত্বেও চলতি মেয়াদে সরকারকে বারবার বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর ব্যর্থতার কারণেই সরকারের সফলতাগুলো চাপা পড়ে যাচ্ছে। সরকারের এক বছর পূর্তিতে পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে এমন পাঁচ ব্যর্থ মন্ত্রীর নাম।*

*বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি: ব্যর্থ মন্ত্রীদের তালিকায় যারা রয়েছেন তাদের মধ্যে শীর্ষে থাকছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি এবং পেঁয়াজের দামের বিশ্বরেকর্ড টিপু মুনশিকে ব্যর্থতার তালিকায় শীর্ষে রেখেছে। টিপু মুনশি নিজেও তার ব্যর্থতার কথা অস্বীকার করেননি। তিনি বলেছেন, পদত্যাগ ১ সেকেন্ডের বিষয়। তিনি পদত্যাগ করুন বা না করুন তবে মন্ত্রী হিসেবে যে তিনি ব্যর্থ সে ব্যাপারে আওয়ামী লীগের ভেতরে বাইরে কারোরই কোনো সন্দেহ নেই।*

*খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার: খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বর্তমান সরকারের অন্যতম ব্যর্থ মন্ত্রী। খাদ্য পরিস্থিতি, বাজার পরিস্থিতি নিয়ে পুরো দেশ যখন উদ্বিগ্ন, তখন খাদ্যমন্ত্রীকে নির্লিপ্ত থাকতেই দেখা গেছে। খাদ্য মজুদ এবং সরবারহের বিষয় নিয়েও তার মন্ত্রণালয়ের কোন রকম দায়িত্বপূর্ণ আচরণ জনগণ দেখেনি। তার মন্ত্রণালয়ের এই ব্যর্থতার দায়ভার পুরো সরকারকেই বইতে হচ্ছে।*

*অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল: অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালও একজন ব্যর্থ মন্ত্রী। তিনি দায়িত্ব নিয়ে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে ঋণখেলাপির সংখ্যা আর বাড়বে না। তবে ঋণখেলাপির সংখ্যা বেড়েই চলেছে এবং মন্ত্রীও নানা ধরণের বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছেন। বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। শেয়ার বাজারেও একই অবস্থা। সর্বশেষ বাজেটে শেয়ার বাজারে গতি ফেরাতে অর্থমন্ত্রী বিভিন্ন ঘোষণা দিলেও পুঁজিবাজারে এর কোনো প্রভাব পড়তে দেখা যাচ্ছে না। যে খাতগুলোতে অর্থমন্ত্রীর অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা ছিল, সেই খাতগুলোতেই তিনি চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন।*

*পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন: বাংলাদেশ এখন বায়ুদূষণে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ। বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে নানা রকম কথা বার্তা হলেও পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন একবারেই নির্বিকার। মন্ত্রী হিসেবে তাকে এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে বা কোনো উদ্যেগ গ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে না। এজন্য ব্যর্থ মন্ত্রীদের তালিকায় তার নামটা থাকছেই।*

*রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন: রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন ব্যর্থ মন্ত্রীদের তালিকায় আরেকজন। একের পর এক রেল দুর্ঘটনা, রেল নিয়ে নানান নৈরাজ্য এবং নজিরবিহীন সময় বিভ্রাট রেলকে এক নতুন সঙ্কটের মুখে ফেলেছে। ঢাক ঢোল পিটিয়ে রেল সপ্তাহ পালন করেও রেলের নৈরাজ্যের কোনো পরিবর্তন আনা যায়নি। এক্ষেত্রে রেলমন্ত্রী ব্যর্থ মন্ত্রী হিসেবেই পরিচিত পেয়েছেন।*
*এই ৫ মন্ত্রীর নানা ব্যর্থতার কারণে সরকার গত দুই মেয়াদে যেরকম সাফল্য অর্জন করেছিল এবং উন্নয়নের যে গতির সূচনা হয়েছিল, তৃতীয় মেয়াদে এসে তা অনেকটাই ম্লান হয়ে যাচ্ছে। পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকেই এই মন্ত্রীদের ব্যর্থতার ভার বহন করতে হচ্ছে।*