প্রচ্ছদ অর্থ-বাণিজ্য *কর্ণফুলী উপ’জেলা চেয়া’রম্যানের বাণিজ্যের ফাঁ’দে ৩০ লাখ টাকার ধূ’ম্রজাল!*

*কর্ণফুলী উপ’জেলা চেয়া’রম্যানের বাণিজ্যের ফাঁ’দে ৩০ লাখ টাকার ধূ’ম্রজাল!*

371
*কর্ণফুলী উপজেলা চেয়ারম্যানের বাণিজ্যের ফাঁদে ৩০ লাখ টাকার ধূম্রজাল!*

*মামুন খাঁন, নিজস্ব প্রতিবেদক: টে’ন্ডারবাজি আর কমি’শন বাণিজ্যের ফাঁ’দে চট্টগ্রাম কর্ণফুলী উপজেলার ঠিকাদারেরা। ঠিকাদারদের বেশির ভাগই আবার ক্ষমতাসীন দলের অনুসারী হলেও উপজেলা চেয়া’রম্যানের রোষান’ল থেকে কেউ রে’হাই পাচ্ছেন না। সম্প্রতি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ পাওয়া ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৬% কমি’শন হিসেবে তোলা ৩০ লাখ টাকা নিয়ে ভাগবাটোয়া ও ধূম্র’জাল সৃষ্টি হয়েছে!*
*গত কয়েকদিন আগে এ নিয়ে দক্ষিণ জেলার এক প্রভাবশালী নেতার সাথে উপজেলা প্রকৌ’শল অফিসের কর্মচারী নাছির ও হিসাব শাখার মো. রফিকের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ধাক্কা’ধাক্কি ও বাড়া’বাড়ি হয়েছে বলে সত্যতা জানিয়েছেন উপজেলায় কর্মরত সরকারী কর্মচারীরা।*

*পুরো উপজেলায় বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলেও প্রথমেই মুখ খুলেছেন উপজেলা থেকে সদ্য বদলি হওয়া বর্তমানে নোয়াখালী উপজেলা প্রকৌশ’ল অফিসের কর্মচারী আব্দুর রহমান। তিনি জানান, কেন কি কারণে ৬% এর কথা বলে ৩০ লাখ টাকা তোলা হয়েছে জানি না। তবে এমন পরিস্থিতিতে ভোক্তভোগী ঠিকাদা’রদের কাজের উন্নয়ন ব্যাহত ও বহু বড় প্রকল্পের নির্মাণকাজ থমকে দাঁড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আবার অনেক ঠিকাদার মাঠে কাজ পেলে পালিয়ে গেছনে। যা পুনরায় রি-টেন্ডা’র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।*

*কয়েকজন ঠিকাদার ও নাম প্রকাশ না করা শর্তে উপজেলা প্রকৌ’শল অফি’সের কর্মচারীরা জানান, উপজেলার পরিষদের সম্মেলন কক্ষে প্রকল্প টেন্ডা’রে যাওয়ার আগে সকল ঠিকাদা’রদের উদ্দেশ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী বলেন, মন্ত্রী বিষয়টা অবগত আমরা সকল প্রকল্পে ৬% করে আদায় করবো। পরে ওই সময়ে বলা কথা গুলোর ভিডিও রেকর্ড দৃষ্টি আর্কষণ করে তা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ভূমিন্ত্রীর কাছে হোয়াট’সআপে পাঠিয়ে ছিলেন বলে ঠিকা’দাররা তথ্য দিয়েছেন।*

*অপরদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভা’বশালী নে’তার সরাসরি হস্ত’ক্ষেপে সাধারণ ঠিকাদা’রেরা কাজের কোন দরপত্রে অংশ গ্রহণ করতে পারেন না বলে অভিযো’গও রয়েছে। ফলে কোটি কোটি টাকার কাজের বিপরীতে তাদের নি’য়ন্ত্রিত কয়েকটি ঠিকা’দারী প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিয়ে একতরফাভাবে কাজ ও কমিশন হাতিয়ে নেওয়ার অভি’যোগ শোনা যায়।*

*সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে টেন্ডা’রবাজি মারা’ত্মক আকার ধারণ করায় জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্ণফুলী উপজেলায় ই-টেন্ডা’রের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু এতে ও প্রভাবশালীরা নি’য়ন্ত্রণে নিতে মরিয়া। অপরদিকে প্রশাসন কিস্তু ইচ্ছা করলেই তা প্রতি’হত করতে পারছে না। কারণ যারা টেন্ডা’রবাজির শি’কার হচ্ছেন তারা কেউ লিখিত ভাবে কোন অভি’যোগ দিচ্ছেন না। লিখিত কোন অভি’যোগ না পেলে কিভাবে দোষীদের বিরু’দ্ধে ব্যবস্থা নেবে? তাছাড়া, যারা টেন্ডার’বাজি করছে তারাও খুব কৌশ’লী। কোন প্রকারের হাঙ্গামা/ মারামারি করছে না। তারা নানাভাবে সরকার দলীয় বড় হর্তা’কর্তাদের নাম ভাঙিয়ে ভয়’ভীতি দেখিয়ে কাজ হা’সিল করছে।*

*জানা যায়, কয়েক মাস আগে টে’ন্ডার প্রক্রিয়া শেষে কাজ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হতে ৬% কম’শিনের কথা বলে ৩০ লক্ষ টাকা ভাগিয়ে নিয়েছে কর্ণফুলী উপ’জেলা প’রিষদ ও প্রকৌ’শল অফি’স। এতে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছে প্রকৌ’শলী জয়শ্রী দে ও চেয়ারম্যান। কিন্তু উত্তোলন করা এই মোটা অংকের অর্থ গচ্ছিত রাখা হয়েছে উপজেলা প্রকৌশল অফি’সের হিসাব শাখার মো. রফিকের কাছে। এমনটি তথ্য জানা গেলেও বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।*

*যা ভাগাভাগি করতে গিয়ে ভাগবাটোয়ারা ও বনিবনা না হওয়ায় ধা’ক্কাধাক্কি ও বিশৃঙ্খ’লার সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকের মাঝে ৬% নিয়ে চাপা ক্ষো’ভ বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতনমহল প্রশ্ন ছুড়েন, এত ক’মিশন আর এত ভাগাভাগির পরও ঠিকাদা’রেরা কিভাবে লাভের মুখ দেখেন? এ নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।*
*অনুসন্ধা’নে জানা গেছে, নন-টেন্ডার আইটেমে উচ্চমূল্য এবং ভেরি’য়েশন ও টে’ন্ডার হওয়া সড়কে পুর্বে থেকে এইচবিবি থাকা ও নানা সুক্ষ কারণে ঠি’কাদাররা পুষিয়ে নেন। এজন্য টেন্ডারের সঙ্গে জড়িত প্রকৌ’শলী ও কর্মকর্তাদের ব্যবহার করেন তাঁরা। প্রকৌ’শল অফিস ও ঠিকাদারদের মধ্যে ভাগাভাগি হয় কমি’শনে।*

*জানা যায়, শুরুতে প্রাক্ক’লিত মূল্যের ১০% নে’গোসিয়েশন মানি হিসেবে দিতে হয়। এরপর দরপ’ত্র প্রক্রিয়ার সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রকৌ’শলীদের কাছে ৬% তুলে দিতে হয়। এ টাকা তোলে প্রকৌশল অফিসের কর্ম’চারী রফিক। এ অর্থ বিভিন্নভাবে পরে ভাগাভাগি হয়। নেগো’সিয়েশন মানি ও কর্মক’র্তাদের টাকা দেয়ার পরই ও’য়ার্ক অর্ডা’রের মুখ দেখতে পান ঠি’কাদাররা।*
*নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকা’দার বলেন, নেগোসিয়েশনের অর্থ দেয়ার পরই যারা টে’ন্ডার কন্ট্রো’ল করেন ওই সব মাসলম্যানদের ৬% বুঝিয়ে দিতে হয়। নেগো’সিয়েশন মানির একটি বড় অংশ মাস’লম্যান ও অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা পেয়ে থাকেন।*

*সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কর্ণফুলীতে বিভিন্ন কৌ’শলে ৬% কমি’শনের লোভে সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছেন মূলত উপজেলা পর্যায়ের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা। যারা প্রকৌশল অফিসের জয়শ্রী দে’র প্রে’সক্রিপশন অনুযায়ী কাজ করেন। তা করতে গিয়ে অনেকে আবার বিপাকে পড়েছেন। কেউ বা মাসের পর মাস কাজ ফেলে রেখেছেন। এভাবে সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও নেতারা। ৩০ লাখ বাড়তি এই টাকার বড় অংশ ঠিকাদা’রদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে দু’র্নীতিবাজরা ভাগবা’টোয়ারা করে নিচ্ছেন।*

*এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কর্ণফুলী উপ’জেলা প্রকৌশ’লী জয়শ্রী দে বলেন, ৩০ লাখ টাকা কে বা কারা তুলেছে আমি তা আমি জানি না। তবে এ বিষয়ে কোন নেতার সাথে আমাদের অ’ফিসে বাড়াবাড়ি হওয়ার কোন কারণ নেই। যেহেতু আমাদের ডি’ল হয় ঠিকা’দারদের সাথে, নেতাদের সাথে নয়।’ অন্যদিকে রফিকের কাছে সমূদয় অর্থ রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি সর্বৈব অস্বীকার করেন।’*

*এ বিষয়ে কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অলহা’জ্ব ফারুক চৌধুরীর সাথে মুঠো’ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকায় ব্যস্ত রয়েছেন পরে ওই বিষয়ে কথা বলবেন জানালেও পরে একাধিকবার তার ব্যক্তিগত মুঠো’ফোন না’ম্বারে ক’ল দিলেও ফো’ন রিসি’ভ করেন নি।*
*তবে স্থানীয় শিক্ষিত যুবক হাবিব হাসান জানায়, ‘সরকারি লাখ লাখ টাকার এমন দুর্নী’তির ঘ’টনা ঘ’টে থাকলে দুদ’কের নজর দেওয়া উচিত।’*